img

শান্তিতে নোবেল পেলেন রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার বিচারক নাভি পিল্লাই

প্রকাশিত :  ১২:৫২, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

শান্তিতে নোবেল পেলেন রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার বিচারক নাভি পিল্লাই

শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন প্রতিষ্ঠায় অবদানের জন্য এ বছর শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত দক্ষিণ আফ্রিকান বিচারক নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাই। নোবেল প্রাইজের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তিনি বর্তমানে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগসংক্রান্ত মামলায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ মূলত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর নিপীড়ন কেন্দ্রিক। ২০১৭ সালে সেনা অভিযান শুরুর পর কয়েক লাখ রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশসহ মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে পাড়ি জমায়। এ নৃশংসতাকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে ২০১৯ সালের নভেম্বর আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) মামলা করে গাম্বিয়া।

বাংলাদেশ সময় শুক্রবার বিকেলে নরওয়ের অসলোতে শান্তিতে পুরস্কারজয়ীর নাম ঘোষণা করা হয়। নোবেল কর্তৃপক্ষ বলেছে, বর্ণবাদী শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো নেলসন ম্যান্ডেলাসহ অন্যদের পক্ষে আইনি লড়াই থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আন্তর্জাতিক মামলায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছেন পিল্লাই। 

দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্ট, রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতেও বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন পিল্লাই। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারও ছিলেন। সম্প্রতি অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

পিল্লাইয়ের পরিচয় হিসেবে নোবেল প্রাইসের ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, তিনি ১৯৪১ সালের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে ভারতীয় তামিল বংশোদ্ভূত এক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরুর পর তিনি এই ক্ষেত্রের পথিকৃৎ হয়ে ওঠেন। 

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পিল্লাই এমন একজন ব্যক্তি, যিনি অসাধারণ সাহস ও সততার সঙ্গে সমন্বিত বৈশ্বিক আইনি ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথ দেখিয়েছেন। যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার বিচার নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।

নাভি পিল্লাই বিভিন্ন রাষ্ট্র ও নেতাদের জবাবদিহির আওতায় এনেছেন। সহিংসতা ও সংঘাতের শিকার মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার করেছেন। দায়িত্ব পালনকালে তিনি বারবার আইনের শাসন মেনে চলার ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও রাষ্ট্রের দায়িত্বের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

অন্য বিভাগে যারা পেলেন

চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ বছর নোবেল পেয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের কার্ল ডেইসেরথ, জার্মানি পিটার হেগম্যান ও জর্জ নাগেল। আলো-নিয়ন্ত্রিত আয়ন চ্যানেল ও অপটোজেনেটিকস নিয়ে তাঁদের আবিষ্কারের জন্য পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।

পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেয়েছেন বেলজিয়ামের বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হালজেন (৮২)। তিনি আইসকিউব নিউট্রিনো অবজারভেটরিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। একই সঙ্গে মহাবিশ্বের দূরবর্তী স্থান থেকে পৃথিবীতে আসা উচ্চ শক্তির নিউট্রিনো আবিষ্কার করেছেন। এই নিউট্রিনো অনেকের কাছে ‘ভূতুড়ে কণা’ নামেও পরিচিত।

জাপানের বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই ও ফ্রান্সের বিজ্ঞানী হেনরি কাগান রসায়নে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন। রাসায়নিক অণুর ‘মিরর ইমেজ’ বা দর্পণ প্রতিবিম্ব নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণার জন্য তাঁদের এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এই আবিষ্কার ওষুধ শিল্পের বিকাশে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। 

সাহিত্যে এ বছর নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন কানাডার কবি অ্যান কারসন। ধ্রুপদি সাহিত্যধারার সঙ্গে সৃজনশীল ও নিরীক্ষাধর্মী সংলাপের মাধ্যমে সমকালীন সাহিত্যে নতুন রূপ সৃষ্টির সাহসী ও অভিনব কাজের জন্য এই পুরস্কার দেওয়ার কথা জানিয়েছে নোবেল কর্তৃপক্ষ।

