img

একদিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ৫,৪৮২ টাকা

প্রকাশিত :  ০৫:০৬, ০৫ নভেম্বর ২০২৬

একদিনের ব্যবধানে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম, ভরিতে ৫,৪৮২ টাকা

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে । এবার ভরিতে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা বাড়িয়ে ভ্যাটসহ ভালো মানের (২২ ক্যারেট) এক ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বাজুস। আজ সকাল ১০টা থেকেই নতুন এ দর কার্যকর হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে।

নতুন দর অনুযায়ী প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্যতালিকা (ভ্যাটসহ):

ক্যারেট/ক্যাটাগরি নতুন মূল্য (প্রতি ভরি)

২২ ক্যারেট ২,২৯,৬৬৪ টাকা

২১ ক্যারেট ২,১৯,৩৪২ টাকা

১৮ ক্যারেট ১,৮৮,৩৭৪ টাকা

সনাতন পদ্ধতি ১,৫৩,৮৪৮ টাকা

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী নির্ধারিত মজুরি প্রযোজ্য হবে। অলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট আগেই যুক্ত থাকায় ক্রেতাদের কাছ থেকে আলাদা করে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া অলঙ্কার পরিবর্তনের ক্ষেত্রে ১২ শতাংশ এবং ফেরত দেওয়ার ক্ষেত্রে ১৮ শতাংশ অর্থ বাদ দিতে হবে।

এর আগে গতকাল বুধবার (৪ নভেম্বর) সকালে ভরিতে ৩ হাজার ৩২৪ টাকা বৃদ্ধি করেছিল বাজুস। একদিনের ব্যবধানে আজ ফের বড় অঙ্কের এই মূল্যবৃদ্ধি ঘটল। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ১৩৩ বার সমন্বয় করা হলো; যার মধ্যে ৬৫ বার বেড়েছে, ৬৭ বার কমেছে এবং ১ বার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে।

স্বর্ণের দামে বড় লাফ দিলেও বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা, ২১ ক্যারেট ৩ হাজার ৩৮৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ হাজার ৯১৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ২ হাজার ২১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

অর্থনীতি এর আরও খবর

img

রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ডলার বিক্রি করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রকাশিত :  ১৪:৩৬, ০৪ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৪:৩৮, ০৪ নভেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশ ব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে নিলাম প্রক্রিয়ায় আরও ১০ কোটি ডলার বিক্রি করলো। দীর্ঘ সময় পর গত সপ্তাহে বিক্রি করা হয় আরও ১২ কোটি ২০ লাখ ডলার। জ্বালানিসহ বিভিন্ন পণ্য আমদানিতে ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ার এ সময়ে বাজার ঠিক রাখতে ডলার বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। 

বুধবারের নিলামে একটি ব্যাংক একক বিডে ন্যূনতম ৫ লাখ ডলার কেনার আবেদন করতে বলা হয়। এর আগে গত মঙ্গলবারও ১০ কোটি ডলার বিক্রির জন্য নিলাম ডাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেখানে অনেক ব্যাংক অংশ নিলেও শেষ সময়ে তা বাতিল করা হয়। কেন ওই নিলাম বাতিল করা হয়েছিল ব্যাংকগুলোকে তা জানানো হয়নি।

২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের আগ পর্যন্ত তিন বছর রিজার্ভ থেকে প্রচুর ডলার বিক্রি করা হয়। যে কারণে ২০২১ সালের আগস্টে ৪৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর পেরোনো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ২৫ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। তবে ড. আহসান এইচ মনসুর গভর্নরের দায়িত্ব নিয়ে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন এক ডলারও বিক্রি করা হবে না। বর্তমান গভর্নর দায়িত্ব নিয়েও একই অবস্থান বজায় রাখেন। এতে করে রিজার্ভ বেড়ে গত ২৯ জুন ৩৭ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করে। গত ১ সেপ্টেম্বর রিজার্ভ উঠে ৩৭ দশমিক ৪১ বিলিয়ন ডলার। সেখান থেকে আবার কমে গত মঙ্গলবার ৩৬ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ও ইসরাইলে ক্ষমতার পালাবদলের প্রেক্ষাপটে বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার আশা তৈরি হয়েছে। যে কারণে বুধবার বিশ্ববাজারে তেল ও ডলারের দর কমেছে। বাংলাদেশেও চলমান পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা যায়।

দীর্ঘদিন স্থিতিশীল থাকার পর গত কয়েকদিন ধরে ডলারের দর বাড়ছে। চলতি সপ্তাহে আন্তঃব্যাংকে ১২৪ টাকা ছাড়িয়ে যায়। গত দুই দিন আন্তঃব্যাংকে ডলার বিক্রি হয়েছে ১২৪ টাকা ৩৫ পয়সা। এর আগের দুই দিন বিক্রি হয় ১২৪ টাকা ৩০ পয়সা। এর আগে গত অক্টোবরের শুরুতে ডলারের দর ১২৩ টাকা ছিল। সেখান থেকে বাড়তে বাড়তে শেষ কর্মদিবসে তা ১২৩ টাকা ৯৯ পয়সা হয়। আওয়ামী লীগ পতনের পর থেকে দেড় বছর ধরে আন্তঃব্যাংকে ডলারের দর ১২১ থেকে ১২২ টাকা ৩০ পয়সার মধ্যে স্থিতিশীল ছিল। চলতি বছরের মার্চের পর বাড়তে–বাড়তে এ পর্যায়ে এসেছে।

অর্থনীতি এর আরও খবর