img

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যা, জীবন বাঁচাতে ধানক্ষেতে দৌড়েছিল তাজমিন

প্রকাশিত :  ০৬:৫৬, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী হত্যা, জীবন বাঁচাতে ধানক্ষেতে দৌড়েছিল তাজমিন

কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার ফসলি মাঠ থেকে জান্নাতুল তাজমিন (১৪) নামে এক স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ঘটনাস্থল ও আশপাশের চার থেকে পাঁচটি ধানক্ষেতে ধস্তাধস্তি ও দৌড়াদৌড়ির আলামত পাওয়া গেছে। এসব আলামত থেকে ধারণা করা হচ্ছে, মৃত্যুর আগে হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে প্রাণপণ চেষ্টা করেছিল কিশোরীটি।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার জগতপুর গ্রামের নির্জন পাকা সড়কের পাশের একটি ধানক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত তাজমিন কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান রেনেটার কুমিল্লা অঞ্চলের কর্মী আব্দুল আলিমের মেয়ে। তাদের গ্রামের বাড়ি যশোর সদর উপজেলার ছাতিয়ানতলা গ্রামে হলেও পরিবারের সঙ্গে সে কুমিল্লা নগরীর রেসকোর্স এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকত।

সরেজমিনে ও স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, সকালে নির্জন সড়কের পাশের ধানক্ষেতে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা উল্টে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। অটোরিকশার ২০-৩০ গজ দূরে একটি ভ্যানিটি ব্যাগ এবং আশপাশের চার-পাঁচটি ধানক্ষেতের ধানগাছ দুমড়েমুচড়ে এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান তারা। সেই পদচিহ্ন ধরে কিছুটা এগোতেই কাদায় মুখ গোঁজা অবস্থায় কিশোরীর বিবস্ত্র মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। নিহতের গলায় গামছা প্যাঁচানো ছিল। স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন দিলে পুলিশ এসে মরদেহ ও অটোরিকশাটি উদ্ধার করে।

কুমিল্লার সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ্ জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কিশোরীটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। তার শরীরে দৃশ্যমান বড় কোনো জখমের চিহ্ন ছিল না। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও অন্য কোনো নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে কি না তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনাস্থল থেকে জব্দকৃত নিবন্ধিত অটোরিকশাটির সূত্র ধরে অপরাধীদের শনাক্তে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।

এদিকে ময়নাতদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার রাতেই তাজমিনের মরদেহ নিয়ে যশোরের উদ্দেশে রওনা হন স্বজনরা। পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল আলিম বাদী হয়ে লালমাই থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

 


জাতীয় এর আরও খবর

img

মোটরসাইকেলে এসে মোবাইল ব্যাংকিং কর্মীদের গাড়ি আটকে গুলি, দুই বস্তা টাকা লুট

প্রকাশিত :  ২০:৪০, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

গাজীপুরের শ্রীপুরে বিকাশকর্মীদের বহনকারী একটি প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে গুলি চালিয়ে তিনটি বস্তার মধ্যে দুটি ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্রীপুর-গোসিংগা আঞ্চলিক সড়কের কর্ণপুর এলাকায় মোটরসাইকেলে এসে এ হামলা চালায় তারা। এতে চারজন আহত হয়েছেন, যাঁদের একজনের পেটে গুলি লেগেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছিনতাই হওয়া টাকার পরিমাণ প্রায় তিন কোটি টাকা।

হামলার শিকার ব্যক্তিরা বিকাশের তিন কর্মকর্তা ও তাদের গাড়িচালক। তারা নরসিংদীর বিভিন্ন বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে মাওনায় ফিরছিলেন।

হামলার শিকার ব্যক্তিদের ভাষ্য, নরসিংদীর বিভিন্ন এজেন্টের কাছ থেকে চার কোটি টাকা সংগ্রহ করে তিনটি বস্তায় ভরে প্রাইভেটকারে তোলা হয়েছিল। ঢাকা মেট্রো-গ ৩৫-০৭০১ নম্বরের গাড়িটি মাওনার দিকে যাওয়ার পথে কর্ণপুর গ্রামের বনবেষ্টিত সড়কে পৌঁছালে ১০ থেকে ১৫টি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাদের পথ আটকে দেয়। এরপর গাড়ির কাচ ভেঙে ভেতরে থাকা বিকাশের ক্যাশ ম্যানেজার হিমেলের পেটে গুলি করে তারা।

পরে হিমেলকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়। অন্য দুই কর্মকর্তা ও গাড়িচালককেও পিটিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। এরপর গাড়ির পেছনে রাখা তিনটি বস্তার মধ্যে দুটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা।

গুলিবিদ্ধ হিমেল (৩৫) মাওনা এলাকার বিকাশের ক্যাশ ম্যানেজার। আহত অন্যরা হলেন- ভালুকা এন্টারপ্রাইজ শ্রীপুরের ডিসিএম ফাহাদ হোসেন (৩০), মাওনা বিকাশের সুপারভাইজার রিফাত আহমেদ (২০) এবং গাড়িচালক লাল মিয়া (২৫)।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত ব্যক্তিরা শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর হিমেলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অনিক সরকার জানান, আহত চারজন হাসপাতালে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে একজনের পেটে গুলির ক্ষত ছিল। তার অবস্থা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্য তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম সমকালকে জানান, হামলার শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনো নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন না। চার কোটি টাকা পরিবহনের জন্য পুলিশি নিরাপত্তাও নেওয়া হয়নি। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাইভেটকারে থাকা তিন বিকাশকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।


জাতীয় এর আরও খবর