img

রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ডলার বিক্রি করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রকাশিত :  ১৪:৩৬, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:৩৮, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ডলার বিক্রি করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে নিলাম প্রক্রিয়ায় আরও ১০ কোটি ডলার বিক্রি করলো। দীর্ঘ সময় পর গত সপ্তাহে বিক্রি করা হয় আরও ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার। জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ার এ সময়ে বাজার ঠিক রাখতে ডলার বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। 

বুধবারের নিলামে একটি ব্যাংক একক বিডে ন্যূনতম ৫ লাখ ডলার কেনার আবেদন করতে বলা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবারও ১০ কোটি ডলার বিক্রির জন্য নিলাম ডাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেখানে অনেক ব্যাংক অংশ নিলেও শেষ সময়ে তা বাতিল করা হয়। কেন ওই নিলাম বাতিল করা হয়েছিল ব্যাংকগুলোকে তা জানানো হয়নি।

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগ পর্যন্ত তিন বছর রিজার্ভ থেকে প্রচুর ডলার বিক্রি করা হয়। যে কারণে ২০২১ সালের আগস্টে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর পেরোনো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। তবে ড. আহসান এইচ মনসুর গভর্নরের দায়িত্ব নিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন এক ডলারও বিক্রি করা হবে না। বর্তমান গভর্নর দায়িত্ব নিয়েও একই অবস্থান বজায় রাখেন। এতে করে রিজার্ভ বেড়ে গত ২৯ জুন ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। গত ১ সেপ্টেম্বর রিজার্ভ উঠে ৩৭ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার। সেখান থেকে আবার কমে গত মঙ্গলবার ৩৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ইসরাইলে ক্ষমতার পালাবদলের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে। যে কারণে বুধবার বিশ্ববাজারে তেল ও ডলারের দর কমেছে। বাংলাদেশেও চলমান পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা যায়।

দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর গত কয়েকদিন ধরে ডলারের দর বাড়ছে। চলতি সপ্তাহে আন্তঃব্যাংকে ১২৪ টাকা ছাড়িয়ে যায়। গত দুই দিন আন্তঃব্যাংকে ডলার বিক্রি হয়েছে ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সা। এর আগের দুই দিন বিক্রি হয় ১২৪ টাকা ৩০ পয়সা। এর আগে গত অক্টোবরের শুরুতে ডলারের দর ১২৩ টাকা ছিল। সেখান থেকে বাড়তে বাড়তে শেষ কর্মদিবসে তা ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সা হয়। আওয়ামী লীগ পতনের পর থেকে দেড় বছর ধরে আন্তঃব্যাংকে ডলারের দর ১২১ থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে স্থিতিশীল ছিল। চলতি বছরের মার্চের পর বাড়তে–বাড়তে এ পর্যায়ে এসেছে।

অর্থনীতি এর আরও খবর

img

৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প একনেকে অনুমোদন

প্রকাশিত :  ১১:২০, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয় সংবলিত ১৩টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে । এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৫০ হাজার ৪১ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৭ হাজার ৯৭৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৭৩ কোটি ৭ লাখ টাকা। 

বুধবার (৪ নভেম্বর) প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এসব প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে নতুন প্রকল্প ১১টি ও সংশোধিত প্রকল্প ২টি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন; আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও বিজ্ঞান ও প্রযু্ক্তি মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম; জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন; সড়ক পরিবহণ, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু; অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা সভায় অংশগ্রহণ করেন।

সভায় অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্প হলো: 

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের ৫টি প্রকল্প। ১. ‘বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন’ প্রকল্প। ২. ‘বরিশাল সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন খালগুলোর পাড় সংরক্ষণসহ পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন কাজ’ (১ম পর্ব) প্রকল্প। ৩. ‘ইনোভেশন ফর ক্লাইমেট স্মার্ট আরবান ডেভেলপমেন্ট’ প্রকল্প। ৪. ‘সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন (SIDP)’ প্রকল্প। ৫. ‘অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-০৩  (৩য় সংশোধিত)’। 

এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প— ‘বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য বিশেষায়িত যানবাহন ক্রয়’ এবং ‘বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অপারেশনাল যানবাহন ক্রয়’ প্রকল্প। 

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প ‘ঢাকা সেনানিবাসে মঈনুল রোড আবাসিক এলাকায় ‘বি’ টাইপ অফিসার্স বাসস্থান নির্মাণ’। 

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প ‘জিগাতলাস্থ গাবতলা কলোনীতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ’ প্রকল্প। 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প ‘দেশের ৫টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ইনস্টিটিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড এ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনমাস) স্থাপন’ প্রকল্প। 

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি ৫) প্রকল্প। 

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘তিতাস গ্যাস ফিল্ডে ২টি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ (তিতাস ৩২ ও ৩৩) খনন প্রকল্প’। 

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু/কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্প (৩য় সংশোধিত)’ অনুমোদন করা হয়েছে। 

এছাড়া সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সংবলিত ৫টি প্রকল্প সর্ম্পকে একনেক সভায় অবহিত করা হয়। সেগুলো হলো: ১. দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডশেন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হৃদরোগ চিকিৎসা সেবার আধুনিকীরণ। ২. দেশের শিশু কিশোরসহ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিতকরণ। ৩. ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার ট্রাফিক অবকাঠামো উন্নয়সহ সড়ক নিরাপত্তা প্রকল্প (১ম সংশোধিত)। ৪. ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাশক্তি নিরাময় কেন্দ্র সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণ (১ম সংশোধিত)। ৫. গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে আধুনিক যান-যন্ত্রপাতি সংগ্রহ প্রকল্প। 

অর্থনীতি এর আরও খবর