img

তাহসিফের সঙ্গে থাকা তরুণী দিশা গ্রেফতার

প্রকাশিত :  ০৮:০৮, ০১ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১২:৪০, ০১ নভেম্বর ২০২৬

তাহসিফের সঙ্গে থাকা তরুণী দিশা গ্রেফতার

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় নতুন মোড় নিয়েছে তদন্ত। এ ঘটনায় তার বান্ধবী দিশাকে গ্রেফতার করেছে নৌ পুলিশ।

নৌ পুলিশ ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাতে দিশাকে গ্রেফতার করা হয়।

একই দিন মধ্যরাত থেকে রিমান্ডে থাকা দীপকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এদিকে সাউরির মৃত্যুর পেছনে ‘বন্ধু’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

জানা গেছে, তাহসিফের পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তার সার্বক্ষণিক সঙ্গী জুনিয়র বন্ধু দীপকে প্রথমে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এসময় তাহসিফের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত এবং সেসব স্থানে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে তথ্য দেন দীপ। 

নৌ পুলিশ ঢাকা অঞ্চলের পুলিশ সুপার মামুন বলেন, তাহসিফ সাউরির মৃত্যুতে দীপের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক কিছু প্রমাণ পেয়েছি। রিমান্ডে তাকে আরও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্তের স্বার্থে আমরা এই মুহূর্তে এর বেশি কিছু প্রকাশ করতে পারছি না।

গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। নিজের মোটরসাইকেল নিয়েই বেরিয়েছিলেন তিনি। পরদিন ২৮ অক্টোবর বিকেলে উত্তরখানের রাজাবাড়ী ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ।

এর আগে দীপ দাবি করেছিলেন, তাহসিফের সঙ্গে একটি রেস্তোরাঁয় রাতের খাবার খাওয়ার পর উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকায় তাদের বিচ্ছেদ হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের বাসা থেকে দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, মাদক বিক্রির স্থান হিসেবে পরিচিত ওই এলাকায় মধ্যরাতে তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার বিষয়টি দীপ স্বীকার করেছেন। পরে পিবিআই কর্মকর্তারা তাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলও পরিদর্শন করেন। শুক্রবার রাতে তাহসিফের বাবা হত্যা মামলা দায়ের করলে দীপকে গ্রেফতার দেখানো হয়।


জাতীয় এর আরও খবর

img

গাজীপুর-সাভারের ১৭৭ কারখানায় ছুটি ঘোষণা

প্রকাশিত :  ১৩:১১, ০১ নভেম্বর ২০২৬

তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকার আশুলিয়া ও সাভারে শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে প্রায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কায় শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও কারখানার সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।

সন্ধ্যা সোয়া ৬টার সময় কালবেলাকে তিনি বলেন, সাভার-আশুলিয়ায় দিনের বিভিন্ন সময় ১৭৭ কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

এর আগে, সাভারে সকালে অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও পাঁচটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কারখানার ভেতরে অবস্থান করেন। পরে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে আশুলিয়ার নরসিংহপুরসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিল্পাঞ্চল পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, সকালে নিশ্চিন্তপুর এলাকার আল-মুসলিম অ্যাপারেলস, নিউএইজ গ্রুপের একটি কারখানা এবং ট্রাউজার লাইন লিমিটেডের শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রাখেন। তারা কারখানার ভেতরে অবস্থান করে বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

বেলা পৌনে ১১টার দিকে নরসিংহপুর এলাকায় শারমিন গ্রুপের কারখানার সামনে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নেন কয়েকটি কারখানার একদল শ্রমিক। এ সময় তারা বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্প পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরে এক পাশে অবস্থান নেওয়ার অনুরোধ জানায়। পরে শ্রমিকেরা সড়কের পাশে অবস্থান নিয়ে শারমিন গ্রুপের শ্রমিকদেরও তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেলা ১২টার দিকে শারমিন গ্রুপের কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। একই এলাকায় হা-মীম গ্রুপ, নিউএইজ গ্রুপসহ আশপাশের একাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অর্ধশতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্পাঞ্চল পুলিশ।

এদিকে, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার রতনপুর এলাকার করনী নিট কম্পোজিট, নিট এশিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে সফিপুর বাজার এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন। তাদের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে আশপাশের বিভিন্ন কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এর কিছুক্ষণ পর একই এলাকায় ট্রপিক্যাল নামের একটি পোশাক কারখানার ঝুটের গোডাউনে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

শ্রমিক আন্দোলনের কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বাধার মুখে পড়েন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ট্রপিক্যাল কারখানার গোডাউনে আগুন দেওয়ার খবর পেয়েছেন তারা। তবে শ্রমিক আন্দোলনের কারণে ঘটনাস্থলে যেতে পারছেন না।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।



জাতীয় এর আরও খবর