img

গাজীপুর-সাভারের ১৭৭ কারখানায় ছুটি ঘোষণা

প্রকাশিত :  ১৩:১১, ০১ নভেম্বর ২০২৬

গাজীপুর-সাভারের ১৭৭ কারখানায় ছুটি ঘোষণা

তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ব্ল্যাকলিস্টিং বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে ঢাকার আশুলিয়া ও সাভারে শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। এ পরিস্থিতিতে প্রায় ১৭৭ কারখানায় ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। শ্রমিক অসন্তোষের আশঙ্কায় শিল্পাঞ্চলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও কারখানার সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া।

সন্ধ্যা সোয়া ৬টার সময় কালবেলাকে তিনি বলেন, সাভার-আশুলিয়ায় দিনের বিভিন্ন সময় ১৭৭ কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

এর আগে, সাভারে সকালে অধিকাংশ কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও পাঁচটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রেখে কারখানার ভেতরে অবস্থান করেন। পরে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে আশুলিয়ার নরসিংহপুরসহ আশপাশের শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও শিল্পাঞ্চল পুলিশের কর্মকর্তারা জানান, সকালে নিশ্চিন্তপুর এলাকার আল-মুসলিম অ্যাপারেলস, নিউএইজ গ্রুপের একটি কারখানা এবং ট্রাউজার লাইন লিমিটেডের শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ রাখেন। তারা কারখানার ভেতরে অবস্থান করে বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করেন।

বেলা পৌনে ১১টার দিকে নরসিংহপুর এলাকায় শারমিন গ্রুপের কারখানার সামনে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল সড়কে অবস্থান নেন কয়েকটি কারখানার একদল শ্রমিক। এ সময় তারা বেতন বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে শিল্প পুলিশ শ্রমিকদের সড়ক থেকে সরে এক পাশে অবস্থান নেওয়ার অনুরোধ জানায়। পরে শ্রমিকেরা সড়কের পাশে অবস্থান নিয়ে শারমিন গ্রুপের শ্রমিকদেরও তাদের সঙ্গে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বেলা ১২টার দিকে শারমিন গ্রুপের কারখানায় ছুটি ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। একই এলাকায় হা-মীম গ্রুপ, নিউএইজ গ্রুপসহ আশপাশের একাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়। পরে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে অর্ধশতাধিক কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে শিল্পাঞ্চল পুলিশ।

এদিকে, গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার রতনপুর এলাকার করনী নিট কম্পোজিট, নিট এশিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজে যোগ না দিয়ে সফিপুর বাজার এলাকায় মহাসড়কে অবস্থান নেন। তাদের বিক্ষোভের পরিপ্রেক্ষিতে আশপাশের বিভিন্ন কারখানায় ছুটি ঘোষণা করা হয়।

বেলা সাড়ে ১১টার দিকে চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় একটি পিকআপ ভ্যানে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এর কিছুক্ষণ পর একই এলাকায় ট্রপিক্যাল নামের একটি পোশাক কারখানার ঝুটের গোডাউনে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

শ্রমিক আন্দোলনের কারণে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বাধার মুখে পড়েন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। কালিয়াকৈর ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, চন্দ্রা পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় ট্রপিক্যাল কারখানার গোডাউনে আগুন দেওয়ার খবর পেয়েছেন তারা। তবে শ্রমিক আন্দোলনের কারণে ঘটনাস্থলে যেতে পারছেন না।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার আমজাদ হোসেন বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা চলছে। শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন।



জাতীয় এর আরও খবর

img

পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন সামলাতে জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৯:৪৫, ০১ নভেম্বর ২০২৬

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে পোশাকশ্রমিকদের চলমান বিক্ষোভ ও তীব্র অসন্তোষ মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণ করতে জরুরি বৈঠকে বসছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অর্থ, স্বরাষ্ট্র ও শ্রম মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীসহ ৬-৭ জন মন্ত্রী ও উপদেষ্টা মাহদী আমিনের অংশগ্রহণে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী দুদিন আগেই প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিলেও শ্রমিক প্রতিনিধির নাম তৈরিতে বিলম্ব হওয়ায় প্রক্রিয়াটি কিছুটা ধীরগতির হয়।

এর আগে একই দিন দুপুর সাড়ে ১১টার দিকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সরকারিভাবে পোশাকশ্রমিকদের জন্য একটি নতুন ‘মজুরি বোর্ড’ গঠনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হয়। বোর্ডের চেয়ারম্যান শেখ আশফাকুর রহমানকে মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধি এবং স্বাধীন সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরুর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, শ্রমিকদের মূল দাবি মেনে বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং শ্রমিকদের রাস্তা ছেড়ে অবিলম্বে কলকারখানায় ও নিজ নিজ কাজে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

তবে মজুরি বোর্ড গঠনের ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি কারখানায় অহেতুক ছুটি ঘোষণা এবং শ্রমিক উসকে দেওয়ার নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র দেখছে সরকার। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শ্রমমন্ত্রী অভিযোগ করেন, বিশেষ একটি নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক শ্রমিক সেজে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরির উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে কয়েকটি রাজনৈতিক দল শ্রমিকদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।



জাতীয় এর আরও খবর