img

শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

প্রকাশিত :  ০৮:১১, ০৩ নভেম্বর ২০২৬

ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে লাইভ মনিটরিং জোরদার

শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ১২ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন

গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জসহ পার্শ্ববর্তী শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষের প্রেক্ষাপটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং শিল্পকারখানার কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে ১২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। মোতায়েনকৃত সদস্যরা স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করছেন।

বর্তমানে গাজীপুরের সফিপুর, কালিয়াকৈর ও কোনাবাড়ি এলাকায় ১০ প্লাটুন এবং নারায়ণগঞ্জের চাষাড়া এলাকায় ২ প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছেন। পাশাপাশি আশুলিয়া, মিরপুরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি কার্যকরভাবে পর্যবেক্ষণ ও দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে প্রযুক্তিনির্ভর লাইভ মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিজিবি। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, সংযোগস্থল ও সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনরত বিজিবি সদস্যদের ব্যবহৃত বডি ওর্ন ক্যামেরার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যা দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেও সহায়ক ভূমিকা রাখছে।

বিজিবি সদর দপ্তরে স্থাপিত কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল থেকে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরার লাইভ ফুটেজ সরাসরি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি তাৎক্ষণিক মূল্যায়ন, সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর সঙ্গে সমন্বয় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদানের কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।

বিজিবি জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা, স্বাভাবিক চলাচল এবং শিল্পাঞ্চলের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সর্বোচ্চ পেশাদারত্ব, সংযম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার সঙ্গে সমন্বিত কার্যক্রম এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিবিড় পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে।

জাতীয় এর আরও খবর

img

পরীমণির জামিন বাতিল, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করলেন আদালত

প্রকাশিত :  ১৪:৫৯, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর ও ভাঙচুরের অভিযোগে দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় চিত্রনায়িকা পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রাহমান এই আদেশ দেন।

পরীমণির আইনজীবী গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, পরীমণি অ্যালার্জিজনিত সমস্যার কারণে আজ আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি।

আদালত সূত্রে জানা যায়, এ দিন এই মামলার বাদী আদালতে উপস্থিত হয়ে আসামিদের জামিন বাতিলের প্রার্থনা করেন। এ সময় আসামিপক্ষের কোনো আইনজীবী ছিলেন না। শুনানি শেষে আদালত আসামির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার নির্দেশ দেন।

এর আগে গত বছরের ২৬ জানুয়ারি এ মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। ওই দিন পরীমণির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। পরে আদালতে আত্মসমর্পণ করলে জামিন পান তিনি।

২০২৪ সালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পরীমণি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন মর্মে প্রতিবেদন দাখিল করেন। তবে আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি। পরে ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পিবিআইয়ের দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদন নেন আদালত। একই সঙ্গে পরীমণি ও তাঁর কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। এরপর তাঁরা ২৪ সালের ২৫ জুন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন পান।

এর আগে ২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমণিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন।

এ মামলার অন্য দুই আসামি হলেন পরীমণির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।

মামলায় নাসির উদ্দিন উল্লেখ করেন, পরীমণি ও তাঁর সহযোগীরা অ্যালকোহল সেবনে অভ্যস্ত। তাঁরা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন নামীদামি ক্লাবে ঢুকে অ্যালকোহল পান করেন এবং পার্সেল নিয়ে মূল্য পরিশোধ করেন না। পরীমণি তাঁর পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের দিয়ে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানির ভয় দেখান। ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে ঢোকেন এবং দ্বিতীয় তলার ওয়াশ রুম ব্যবহার করেন। পরে তাঁরা ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।

এতে আরও বলা হয়, বাদী (নাসির উদ্দিন মাহমুদ) ও তাঁর সহযোগী শাহ শহিদুল আলম রাত ১টা ১৫ মিনিটে যখন ক্লাব ত্যাগ করছিলেন, তখন পরীমণি উদ্দেশ্যমূলকভাবে নাসিরকে ডাক দেন। তাঁদের সঙ্গে কিছু সময় বসারও অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে পরীমণি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাসিরকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং একটি ব্লু লেবেল অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন। নাসির উদ্দিন এতে রাজি না হওয়ায় পরীমণি তাঁকে গালমন্দ করেন। নাসির ও আসামিদের মধ্যে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমণি বাদীর দিকে একটি সারভিং গ্লাস ছুড়ে মারেন এবং হাতে থাকা মোবাইল ফোনও ছুড়ে মারেন। এতে নাসির মাথায় ও বুকে আঘাতপ্রাপ্ত হন।

বাদী মামলায় আরও উল্লেখ করেন, পরীমণি ও তাঁর সহযোগীরা তাঁকে (নাসির উদ্দিনকে) মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়েছেন এবং বোট ক্লাবে ভাঙচুর করেছেন। এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য পরীমণি সাভার থানায় বাদী হয়ে নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ তুলে মামলা করেন।

জাতীয় এর আরও খবর