img

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পাশে থাকতে খুবই আগ্রহী: অর্থমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১০:৪০, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:৪৩, ১৩ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পাশে থাকতে খুবই আগ্রহী: অর্থমন্ত্রী

বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণসহায়তা পেতে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনা ও পরবর্তী প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।

মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। এটা একটা আলোচনা। এই আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এটি একটি প্রক্রিয়া, যা আগামী কয়েক মাস চলবে।’

তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুই পক্ষের করণীয় নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে ঢাকায়ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতি, কর্মসূচি এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সমঝোতা রয়েছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের গৃহীত নীতির সঙ্গেও সংস্থাটি একমত।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে ছিল। আগের সময়ের বিভিন্ন দায়দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এসব বিষয় বিশ্বব্যাংক অনুধাবন করছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পাশে থাকতে খুবই আগ্রহী। আমরা যে নীতি গ্রহণ করেছি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পর আগামী দিনের জন্য যে অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও গতিপথ নির্ধারণ করেছি, তার সঙ্গে বিশ্বব্যাংক পুরোপুরি একমত।’

বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বিভিন্ন সুপারিশ ও পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশও নিজেদের প্রস্তাব তুলে ধরেছে।

মূল্যস্ফীতি ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার অন্য কোনো সংস্থার প্রক্ষেপণকে বিতর্কিত করতে চায় না। সংস্থাগুলো নিজস্ব হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এসব পূর্বাভাস দিয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার বাজেটে নির্ধারিত অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে। বাজেটে দেওয়া প্রক্ষেপণগুলো পূরণ করা সম্ভব হবে বলেও সরকার আশা করছে।


অর্থনীতি এর আরও খবর

img

বিশেষ সুবিধা পেল বেক্সিমকোর দুই খেলাপি প্রতিষ্ঠান

প্রকাশিত :  ১৮:৫৭, ১২ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক ঋণখেলাপি বেক্সিমকো গ্রুপের দুই প্রতিষ্ঠানকে নতুন করে বিশেষ সুবিধা দিয়েছে । সোনালী ব্যাংকে শাইনপুকুর সিরামিকসের ১০৫ কোটি টাকার চলতি মূলধন সীমা আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত নবায়ন করতে বলা হয়েছে। আর ন্যাশনাল ব্যাংকে বেক্সিমকো এলপিজির অনুকূলে এলসি খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আজ সোমবার এ বিষয়ে আলাদা দু’টি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শাইনপুকুর সিরামিকস্ লিমিটেডের ঋণ খেলাপি হওয়ার পরও সোনালী ব্যাংকে প্রতিষ্ঠানটির চলতি মূলধন সীমা ১০৫ কোটি টাকা নবায়নের ক্ষেত্রে আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭কক(৩) ধারা কার্যকর হবে না। রাষ্ট্রীয় স্বার্থে ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১২১ ধারার ক্ষমতা বলে এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর আগে গত ১৭ আগস্ট অপর এক নির্দেশনার মাধ্যমে শতভাগ মার্জিনে শাইনপুকুর সিরামিকসের ঋণপত্র খোলার অনুমোদন দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

সোমবারের অপর এক প্রজ্ঞাপনে শতভাগ মার্জিনের বিপরীতে ন্যাশনাল ব্যাংকে বেক্সিমকো এলপিজির এলসি খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগামী বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সুযোগ পাবে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশ ব্যাংক উভয় প্রতিষ্ঠানকে সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে দু’টি শর্ত দিয়েছে। প্রথমত, এই সুবিধার বিপরীতে সরকারের কোনো দায় সৃষ্টি হবে না। আর সকল আয় একটি নির্দিষ্ট হিসাবে জমা রাখতে হবে। সেখান থেকে আনুপাতিক হারে পাওনা পরিশোধ হবে।

কোনো ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানকে ব্যাংকিং সুবিধা দেওয়ার ওপর ব্যাংক কোম্পানি আইনের ২৭কক(৩) ধারায় নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সরকারের সাথে পরামর্শ করে এই ধারা থেকে অব্যাহতি দিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বেক্সিমকো ছাড়াও সম্প্রতি আরও কয়েকটি ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানকে একই রকম সুবিধা দেওয়া হয়েছে।


অর্থনীতি এর আরও খবর