img

আমাকে দেখলে তো লোকে সংবিধান বলে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৮:১৪, ২০ অক্টোবর ২০২৬

আমাকে দেখলে তো লোকে সংবিধান বলে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবিধানে ধর্মীয় বৈষম্য নিষিদ্ধ এবং প্রত্যেক নাগরিকের নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘আমাকে দেখলে তো লোকে সংবিধান বলে। সংবিধানে যা আছে, আমরা তা বাস্তবায়ন করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব।’

সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এবারের দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ ছুটি, নিরাপত্তা ও আনন্দ-সম্প্রীতি নিশ্চিত করা হয়েছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানে ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য না করার পাশাপাশি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিএনপি সরকার এসব অধিকার নিশ্চিত করছে।

সংবিধানের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ‘আমাকে দেখলে তো লোকে সংবিধান বলে। তাহলে সংবিধান থেকে কিছু বলি, অনুচ্ছেদ ২৮-এ ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য না করার কথা বলা হয়েছে, অনুচ্ছেদ ৪১-এ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে। বিএনপি সরকার এই সবকিছু নিশ্চিত করছে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘যারা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের ভোটব্যাংক হিসেবে ব্যবহার করেছেন, সেই আওয়ামী লীগই হিন্দুদের জমি দখল করে রেখেছে।’

বাংলাদেশের সংবিধানের ২৮ অনুচ্ছেদে ধর্মসহ নির্দিষ্ট কিছু পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ৪১ অনুচ্ছেদে আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের ধর্ম পালন, প্রচার ও ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের অধিকার স্বীকৃত হয়েছে।

ধর্মীয় স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার প্রসঙ্গ তুলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার সংবিধানের এসব অধিকার বাস্তবায়নে কাজ করছে।

জাতীয় এর আরও খবর

img

সংখ্যালঘু কিংবা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, আমরা সবাই বাংলাদেশি : প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৯:০৫, ২০ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:০৬, ২০ অক্টোবর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগরিষ্ঠের বিভাজন নয়, সবার পরিচয় বাংলাদেশি। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) চট্টগ্রামে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

বন্দরনগরীর রহমতগঞ্জ জে. এম. সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান—কোনো আন্দোলনেই মানুষের ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করা হয়নি। তিনি বলেন, দেশের স্বাধীনতা ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে সবাই একসঙ্গে অংশ নিয়েছেন।

তারেক রহমান বলেন, ‘সেদিন যুদ্ধের মাঠে শতসহস্র মানুষ, লাখো মানুষ যুদ্ধ করেছিলেন।

কয়েক লাখ মানুষ শহীদ হয়েছেন। যারা যুদ্ধ করেছিলেন, যারা শহীদ হয়েছিলেন, সেদিন কিন্তু আমরা দেখিনি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ, কে খ্রিষ্টান।

‘আমরা কোনো ধর্ম দেখিনি, আমরা শুধু দেখেছি তারা মুক্তিযুদ্ধ করছিলেন। তারা দেশকে স্বাধীন করতে চেয়েছিলেন, তারা দেশকে স্বাধীন করেছেন।

স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের গণতন্ত্র যখন হুমকির মুখে পড়েছে, তখন ছাত্র-জনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীরা রাজপথে নেমেছেন। জনগণের অধিকার, কথা বলার স্বাধীনতা ও ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তারা আন্দোলন করেছেন। সেসব আন্দোলনেও কে কোন ধর্মের, তা বিবেচনা করা হয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, ‘সেদিনও কিন্তু আমরা দেখিনি, আমার পাশের কর্মী কোন ধর্মের বা আমার সামনে কিংবা পেছনের কর্মী কোন ধর্মের।’

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই আন্দোলনে বাংলাদেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশা ও বয়সের মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।

মা-বোন, শিশু, তরুণ, যুবকসহ লাখ লাখ মানুষ দেশের প্রতিটি জেলায় রাজপথে নেমেছিলেন। তাদের সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারকে ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেশিদিন আগের কথা নয়, দুই থেকে সোয়া দুই বছর আগের কথা, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাস। এই দেশের মানুষ, এই দেশের ছাত্র-জনতা এক স্বৈরাচারকে বিদায় করেছে। লাখ লাখ মানুষ সমগ্র বাংলাদেশে সেদিন রাজপথে বেরিয়ে এসেছিলেন। মা-বোনেরা বেরিয়ে এসেছিলেন, বিভিন্ন বয়সের মানুষ বেরিয়ে এসেছিলেন, শিশুরা বেরিয়ে এসেছিল, তরুণেরা বেরিয়েছিল, যুবকেরা বেরিয়ে এসেছিল। কেউ কিন্তু আমরা জিজ্ঞেস করিনি, গুলিবিদ্ধ মানুষটি মুসলমান নাকি হিন্দু, নাকি বৌদ্ধ, নাকি খ্রিষ্টান। স্বৈরাচার গুলি করেছে, ক্ষমতায় থাকতে চেয়েছিল। আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাদের ধরে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছেন। যাওয়ার পথে কেউ মারা গিয়েছেন অথবা যাওয়ার পথে বেঁচে থাকলেও বিভিন্নভাবে আহত হয়েছেন।’

আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকেরা কারও ধর্মীয় পরিচয় জানতে চাননি। ধর্মের ভিত্তিতে চিকিৎসা দেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি।

জাতীয় এর আরও খবর