img

মস্তিষ্কের রহস্য ভেদ: চিকিৎসায় নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী

প্রকাশিত :  ১২:৫৮, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

মস্তিষ্কের রহস্য ভেদ: চিকিৎসায় নোবেল পেলেন ৩ বিজ্ঞানী

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ বছরের নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডেইসেরথ, জার্মানির পিটার হেগম্যান ও জর্জ নাগেল। আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল ও অপটোজেনেটিকস নিয়ে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সময় সোমবার বিকেলে সুইডেনের স্টকহোমে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। নোবেল প্রাইসের ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, মস্তিষ্ক কীভাবে মানুষের অনুভূতি, আচরণ ও শারীরিক কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করে, তা দীর্ঘকাল ধরে একটি রহস্য হয়ে ছিল। বিংশ শতাব্দীতে গবেষকরা মস্তিষ্কের কোন অংশটি কোন কাজে প্রভাব ফেলে, তা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন।

তবে সে সময় যেসব পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছিল, তা দিয়ে ‘ঠিক কী কারণে কী ঘটে’ সেটি প্রমাণ করা সম্ভব ছিল না। তারা মস্তিষ্কের খসড়া ‘ম্যাপিং’ বা মানচিত্র তৈরি করেছিলেন। এর ফলে অসংখ্য প্রশ্ন ও অজানা বিষয় থেকে যায়। কিন্তু এখন দৃশ্যপট বদলে যাচ্ছে।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল কমিটির প্রধান পের সভেনিংসন বলেন, ‘অপটোজেনেটিকসের কারণে এখন এমনভাবে মস্তিষ্কের ম্যাপিং তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা একসময় আমরা কেবল স্বপ্নই দেখতাম।’

‘অপটোজেনেটিকস’ আলো দিয়ে স্নায়বিক সংকেত নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত। পুরস্কার ঘোষণার সময় নোবেল অ্যাসেম্বলি বলে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে জীবিত মস্তিষ্কে স্নায়ুকোষ কীভাবে স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ গড়ে তোলে তা দেখা সম্ভব।

নোবেল কমিটির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, হেগম্যান ও নাগেল ‘চ্যানেলরোডপসিন’ নামে একটি প্রোটিন আবিষ্কার করেছিলেন। তাঁরা দেখতে পান, এই প্রোটিনটি যেকোনো কোষে প্রবেশ করানো হলে সেটি আলোর প্রতি সংবেদনশীল হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে, গবেষণাগারে ইঁদুরের স্নায়ুকোষে চ্যানেলরোডপসিনের জিন প্রবেশ করান ডাইসেরথ। এরপর ওই কোষগুলোতে নীল আলো ফেলে তিনি স্নায়বিক সংকেত (নার্ভ সিগন্যাল) চালু বা ট্রিগার করতে সক্ষম হন। পরে তিনি দেখান, জীবিত ইঁদুরের মস্তিষ্কেও স্নায়ুকোষের জন্য আলো-নিয়ন্ত্রিত সুইচটি কাজ করে।

নোবেল প্রাইসের ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, অপটোজেনেটিকস পদ্ধতি ব্যবহার করে গবেষকরা নির্দিষ্ট স্মৃতি, অনুভূতি ও আচরণ নিয়ন্ত্রণকারী স্নায়বিক পথগুলো (নিউরাল সার্কিট) উন্মোচন করতে সক্ষম হয়েছেন। এসব পথ স্নায়বিক ও মানসিক বিভিন্ন রোগের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পর্কিত।

চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রায়োগিক ক্ষেত্রেও (ক্লিনিক্যাল মেডিসিন) এই পদ্ধতি ব্যবহার শুরু হয়েছে। দুর্বল দৃষ্টিশক্তির ব্যক্তিদের চোখের আলো ফিরিয়ে আনার চেষ্টায় গবেষকরা পদ্ধতিটি কাজে লাগাচ্ছেন।

নোবেল কর্তৃপক্ষ লিখেছে, অপটোজেনেটিকস মস্তিষ্ক সম্পর্কে এতদিনের ধারণাকে পুরোপুরি বদলে দিয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিদিনই নতুন নতুন আবিষ্কার সামনে আসছে। মস্তিষ্ক আসলে কীভাবে কাজ করে- সেই রহস্য সমাধানে এসব আবিষ্কার সাহায্য করছে। 

২০২৫ সালে যারা পেয়েছিলেন

‘পেরিফেরাল ইমিউন টলারেন্স’ সম্পর্কিত আবিষ্কারের জন্য গত বছর পুরস্কার পেয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিজ্ঞানী মেরি ই ব্রাঙ্কো, ফ্রেড রামসডেল ও জাপানের শিমন সাকাগুচি।

তখন নোবেল কর্তৃপক্ষ বলেছিল, মানবদেহে শক্তিশালী রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা অবশ্যই নিয়ন্ত্রিত থাকতে হয়। তা না হলে এটি অন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গকে আক্রমণ করতে পারে। তিন বিজ্ঞানীর আবিষ্কার ক্যানসার ও অটোইমিউন রোগের নতুন চিকিৎসা উদ্ভাবনের পথ খুলে দিয়েছে।

মেরি ই ব্রাঙ্কো যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলের ইনস্টিটিউট ফর সিস্টেমস বায়োলজির সিনিয়র প্রোগ্রাম ম্যানেজার। ফ্রেড রামসডেল সান ফ্রান্সিসকোর সোনোমা বায়োথেরাপিউটিকস এর বৈজ্ঞানিক উপদেষ্টা এবং শিমন সাকাগুচি জাপানের ওসাকা ইউনিভার্সিটির ইমিউনোলজি ফ্রন্টিয়ার রিসার্চ সেন্টারের অধ্যাপক।

