img

গাজায় যা করেছি, পশ্চিম তীরেও তাই করতে হবে: ইসরাইলি মন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৬:৫০, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাজায় যা করেছি, পশ্চিম তীরেও তাই করতে হবে: ইসরাইলি মন্ত্রী

ইসরাইলের যুদ্ধবাজ অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোটরিচ অধিকৃত পশ্চিম তীরে ‘পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ’ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন । তিনি বলেছেন, গাজায় ইসরাইল যে ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে, পশ্চিম তীরেও একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।

আগামী মাসে ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ডানপন্থি রিলিজিয়াস জিওনিজম পার্টির নেতা স্মোটরিচ এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি পশ্চিম তীরের কিছু এলাকায় সীমিত স্বায়ত্তশাসন পরিচালনা করা ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (পিএ) বিলুপ্ত করার দাবি আবারও তুলে ধরেন।

স্মোটরিচের এই বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা এবং চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ইহুদিদের ধর্মীয় উৎসব ‘সুক্কোত’ উপলক্ষে অধিকৃত পশ্চিম তীরে প্রবেশের বিভিন্ন পথ ‘সম্পূর্ণভাবে বন্ধ’ করার নির্দেশ দেয় ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ।

ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিম তীরের রামাল্লা শহরের আশপাশেও ইসরাইলি বাহিনী চলাচলে কড়াকড়ি বাড়িয়েছে। কয়েকটি শহর ও গ্রামের সড়ক ও প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

রামাল্লার উত্তরে তুরমুস আয়্যার প্রবেশপথও বন্ধ করা হয় এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের হয়রানি করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ওয়াফা।

এ ছাড়া আবুদ, নবী সালেহ, আতারা ও তাইবেহ এলাকার প্রবেশপথ বন্ধ করা হয়। ইয়াবরুদ ও আইন সিনইয়া এলাকার প্রবেশপথে সামরিক চেকপোস্টও বসানো হয়।

স্মোটরিচ পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ এবং ওই ভূখণ্ডে ইসরাইলের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার অন্যতম সমর্থক।

নির্বাচনের আগে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক জোটগুলোর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের জন্য তিনি নিজের রাজনৈতিক অংশীদারদের ছেড়ে যাবেন না।

তিনি বলেন, তার রাজনৈতিক শিবির ইহুদি পরিচয়, জায়নবাদ, ভূমির প্রতি ভালোবাসা, বসতি স্থাপন এবং নিরাপত্তা নীতির মতো বিষয়গুলোতে ঐকমত্যে বিশ্বাস করে।

জাতীয় এর আরও খবর

img

জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১১:৫৫, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:৫৪, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশের বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, জাতিসংঘ অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তা‌রেক রহমা‌নের অংশগ্রহণের বিষয় তুলে ধরতে আজ সোমবার সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য ক‌রেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সার্বিক বিবেচনায় এবারের অধিবেশনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সার্থক হয়েছে। এই সফর নতুন সরকারের অঙ্গীকার ও প্রত্যাশাকে বিশ্ব পরিসরে তুলে ধরার পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

জাতিসংঘ অধিবেশন উপলক্ষে চার দিনের সফরে প্রধানমন্ত্রী সব মিলিয়ে মোট ৩০টি আন্তর্জাতিক কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন বলে জানান প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন। তিনি জানান, এর মধ্যে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে একটি ঐতিহাসিক ভাষণ দিয়েছেন, ৭টি উচ্চ-পর্যায়ের সভায় বক্তব্য রেখেছেন, ১১টি দেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন এবং জাতিসংঘসহ ১০টি আন্তর্জাতিক সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।

বিভিন্ন সভায় ও দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশগ্রহণকারী সব অতিথিই স্বতঃস্ফূর্তভাবে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার প্রতি তাদের অকুণ্ঠ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন বলে দাবি করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

তি‌নি ব‌লেন, দীর্ঘদিন পর জনগণের নিরঙ্কুশ ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের আত্মবিশ্বাস, সম্মান এবং আত্মমর্যাদা নতুন উচ্চতায় উন্নীত করেছেন এই সফরে।

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বোয়িং কেনার চুক্তি নিয়ে জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বোয়িং কেনার চুক্তি হয়েছে এবং সেটি একটি উন্মুক্ত পরিবেশে স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই হয়েছে, যেখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং আমাদের দেশের চারজন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন।

‘আমাদের চাহিদা অনুযায়ী আমরা বোয়িং কিনছি। ঐতিহাসিকভাবেই বাংলাদেশ বোয়িংয়ের ভারী বিমান ব্যবহার করে আসছে। তবে আমাদের মিশ্র বহরের প্রয়োজন আছে। এই একবিংশ শতাব্দীতে রুট বাড়াতে হলে এবং এভিয়েশন হাব হতে হলে আমাদের মিশ্র বহর লাগবে।

বাংলাদেশের প্রাপ্ত বিমানের বহর আরো অনেক বাড়ানো দরকার।’

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, এখানে কোনো লুক্কায়িত এজেন্ডা নেই। এটি সম্পূর্ণ আমাদের প্রয়োজনের ভিত্তিতে করা হয়েছে এবং খোলামেলাভাবেই আপনাদের জানানো হয়েছে। প্রয়োজন হলে আমরা আরো কিনব। যাত্রীসেবার মান বাড়ানো এবং একটি ক্রমবর্ধমান এভিয়েশন হাব হওয়ার জন্য আমাদের বহর সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। 

জাতীয় এর আরও খবর