img

স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় পর শাহ আলী থানার ওসি প্রত্যাহার

প্রকাশিত :  ০৭:৪৬, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:০৬, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় পর শাহ আলী থানার ওসি প্রত্যাহার

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরের বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’-এ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

গতকাল শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) একই সঙ্গে লুট হওয়া মালামালের মধ্যে দুই ট্রাক মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় শাহ আলী থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন গ্রেপ্তার ও মালামাল উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, ডিএমপি কমিশনারের কার্যালয় থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে শাহ আলী থানার ওসি (নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রশাসনিক কারণে তার বর্তমান কর্মস্থল থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপির সদরদপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে (ক্লোজড) সংযুক্ত করা হয়। আদেশে অবিলম্বে তা কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

একদিন আগেই ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ বলেন, রাড্ডার ঘটনায় পুলিশের কোনো সদস্যের অবহেলা বা গাফিলতির প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অপরাধী যে দল বা মতেরই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’ ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা প্রতিরোধ করা পুলিশের দায়িত্ব ছিল বলেও উল্লেখ করেন কমিশনার। শনিবার বিকেলে ক্ষতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি ওই কথা জানান।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে মুখোশধারী ২০০-২৫০ জন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা চালায়। হামলাকারীরা সেখানকার নিরাপত্তাকর্মীদের হাত-পা বেঁধে ও জিম্মি করে প্রতিষ্ঠানটির একটি পাকা ভবন এবং তিনটি সেমিপাকা ভবন পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে ধ্বংসস্তূপের ওপর ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।

সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতারের অভিযোগ, হামলাকারীরা সরকারি ইপিআই টিকা, টিকাদানের গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্টার, নগদ প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা এবং ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন নিয়ে যায়। এছাড়া জেনারেটর, ফ্রিজ, এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, ফাইল কেবিনেট, ল্যাবরেটরি সামগ্রী, কম্পিউটার ও ল্যাপটপসহ বিপুল আসবাবপত্র লুট করা হয়। শুধু মালামাল ও যন্ত্রপাতির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ অন্তত দেড় কোটি টাকা।

জাতীয় এর আরও খবর

img

সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলায় প্রজন্ম লীগ নেতা গ্রেপ্তার

প্রকাশিত :  ১৮:৪১, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর ইসিবি চত্বর এলাকায় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের এক নেতাসহ আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। এ নিয়ে এ ঘটনায় গ্রেপ্তারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচজনে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট ও বেইলি রোড এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তাররা হলেন যথাক্রমে শাহ আলম অনিক ও মো. শাহরিয়ার। এর আগে মো. মামুন, আসলাম, মুন্নাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

ডিবিপ্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, শাহ আলম অনিক মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক। সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে পুলিশ।

এর আগে রোববার দুপুরের পর রাজধানীর বেইলি রোড এলাকা থেকে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত শাহরিয়ারকে গ্রেপ্তার করে ডিবি। তিনি নিউ গিনি প্রপার্টিজের পক্ষ থেকে করা মামলার এক নম্বর আসামি। এছাড়া ভাসানটেক বস্তির মো. মামুন, মজুমদার মোড় এলাকার আসলাম ও মুন্নাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শাহ আলম অনিক একসময় ছাত্রলীগ ও পরে যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে তিনি মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্ম লীগের যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে পরিচয় দিতেন। ৫ আগস্টের পর তিনি ‘কিলার ইব্রাহিমের’ দলে যোগ দেন এবং সেখানে ক্যাশিয়ার হিসেবে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর ইসিবি চত্বরের নিউ গিনি প্রপার্টিজ এলাকায় সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। সালমান মুক্তাদিরের অভিযোগ, দুই ট্রাকে করে লোকজন এসে স্টুডিওতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে। পরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে হামলা ও ভাঙচুরের ভিডিও প্রকাশ করেন তিনি। এ সময় তিনি হামলার পেছনে চাঁদাবাজির অভিযোগও তোলেন।

পুলিশ জানায়, নিউ গিনি প্রপার্টিজের কাছ থেকে একটি ফ্লোর ভাড়া নিয়ে স্টুডিওটি তৈরি করেছিলেন সালমান মুক্তাদির। হামলার সময় স্টুডিওটির বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করা হয়।

ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, স্টুডিওর জমির মালিক নিউ গিনি প্রপার্টিজ লিমিটেড এবং এলাকার অন্য জমির মালিকদের মধ্যে বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় করা মামলায় পুলিশ হামলার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। গ্রেপ্তার পাঁচজনের বিরুদ্ধে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটে সম্পৃক্ততার অভিযোগ তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।


জাতীয় এর আরও খবর