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এখন পর্যন্ত ২৩২ জন ব্যক্তিকে চিকিৎসায় নোবেল দেওয়া হয়েছে। সবচেয়ে কম ৩১ বছর বয়সে পুরস্কারটি পান কানাডার ব্রেডরিক ব্যান্টিং। ৮৭ বছর বয়সে পেয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের পেটন রোস। 

কবে কোন পুরস্কার

মঙ্গলবার পদার্থবিজ্ঞান ও বুধবার রসায়নে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে। বৃহস্পতিবার সাহিত্যে ও শান্তিতে পুরস্কার বিজয়ীর নাম ঘোষণা হবে আগামী শুক্রবার। অর্থনীতিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হবে ১৩ অক্টোবর।

পুরস্কারের অংশ হিসেবে একটি করে ডিপ্লোমা, স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ ডলারের চেক দেওয়া হয়। কোনো বিভাগে একাধিক বিজয়ী থাকলে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি করে নেন।

মানবতার জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি বয়ে এনেছেন এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা, উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।


জাতীয় এর আরও খবর

img

বিমানে বড় রদবদল, নতুন জনসংযোগ মহাব্যবস্থাপক শাহনুর আহমেদ

প্রকাশিত :  ১৯:২২, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে বড় ধরনের রদবদল ও দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে এয়ারপোর্ট সার্ভিসেসের মহাব্যবস্থাপক শাহনুর আহমেদকে মহাব্যবস্থাপক (গ্রাহক সেবা) পদে বদলি করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁকে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাসহ মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিমানের প্রশাসন ও মানবসম্পদ পরিদপ্তরের পার্সোনেল শাখা থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়। ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমোদনক্রমে জারি করা আদেশে প্রশাসনিক গতিশীলতা ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে ১০ জন জ্যেষ্ঠ ও উপ-মহাব্যবস্থাপক পর্যায়ের কর্মকর্তাকে বদলি, সংযুক্তি ও অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

অফিস আদেশ অনুযায়ী, শাহনুর আহমেদ (পি-৩৬৩৪৮) এতদিন এয়ারপোর্ট সার্ভিসেসের মহাব্যবস্থাপক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। নতুন আদেশে তাকে মহাব্যবস্থাপক (গ্রাহক সেবা) পদে বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাকে। এ দায়িত্ব পালনের জন্য তাকে আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে এতদিন মহাব্যবস্থাপক (গ্রাহক সেবা) এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মহিউদ্দিন আহমেদ (পি-৩৬৫২১)কে মহাব্যবস্থাপক (এয়ারপোর্ট সার্ভিসেস) পদে বদলি করা হয়েছে।

নতুন দায়িত্ব প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শাহনুর আহমেদ বলেন, ‘বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের জনসংযোগ ও গ্রাহকসেবা আরও কার্যকর ও গতিশীল করতে কাজ করতে চাই। এ ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাংবাদিকরা আমাদের কার্যক্রমের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন এবং যেসব জায়গায় উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে, সেগুলোও সামনে আনেন। আমি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয় ও সহযোগিতাকে গুরুত্ব দেব। আশা করি, আপনাদের সহযোগিতা নিয়ে নতুন দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করতে পারব।’

আদেশে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সংযুক্ত মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলামকে পরিচালক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ)-এর কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

স্টোর অ্যান্ড ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্টের মহাব্যবস্থাপক ইকবাল আহমেদ আলিজাকে মহাব্যবস্থাপক (কার্গো) পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পার্সোনেল বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক খন্দকার বাকী উদ্দিন আহমেদকে উপ-মহাব্যবস্থাপক (পার্সোনেল) পদে মূল দায়িত্বের পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক হিসেবে স্টোর অ্যান্ড ম্যাটেরিয়াল ম্যানেজমেন্ট বিভাগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

পোল্ট্রি কমপ্লেক্সের মহাব্যবস্থাপক এ.এইচ.এম. শফিউল বারীকে মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ও মানবসম্পদ) পদে বদলি করা হয়েছে। উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. জহুরুল আলমকে উপ-মহাব্যবস্থাপক (মানবসম্পদ) এবং আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাসহ উপ-মহাব্যবস্থাপক (পার্সোনেল) পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বোয়িং-৭৮৭ উড়োজাহাজের ক্যাপ্টেন শেখ আব্বাস হোসেনকে মূল ক্যাপ্টেনের দায়িত্বের পাশাপাশি আর্থিক ও প্রশাসনিক ক্ষমতাসহ মহাব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা), করপোরেট প্ল্যানিং অ্যান্ড ট্রেনিং পরিদপ্তর পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া উপ-মহাব্যবস্থাপক (হিসাব) এম. এম. আরিফুর রহমানকে করপোরেট প্ল্যানিং অ্যান্ড ট্রেনিং পরিদপ্তরে উপ-মহাব্যবস্থাপক পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিএফসিসির উপ-মহাব্যবস্থাপক এ জেড এম আরিফকে উপ-মহাব্যবস্থাপক (পোল্ট্রি কমপ্লেক্স) পদে বদলি করা হয়েছে।

বিমান সূত্র জানিয়েছে, বিভিন্ন বিভাগের কার্যক্রমে গতি আনা, সেবার মান উন্নত করা এবং অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যেই এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে।


জাতীয় এর আরও খবর