img

জ্বালানিনিরাপত্তায় সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ০৬:৫৮, ১২ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:১৪, ১২ অক্টোবর ২০২৬

জ্বালানিনিরাপত্তায় সৌদি আরবের দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ

দেশের জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরবের কাছে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির জন্য ভাসমান টার্মিনাল স্থাপন এবং স্থল ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে সৌদি আরব।

রোববার (১১ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরামের ১৭তম আসরের ফাঁকে এসব বিষয়ে আলোচনা করেন সফররত বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সোমবার সকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রী নাসের আল কাহতানি, কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী ও কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ শেরিদা আল-কাবি এবং সৌদি প্রতিষ্ঠান এসিডব্লিউএ পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তামের সেজ সেহানের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী।

সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রিয়াদের সহযোগিতা চাওয়া হয়। বাংলাদেশের ২০৩০ সালের জ্বালানিসংক্রান্ত লক্ষ্য অর্জনে সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগ এবং একটি সমঝোতা কাঠামো প্রতিষ্ঠার বিষয়েও আলোচনা হয়। বৈঠকে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সহযোগিতা, ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপন এবং স্থল ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধানের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।

কাতারের জ্বালানিমন্ত্রী ও কাতারএনার্জির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সাদ শেরিদা আল-কাবির সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা এবং বিদ্যমান এলএনজি আমদানিব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করেন প্রতিমন্ত্রী। কাতারএনার্জির আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা থেকে এলএনজি পাওয়ার সম্ভাবনা এবং আমদানির উৎস ও পরিবহনপথ বহুমুখী করার বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক ও কারিগরি আলোচনা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেয় দুই পক্ষ।

অন্যদিকে, এসিডব্লিউএ পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তামের সেজ সেহানের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহের কথা জানায় সৌদি আরবভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটি। তবে সম্ভাব্য বিনিয়োগের পরিমাণ, প্রকল্পের ধরন ও বাস্তবায়নের সময়সীমা সম্পর্কে বিজ্ঞপ্তিতে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সৌদি আরবের বিদ্যুৎবিষয়ক সহকারী মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের শুরুতে রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় নিহত ব্যক্তিদের জন্য শোক প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম। এ ঘটনায় নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পাঠানো এবং আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সৌদি সরকারের সহযোগিতাও চান তিনি।

অর্থনীতি এর আরও খবর

img

বিশেষ সুবিধা পেল বেক্সিমকোর দুই খেলাপি প্রতিষ্ঠান

প্রকাশিত :  ১৮:৫৭, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণখেলাপি বেক্সিমকো গ্রুপের দুই প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে বিশেষ সুবিধা দিয়েছে । সোনালী ব্যাংকে শাইনপুকুর সিরামিকসের ১০৫ কোটি টাকার চলতি মূলধন সীমা আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত নবায়ন করতে বলা হয়েছে। আর ন্যাশনাল ব্যাংকে বেক্সিমকো এলপিজির অনুকূলে এলসি খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার এ বিষয়ে আলাদা দু’টি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শাইনপুকুর সিরামিকস্ লিমিটেডের ঋণ খেলাপি হওয়ার পরও সোনালী ব্যাংকে প্রতিষ্ঠানটির চলতি মূলধন সীমা ১০৫ কোটি টাকা নবায়নের ক্ষেত্রে আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭কক(৩) ধারা কার্যকর হবে না। রাষ্ট্রীয় স্বার্থে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১২১ ধারার ক্ষমতা বলে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর আগে গত ১৭ আগস্ট অপর এক নির্দেশনার মাধ্যমে শতভাগ মার্জিনে শাইনপুকুর সিরামিকসের ঋণপত্র খোলার অনুমোদন দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবারের অপর এক প্রজ্ঞাপনে শতভাগ মার্জিনের বিপরীতে ন্যাশনাল ব্যাংকে বেক্সিমকো এলপিজির এলসি খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সুযোগ পাবে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশ ব্যাংক উভয় প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে দু’টি শর্ত দিয়েছে। প্রথমত, এই সুবিধার বিপরীতে সরকারের কোনো দায় সৃষ্টি হবে না। আর সকল আয় একটি নির্দিষ্ট হিসাবে জমা রাখতে হবে। সেখান থেকে আনুপাতিক হারে পাওনা পরিশোধ হবে।

কোনো ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকিং সুবিধা দেওয়ার ওপর ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭কক(৩) ধারায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সরকারের সাথে পরামর্শ করে এই ধারা থেকে অব্যাহতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বেক্সিমকো ছাড়াও সম্প্রতি আরও কয়েকটি ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানকে একই রকম সুবিধা দেওয়া হয়েছে।


অর্থনীতি এর আরও খবর