img

সপ্তাহজুড়ে ৬ কোম্পানির ইপিএস প্রকাশ, আয় বৃদ্ধিতে মিশ্র চিত্র

প্রকাশিত :  ১০:৫৪, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

সপ্তাহজুড়ে ৬ কোম্পানির ইপিএস প্রকাশ, আয় বৃদ্ধিতে মিশ্র চিত্র
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ছয় কোম্পানি বিদায়ী সপ্তাহে ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। কোম্পানিগুলো হলো—লিন্ডে বাংলাদেশ, পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স, পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স ও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ। প্রকাশিত প্রতিবেদনে কয়েকটি কোম্পানির শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়েছে, আবার কয়েকটির কমেছে। কোম্পানিগুলোর প্রকাশিত আর্থিক প্রতিবেদন ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

লিন্ডে বাংলাদেশ

২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) লিন্ডে বাংলাদেশের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ৫ টাকা ২৩ পয়সা। আগের বছরের একই প্রান্তিকে এ আয় ছিল ৬ টাকা ৪৮ পয়সা।

অন্যদিকে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১৭ টাকা ৭৮ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ১৮ টাকা ৮০ পয়সা।

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ২১৮ টাকা ৮০ পয়সা।

ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স

২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস হয়েছে ৬০ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৯৩ পয়সা।

তবে নয় মাসের হিসাবে কোম্পানিটির ইপিএস বেড়েছে। জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৫ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৬১ পয়সা।

এদিকে, আলোচ্য নয় মাসে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি নগদ কার্যকরী প্রবাহ (এনওসিএফপিএস) হয়েছে ১ টাকা ৯৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৭৭ পয়সা।

৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির এনএভিপিএস ছিল ৩৭ টাকা ১ পয়সা।

পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ১৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৯০ পয়সা।

জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর—এই নয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৪ টাকা ১৯ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে ইপিএস ছিল ৩ টাকা।

একই সময়ে কোম্পানিটির এনওসিএফপিএস হয়েছে ৩ টাকা ১৬ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ৪ পয়সা।

৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৪৮ টাকা ২৮ পয়সা।

লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ

২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের ইপিএস হয়েছে ৫৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ১ টাকা ২ পয়সা।

চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৪১ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ৩ টাকা ৬ পয়সা।

এদিকে, জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির এনওসিএফপিএস হয়েছে ঋণাত্মক ২ টাকা ৫০ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ সূচক ছিল ৭৩ পয়সা।

৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির এনএভিপিএস ছিল ১৬ টাকা ৪৫ পয়সা।

বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স

বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে ইপিএস হয়েছে ৫০ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ের সমান।

তবে নয় মাসের হিসাবে কোম্পানিটির ইপিএসে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেছে। জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ৭৪ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে তা ছিল ১ টাকা ৭৩ পয়সা।

আলোচ্য নয় মাসে কোম্পানিটির এনওসিএফপিএস হয়েছে ১ টাকা ৯৮ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১ টাকা ৮০ পয়সা।

৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ২১ টাকা ১৯ পয়সা।

পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্স

চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে পূরবী জেনারেল ইন্স্যুরেন্সের ইপিএস হয়েছে ৬২ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৪৫ পয়সা।

জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর সময়ে কোম্পানিটির ইপিএস দাঁড়িয়েছে ১ টাকা ৪৬ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১ টাকা ২৩ পয়সা।

এদিকে, আলোচ্য নয় মাসে কোম্পানিটির এনওসিএফপিএস হয়েছে ১ টাকা ৭৫ পয়সা। আগের বছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৯৩ পয়সা।

৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৫ টাকা ৮ পয়সা।

প্রকাশের আগে দুটি বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন:

1. মূল প্রতিবেদনে লিন্ডে বাংলাদেশ ও ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্সের এনএভিপিএসের তারিখ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর পরিবর্তে ৩০ জুন ২০২৬ উল্লেখ আছে। সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিবেদন দেখে তারিখগুলো নিশ্চিত করুন।

2. প্রতিবেদনে সব কোম্পানির হিসাবকাল জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর ২০২৬ ধরা হয়েছে। কোম্পানিগুলোর প্রকৃত অর্থবছর ও প্রকাশিত প্রতিবেদনের হিসাবকাল মিলিয়ে নেওয়া উচিত।

অর্থনীতি এর আরও খবর

img

বঙ্গোপসাগরে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধান: চিরতরে বদলে যাবে বাংলাদেশের ভাগ্য

প্রকাশিত :  ১৫:১৬, ২৩ অক্টোবর ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বাড়ছে। বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধানে ২৬টি ব্লক নিয়ে ‘অফশোর বিডিং রাউন্ড ২০২৬’ চালু করেছে সরকার। এরই মধ্যে চীনের সিনোপেক ও সিএনওওসি ইন্টারন্যাশনাল এবং তুরস্কের টিপিএও দরপত্রের নথি সংগ্রহ করেছে। পাশাপাশি এক্সনমোবিল, বিপি, শেল, ইনি ও পেট্রোব্রাসের মতো বড় আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে পেট্রোবাংলা।

এই উদ্যোগ বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। তবে সমুদ্রের তলদেশে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য তেল-গ্যাসের মজুত পাওয়া যাবে কি না, তা অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক মূল্যায়নের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

