img

তরুণ সাংবাদিক তুহিনুল হক তুহিন আর নেই

প্রকাশিত :  ০৭:০৪, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 তরুণ সাংবাদিক তুহিনুল হক তুহিন আর নেই

সিলেটের তরুণ সাংবাদিক তুহিনুল হক তুহিন আর নেই। মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে সিলেট নগরীর সাদারপাড়ায় নিজ বাসায় তিনি ইন্তেকাল করেন। তুহিনুল হক তুহিন নগরের সাদাপাড়ার আল-আমিন আবাসিক এলাকার এ ব্লকের ১৮ নম্বর বাসার মৃত নুরুল হকের ছেলে। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিলো ৩৭ বছর। তিনি গত কয়েক বছর ধরে কিডনি ও হৃদরোগে আক্রান্ত ছিলেন।

মরহুমের জানাযার নামাজ আজ বাদ জোহর সাদারপাড়া জামে মসজিদে অনুষ্ঠিত হবে।

তুহিনুল হক তুহিনের মৃত্যুতে সিলেটের সাংবাদিক সমাজে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কাজ করেছেন জাতীয় ও স্থানীয় জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে। সিলেটের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, অপরাধ ও জনস্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সংবাদ পরিবেশন করেছেন তুহিনুল হক তুহিন।

প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রীর শোক

বাংলা ট্রিবিউনের সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি ও সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সদস্য তরুণ সাংবাদিক তুহিনুল হক তুহিনের অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এমপি

এক শোক বার্তায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, \"তরুণ ও মেধাবী সাংবাদিক তুহিনুল হক তুহিনের অকাল চলে যাওয়া সিলেট অঞ্চলের সাংবাদিকতার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠা ও সাহসিকতার সাথে পেশাগত দায়িত্ব পালন করে গেছেন। তার মতো একজন সম্ভাবনাময় সাংবাদিকের এভাবে হঠাৎ চলে যাওয়া মেনে নেওয়া কঠিন।\"

মন্ত্রী মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বলেন, \"আল্লাহ তাআলা প্রিয় তুহিন ভাইকে ক্ষমা করে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন।\" শোকসন্তপ্ত পরিবার, সহকর্মী এবং শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে মন্ত্রী তাদের এই অসীম কষ্ট সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দান করার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন।

সিসিক প্রশাসকের শোক

বাংলা ট্রিবিউনের সিলেট বিভাগীয় প্রতিনিধি ও সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সদস্য সাংবাদিক তুহিনুল হক তুহিনের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এক শোকবার্তায় সিসিক প্রশাসক বলেন, সাংবাদিক তুহিনুল হক তুহিনের মৃত্যুতে সিলেটের সাংবাদিকতা অঙ্গনে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সাংবাদিকতা করেছেন। তাঁর মৃত্যুতে আমি গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। একই সঙ্গে মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা করছি।

জেলা প্রেসক্লাবের শোক :

সদস্য তুহিনুল হক তুহিনের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সিলেট জেলা প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দ। ক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন এক শোকবার্তায় বলেন- তুহিন ছিলেন প্রতিভাবান এক তরুণ সাংবাদিক। তাঁর এই অবেলায় চলে যাওয়া সাংবাদিক অঙ্গনের জন্য এক বড় দুঃসংবাদ। এই শূন্যস্থান সহজে পূরণ হবার নয়। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন। পাশাপাশি তুহিনুল হক তুহিনের শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এ শোক সইবার তাওফিক দান করুন। আমিন।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

কিশোরীকে অপহরণের পর রাতভর ধর্ষণের অভিযোগ, গ্রেপ্তার ৩

প্রকাশিত :  ১৮:৫৫, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে অপহরণের পর একটি ভাড়া বাসায় আটকে রেখে রাতভর ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ও ৯(৩) ধারায় মামলা করেছেন। মামলার পরপরই অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন শ্রীমঙ্গল উপজেলার ইছবপুর এলাকার দুলাল মিয়া (৩১), হবিগঞ্জ সদর উপজেলার চানপুর গ্রামের মো. জুয়েল মিয়া ওরফে সোহেল (২৬) এবং একই উপজেলার রিচি গ্রামের আল আমিন ইসলাম (২০)। তাঁরা শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করতেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাতটার দিকে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার উকিল বাড়ি রোড এলাকায় কাজ শেষে বাড়ি ফিরছিল কিশোরীটি। পথে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে আসা কয়েকজন তাঁর গতিরোধ করেন। পরে তাঁকে জোরপূর্বক অপহরণ করে ইছবপুর এলাকায় দুলাল মিয়ার ভাড়া বাসায় নিয়ে যাওয়া হয় বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে।

এজাহারে আরও বলা হয়, শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে পরদিন রোববার সকাল সাতটা পর্যন্ত ওই বাসায় কিশোরীকে আটকে রেখে আসামিরা পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। পরে ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল নয়টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে শ্রীমঙ্গল রেলস্টেশনে ফেলে রেখে তাঁরা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা রেলস্টেশন থেকে কিশোরীকে উদ্ধার করে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সদর হাসপাতালে পাঠান। বর্তমানে তিনি হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কিশোরীর বাবা শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা করেন। মামলার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করে।

শ্রীমঙ্গল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরকার আব্দুল্লাহ আল মামুন গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, গণধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে তাঁদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর