শেখ হাসিনাকে ফেরাতে আইনগত প্রক্রিয়ায় আছি, এখানে আবেগের স্থান নেই: আইনমন্ত্রী
প্রকাশিত :
০৮:১৭, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
ক্ষমতাচ্যুত ও পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনগত প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এ বিষয়ে কোনো আবেগ নয়, বরং রাষ্ট্রীয় আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত ‘বিচারিক কার্যক্রমে শুদ্ধাচার’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকেরা জানতে চান—শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারের সঙ্গে কোনো আইনি লড়াই চালানো হবে কি না। জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার বিষয়ে আইনগতভাবে যা যা করণীয়, সেটা আমরা ডিউ প্রসেসে করছি। সেখানে আমাদের যা ডিল করা হবে তা হবে সম্পূর্ণ আইনসংগতভাবে। আপনারা দেখবেন যখনই কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সেখানে ইমোশনের কোনো বিষয় থাকবে না; বিষয় হলো, আমি আমার আইনটাকে যথাযথভাবে প্রয়োগ করব।
ভারতের আদালতের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এটা একান্তই ভারত সরকারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবে দ্বিপক্ষীয় বন্দিবিনিময় চুক্তির আওতায় আমরা ইতিমধ্যে তাদের কাছে হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছি। তারা তাকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করলে আমরা আইনের নিয়মে যেভাবে আদালতে সোপর্দ করা দরকার, ঠিক সেভাবেই করব।
ভারত শেখ হাসিনাকে বন্দি হিসেবে না দেখে ‘রাষ্ট্রীয় অতিথি’ হিসেবে বিবেচনা করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, ভারত কী বলছে, তারা বললেই তো আর বাস্তবতা বদলে যাবে না! আমার রাষ্ট্রে উন্মুক্ত আদালতে তার বিচার হয়েছে। আমাদের কাছে তিনি একজন অপরাধী—দেশের ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক ঘোষিত সাজাপ্রাপ্ত একজন অপরাধী, এটাই হলো আমাদের কাছে তার চূড়ান্ত পরিচয়।”
প্রায় দুই দশক পর সিলেট আসছেন শায়খুল ইসলাম মুফতি তাকি উসমানী
প্রকাশিত :
১৭:০৫, ০৮ নভেম্বর ২০২৬
২৫ নভেম্বর সিলেটে জামেয়াতুল খাইর এর উদ্যোগে আন্তর্জাতিক ইসলামী মহাসম্মেলন
বিশ্ববরেণ্য আলেম, জগদ্বিখ্যাত ফকিহ ও শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ ইসলামী মনীষী শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলানা মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানী দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর আগামী ২৫ নভেম্বর পুণ্যভূমি সিলেটে আগমন করছেন। তাঁর এই সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটসহ দেশের ধর্মপ্রাণ মুসলমান, উলামায়ে কেরাম ও দ্বীনি অঙ্গনে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।
সিলেটের প্রথম স্বতন্ত্র উচ্চতর গবেষণামূলক দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামেয়াতুল খাইর আল ইসলামিয়া সিলেটের উদ্যোগে এ সফরের আয়োজন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান পরিচালক মুফতি আবদুল মুনতাকিম দীর্ঘদিন ধরে শায়খুল ইসলাম মুফতি মুহাম্মদ তকী উসমানীকে সিলেট ও বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে আসছিলেন। এ উদ্দেশ্যে তিনি বিভিন্ন সময়ে সরাসরি সাক্ষাৎ করেও তাঁকে সিলেটে আগমনের অনুরোধ জানান। গত বছরও তাঁর সফরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে কিছু অনিবার্য কারণে সে সফর স্থগিত হয়ে যায়।
অবশেষে এ বছর মুফতি তাকী উসমানীর সম্মতি ও আগ্রহে চলতি নভেম্বর মাসে তাঁর সিলেট সফরের দিনক্ষণ নির্ধারিত হয়েছে। দ্বীনি মাদ্রাসাগুলোর বার্ষিক পরীক্ষার সময়সূচি বিবেচনায় রেখে নভেম্বর মাসকে সফরের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে। সফরকালে বাংলাদেশের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীনি ও ইসলামী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করবেন শায়খুল ইসলাম মুফতি তাকি উসমানী।
