img

বিক্ষোভ, কর্মবিরতি আজ ৬৮১ কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত

প্রকাশিত :  ০৪:২৯, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

বিক্ষোভ, কর্মবিরতি আজ ৬৮১ কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত

দেশের শিল্পাঞ্চলগুলোতে পোশাক শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে চলমান আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে। শ্রমিকদের বিক্ষোভ ও কর্মবিরতির কারণে সোমবার বিভিন্ন শিল্প এলাকার অন্তত ৬৮১টি কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যে ৬৭৯টি তৈরি পোশাক কারখানা। রবিবার উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল ৫২৯টি পোশাক কারখানায়।

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে গত সপ্তাহ থেকে সাভার, গাজীপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে আন্দোলন করছেন শ্রমিকরা। রবিবার পোশাকশ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে শ্রম মন্ত্রণালয়।

তবে বোর্ড গঠনের পরও শ্রমিক অসন্তোষ কমেনি। সোমবার গাজীপুর, সাভার, আশুলিয়া ও নারায়ণগঞ্জে বিক্ষোভ করেন শ্রমিকরা। কোথাও কোথাও পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনাও ঘটে।

তৈরি পোশাকশিল্পের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর তথ্য অনুযায়ী, আজ ৬৭৯টি পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা কাজ না করে বেরিয়ে যান।

এর মধ্যে মিরপুরের ৬৫টি, গাজীপুরের ৩৮২টি এবং সাভার, আশুলিয়া ও জিরানি এলাকার ৯টি কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় কর্মরত শ্রমিকের সংখ্যা ১৬ লাখ ৯২ হাজার ৭৮২ জন।

এ ছাড়া গাজীপুরের কালিয়াকৈরে একটি দেশীয় জুতার কারখানায় উৎপাদন শুরু হলেও সকাল ৯টার দিকে আন্দোলনকারীদের চাপে শ্রমিকদের ছুটি দিতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ। আশুলিয়ার পিকার্ড বাংলাদেশের উৎপাদনও ব্যাহত হয়েছে।

শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সোমবার সকালে সচিবালয়ে মালিকপক্ষের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

বিকেলে শ্রমিকনেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

বিষয়ে বিজিএমইএর সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, কারখানা বন্ধ রাখার ইচ্ছা তাঁদের নেই, তবে পরিস্থিতির কারণে উৎপাদন চালানো সম্ভব হচ্ছে না। মঙ্গলবার কারখানা চালু রাখার চেষ্টা করবেন তারা। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শ্রমিকনেতাসহ সংশ্লিষ্ট সবার প্রচেষ্টায় পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

জাতীয় এর আরও খবর

img

বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা ও সংঘাত বাড়ছে, সতর্ক করলেন রাজা চার্লস

প্রকাশিত :  ১৭:৫১, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সামরিক সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি দুর্বল হয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লস। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ ধ্বংস এবং প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনকে বর্তমান সময়ের বড় সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডায় ২৮তম কমনওয়েলথ সরকারপ্রধানদের সম্মেলনের (সিএইচওজিএম) উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন ব্রিটিশ রাজা।

চার্লস বলেন, ‘আন্তর্জাতিক নিয়মনীতি ও ব্যবস্থাগুলো যখন চরম পরীক্ষার মুখে, তখন নৃশংস সংঘাত আমাদের বিশ্বকে গ্রাস করছে। এসব সংঘাত মানুষের জীবন ধ্বংস করছে এবং বিশ্বজুড়ে দীর্ঘস্থায়ী নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।’

তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশের ধ্বংস এবং প্রযুক্তির দ্রুত রূপান্তর একসঙ্গে মানবজাতির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এসব সংকটকে তিনি ‘আমাদের সময়ের সংকট’ হিসেবে অভিহিত করেন।

বিশ্বের অভিন্ন সমস্যাগুলো মোকাবিলায় কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান ব্রিটিশ রাজা। তার মতে, অংশীদারত্ব, বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মাধ্যমে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে এই সংস্থা।

বক্তব্যে আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে পরিচালিত দাস ব্যবসার ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার নিয়েও কথা বলেন তৃতীয় চার্লস। তিনি স্বীকার করেন, দাস ব্যবসার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব এখনো ক্যারিবীয় অঞ্চলসহ কমনওয়েলথের বিভিন্ন দেশের সমাজে রয়ে গেছে।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের সেই লজ্জাজনক অধ্যায় আমার হৃদয়কে আতঙ্কিত করে এবং আমার আত্মাকে গভীর ব্যক্তিগত বেদনায় পূর্ণ করে।’

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

জাতীয় এর আরও খবর