আগামী ১৩ অক্টোবর অর্থনীতিতে পুরস্কার ঘোষণা করা হবে। 

নোবেল পুরস্কারের অংশ হিসেবে একটি করে ডিপ্লোমা, স্বর্ণপদক এবং প্রায় ১২ লাখ ডলারের চেক দেওয়া হয়। কোনো বিভাগে একাধিক বিজয়ী থাকলে পুরস্কারের অর্থ ভাগাভাগি করে নেন।

মানবতার জন্য বড় ধরনের অগ্রগতি বয়ে এনেছেন এমন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে ১৯০১ সাল থেকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। পুরস্কারের প্রতিষ্ঠাতা, উদ্ভাবক আলফ্রেড নোবেলের ইচ্ছার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই পুরস্কার দেওয়া হয়।


জাতীয় এর আরও খবর

img

মোটরসাইকেলে এসে মোবাইল ব্যাংকিং কর্মীদের গাড়ি আটকে গুলি, দুই বস্তা টাকা লুট

প্রকাশিত :  ২০:৪০, ০৯ অক্টোবর ২০২৬

গাজীপুরের শ্রীপুরে বিকাশকর্মীদের বহনকারী একটি প্রাইভেটকারের গতিরোধ করে গুলি চালিয়ে তিনটি বস্তার মধ্যে দুটি ছিনিয়ে নিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার সন্ধ্যায় শ্রীপুর-গোসিংগা আঞ্চলিক সড়কের কর্ণপুর এলাকায় মোটরসাইকেলে এসে এ হামলা চালায় তারা। এতে চারজন আহত হয়েছেন, যাঁদের একজনের পেটে গুলি লেগেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ছিনতাই হওয়া টাকার পরিমাণ প্রায় তিন কোটি টাকা।

হামলার শিকার ব্যক্তিরা বিকাশের তিন কর্মকর্তা ও তাদের গাড়িচালক। তারা নরসিংদীর বিভিন্ন বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে মাওনায় ফিরছিলেন।

হামলার শিকার ব্যক্তিদের ভাষ্য, নরসিংদীর বিভিন্ন এজেন্টের কাছ থেকে চার কোটি টাকা সংগ্রহ করে তিনটি বস্তায় ভরে প্রাইভেটকারে তোলা হয়েছিল। ঢাকা মেট্রো-গ ৩৫-০৭০১ নম্বরের গাড়িটি মাওনার দিকে যাওয়ার পথে কর্ণপুর গ্রামের বনবেষ্টিত সড়কে পৌঁছালে ১০ থেকে ১৫টি মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা তাদের পথ আটকে দেয়। এরপর গাড়ির কাচ ভেঙে ভেতরে থাকা বিকাশের ক্যাশ ম্যানেজার হিমেলের পেটে গুলি করে তারা।

পরে হিমেলকে গাড়ি থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়। অন্য দুই কর্মকর্তা ও গাড়িচালককেও পিটিয়ে আহত করে দুর্বৃত্তরা। এরপর গাড়ির পেছনে রাখা তিনটি বস্তার মধ্যে দুটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায় তারা।

গুলিবিদ্ধ হিমেল (৩৫) মাওনা এলাকার বিকাশের ক্যাশ ম্যানেজার। আহত অন্যরা হলেন- ভালুকা এন্টারপ্রাইজ শ্রীপুরের ডিসিএম ফাহাদ হোসেন (৩০), মাওনা বিকাশের সুপারভাইজার রিফাত আহমেদ (২০) এবং গাড়িচালক লাল মিয়া (২৫)।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত ব্যক্তিরা শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর হিমেলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অনিক সরকার জানান, আহত চারজন হাসপাতালে এসেছিলেন। তাদের মধ্যে একজনের পেটে গুলির ক্ষত ছিল। তার অবস্থা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। অন্য তিনজনকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম সমকালকে জানান, হামলার শিকার ব্যক্তিদের সঙ্গে কোনো নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন না। চার কোটি টাকা পরিবহনের জন্য পুলিশি নিরাপত্তাও নেওয়া হয়নি। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। প্রাইভেটকারে থাকা তিন বিকাশকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে।


জাতীয় এর আরও খবর