এ উপলক্ষে আগামী ২৫ নভেম্বর বুধবার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে জামেয়াতুল খাইর আল ইসলামিয়ার উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হবে এক আন্তর্জাতিক ইসলামী মহাসম্মেলন। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে উলামায়ে কেরাম, মাদ্রাসার শিক্ষক-শিক্ষার্থী, মসজিদের ইমাম-খতিব, ইসলামী চিন্তাবিদ ও সর্বস্তরের ধর্মপ্রাণ মুসলমানের ব্যাপক সমাগম প্রত্যাশা করা হচ্ছে।মুফতি আব্দুল মুনতাকিম বলেন, \"শায়খুল ইসলাম মুফতি মুহাম্মদ তাকী উসমানী সমকালীন মুসলিম বিশ্বের এক অনন্যসাধারণ ইসলামী ব্যক্তিত্ব। আরব-আজমে বর্তমান সময়ের শ্রেষ্ঠ ইসলামী স্কলার হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। ইলম, ফিকহ, গবেষণা, লেখনী, ইসলাহী মেহনত ও উম্মাহর পথনির্দেশনায় তাঁর অবদান বিশ্বব্যাপী স্মরণীয়। এমন একজন মহান মনীষীর সান্নিধ্য লাভ এবং তাঁর কাছ থেকে ইলমি ও আমলি দিকনির্দেশনা গ্রহণের সুযোগ আমাদের জন্য এক বিরাট নেয়ামত।\"
তিনি আরও বলেন, \"দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর তাঁর সিলেট আগমন আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও সৌভাগ্যের বিষয়। বয়স ও শারীরিক বাস্তবতার কারণে ভবিষ্যতে তাঁর এ ধরনের সফরের সুযোগ কতটা পাওয়া যাবে, তা বলা কঠিন। তাই এই সফরকে আমরা অত্যন্ত মূল্যবান ও ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতে চাই। উলামায়ে কেরাম, মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষক, মসজিদের ইমাম-খতিব, আধুনিক শিক্ষিত সমাজ এবং সর্বস্তরের মুসলমান যেন এ সুযোগের যথাযথ মূল্যায়ন করেন। তাঁর সান্নিধ্য থেকে উপকৃত হন, তাঁর ইলমি আলোচনা ও দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেন এবং যথাযোগ্য সম্মান ও ভালোবাসার সঙ্গে তাঁকে বরণ করে নেন—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।\"
মুফতি আব্দুল মুনতাকিম সিলেট বিভাগের সর্বস্তরের উলামায়ে কেরামের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি শুধু একটি সাধারণ সম্মেলন নয়; বরং সমকালীন মুসলিম বিশ্বের একজন শীর্ষস্থানীয় আলেম ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় ফকিহের সান্নিধ্য লাভের এক বিরল সুযোগ। তাই দল-মত, শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সবাইকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও আন্তরিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ সম্মেলনকে সিলেটের ইতিহাসে স্মরণকালের বৃহত্তম ও স্মরণীয় ইসলামী সমাবেশে পরিণত করতে হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সিলেটের সর্বস্তরের উলামায়ে কেরাম, মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, মসজিদের ইমাম-খতিব, ইসলামী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং সাধারণ মুসলমান সম্মেলনে ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করে শায়খুল ইসলাম মুফতি মুহাম্মদ তকী উসমানীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবেন।
উল্লেখ্য, আগামী ২৫ নভেম্বর বুধবার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে অনুষ্ঠিতব্য এ আন্তর্জাতিক ইসলামী মহাসম্মেলনকে ঘিরে ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিকেল ৩ ঘটিকা থেকে ৯ ঘটিকা পর্যন্ত এ সম্মেলনের শুরুতে পাকিস্তান মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের মহাসচিব আল্লামা হানিফ জালন্ধরীও গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য পেশ করবেন। এছাড়াও দেশ বিদেশের শীর্ষস্থানীয় উলামায়ে কেরাম ও ইসলামী চিন্তাবিদ গন এ মহা সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, সর্বস্তরের মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এ সম্মেলন সিলেটের দ্বীনি অঙ্গনে এক স্মরণীয় অধ্যায়ের সূচনা করবে।