২৬টি ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র

২০২৬ সালের ২৪ মে বাংলাদেশ সরকার বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য নতুন আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করে। এর আওতায় ২৬টি ব্লকের মধ্যে ১১টি অগভীর সমুদ্র এলাকায় এবং ১৫টি গভীর সমুদ্র এলাকায় অবস্থিত। বিদেশি জ্বালানি কোম্পানিগুলোকে এসব ব্লকে অনুসন্ধান ও সম্ভাব্য উৎপাদনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

প্রাথমিকভাবে দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল ৩০ নভেম্বর ২০২৬। তবে আন্তর্জাতিক কোম্পানিগুলোর অনুরোধের পর সরকার সময়সীমা চার মাস বাড়িয়ে ৩১ মার্চ ২০২৭ নির্ধারণ করেছে। একই সঙ্গে দরপত্রের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্যের প্যাকেজ আরও সহজলভ্য করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দরপত্রের শর্তে পরিবর্তন আনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছে সরকার। আগের কয়েকটি দরপত্র প্রক্রিয়ায় প্রত্যাশিত সাড়া না পাওয়ায় এবার অনুসন্ধান ও উৎপাদন অংশীদারত্বের শর্তগুলো আরও প্রতিযোগিতামূলক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

চীন ও তুরস্কের কোম্পানির অগ্রগতি

বঙ্গোপসাগরে অনুসন্ধানের জন্য চীনের রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সিনোপেক ও সিএনওওসি ইন্টারন্যাশনাল এবং তুরস্কের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি টিপিএও দরপত্রের নথি সংগ্রহ করেছে। পেট্রোবাংলার তথ্যের বরাত দিয়ে প্রকাশিত সংবাদে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানগুলো অনুসন্ধান-সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথি সংগ্রহ করে সম্ভাব্য ব্লকগুলোর ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য মূল্যায়নের দিকে এগোচ্ছে।

দরপত্রের নথি সংগ্রহ করা অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় আগ্রহের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলেও এর অর্থ এই নয় যে প্রতিষ্ঠানগুলো ইতিমধ্যে কোনো ব্লকে কাজ করার চূড়ান্ত চুক্তি করেছে। চূড়ান্ত দরপত্র, মূল্যায়ন এবং চুক্তির প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই অংশগ্রহণের পরবর্তী ধাপ স্পষ্ট হবে।

পশ্চিমা কোম্পানিগুলোকেও আকৃষ্ট করার চেষ্টা

বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় অনুসন্ধানে পশ্চিমা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক কোম্পানিকে যুক্ত করার উদ্যোগও চলছে। বিপি পেট্রোবাংলার কাছে দরপত্রের নথির অর্থ পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং তথ্য চেয়েছিল। অন্যদিকে, এক্সনমোবিল, শেল, ইনি ও পেট্রোব্রাসের মতো কোম্পানির প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা এবং তাদের আগ্রহ তৈরির চেষ্টা চলছে।বাংলাদেশ অর্থনীতি

তবে কোনো কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা, তথ্য সংগ্রহ বা দরপত্রের নথি কেনাকে চূড়ান্ত বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের সমান হিসেবে দেখা ঠিক হবে না। বাংলাদেশের অফশোর অনুসন্ধানে কোন কোম্পানি শেষ পর্যন্ত দরপত্র জমা দেবে এবং কোন ব্লক পাবে, তা পরবর্তী প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।

এলএনজি আমদানি নির্ভরতা কমানোর সম্ভাবনা

বাংলাদেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে দেশীয় প্রাকৃতিক গ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কমে গেলে আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) ওপর নির্ভরতা বাড়ে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্য ওঠানামা এবং বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয়ের প্রভাব দেশের জ্বালানি খাতে পড়ে।

বঙ্গোপসাগরে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার ও সেখান থেকে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হলে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো, শিল্প-কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো এবং দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে অনুসন্ধান, মূল্যায়ন, উন্নয়ন এবং উৎপাদন শুরু করতে দীর্ঘ সময় ও বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন হতে পারে।

সম্ভাবনার পাশাপাশি রয়েছে অনিশ্চয়তা

মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ বঙ্গোপসাগরে নিজের সামুদ্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু সমুদ্রসীমার ওপর অধিকার থাকা এবং সেখানে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য জ্বালানি মজুত পাওয়া—দুটি ভিন্ন বিষয়।

কোনো অঞ্চলে গ্যাসের ভূতাত্ত্বিক সম্ভাবনা থাকলেই সেখানে নিশ্চিতভাবে বড় গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। অনুসন্ধান কূপ খনন, নমুনা বিশ্লেষণ এবং বাণিজ্যিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের মাধ্যমে মজুত ও উৎপাদন ব্যয় নির্ধারণ করতে হয়।

সব মিলিয়ে বঙ্গোপসাগরের ২৬টি ব্লকে আন্তর্জাতিক দরপত্র বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। চীন, তুরস্ক ও পশ্চিমা কোম্পানিগুলোর আগ্রহ শেষ পর্যন্ত কার্যকর চুক্তি ও অনুসন্ধান কার্যক্রমে রূপ নিলে দেশীয় জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ নিতে দরপত্রের ফলাফল, অনুসন্ধানের সাফল্য এবং বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক মজুত আবিষ্কারের ওপর নির্ভর করবে।

অর্থনীতি এর আরও খবর