img

ভারতে করোনার নতুন হানা, কতটা ভয়ানক?

প্রকাশিত :  ০৪:২২, ২১ ডিসেম্বর ২০২৩
সর্বশেষ আপডেট: ০৪:৩৩, ২১ ডিসেম্বর ২০২৩

ভারতে করোনার নতুন হানা, কতটা ভয়ানক?

ভারতে নতুন করে কোভিড হানা দিয়েছে। বাড়ছে কোভিড মৃত্যুও। গত ২৪ ঘণ্টায় ৩ জন কোভিড আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে। তিনজনই দক্ষিণের রাজ্য কেরল থেকে। সব মিলিয়ে এখন সারা দেশে কোভিড - মৃত্যুর সংখ্যা ৫,৩৩,৩২১।

বুধবার সকাল ৮ টা অবধি পাওয়া তথ্য অনুসারে এখনও পর্যন্ত ঐদেশে কোভিড আক্রান্ত হয়েছে ৪.৫ কোটি মানুষ (4,50,05,978)। করোনা থেকে সেরে উঠেছেন ৪,৪৪,৭০,৩৪৬। এখন কোভিড থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার হারও বেশ ভাল ৯৮.৮১ শতাংশ। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুসারে, কোভিড মৃত্যুর পরিমান ১.১৯ শতাংশ। কেন্দ্রের দাবি, এখনও সারা দেশে ২২০.৬৭ কোটি কোভিড টিকার ডোজ দেওয়া হয়েছে। 

ফের কোভিড হানা ও মৃত্যু ঘটনায় তড়িঘড়ি বৈঠকে বসে কেন্দ্রীয় সরকার। তারপর নির্দেশিকা পৌঁছে যায় রাজ্যে রাজ্যে। কেন্দ্রীয় সরকারের সতর্কবার্তার পর, করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট নিয়ে উদ্বিগ্ন রাজ্য সরকার। এই নিয়ে রাজ্যের প্রশাসনিক হেড কোয়ার্টার নবান্নে মুখ্যসচিবের সঙ্গে বৈঠক করেন স্বাস্থ্যসচিব। মুখ্যসচিবের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে রিপোর্ট। স্বাস্থ্য ভবন সূত্রের খবর, বুধবার মুখ্যসচিবের নেতৃত্বে হবে বৃহত্তর বৈঠক। শহরে ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে বর্ষবরণের প্রস্তুতি। সামনেই রয়েছে ক্রিসমাস। তাই জনসমাগম নিয়ে উদ্বিগ্ন রাজ্য। এর মধ্যেই আবার কোভিড-সতর্কতা। 

এর আগে ২০২২ সালে ক্রিসমাসের পর তৃতীয় ঢেউয়ের প্রাবল্য দেখেছিল ভারত। এবারও বড়দিনের উৎসবের আবহেই করোনা কেসগুলি ধরা পড়ছে। তাই নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কতটা খতরনাক এই  JN.1 সাব ভ্যারিয়েন্ট ?

কেরলে  COVID-19 সাব-ভেরিয়েন্ট JN.1-এর প্রথম ধরা পড়ে কেরলে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বীনা জর্জ বলেন, এটি এখনও উদ্বেগের কারণ নয়। তিনি বলেন, “ চিন্তার নও দরকার নেই। এটি একটি সাব-ভেরিয়েন্ট। '

কয়েক মাস আগে, সিঙ্গাপুর বিমানবন্দরে স্ক্রিনিং এর সময় , কয়েকজন ভারতীয়ের মধ্যে এই সাব ভ্যারিয়েন্টটি পাওয়া যায়।  কেরলে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমেJN.1-এর প্রথম কেসটি ধরা পড়ে। পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে আশ্বাস দেন মন্ত্রী। 

দিল্লির গঙ্গা রাম হাসপাতালের চিকিৎসক ডাঃ উজ্জ্বল প্রকাশ  বলেন, ' আরও সতর্ক হতে হবে। আমি মনে করি না যে শুধু সতর্ক থাকা ছাড়া আতঙ্কিত হওয়ার বা অতিরিক্ত কিছু করার কারণ আছে। ' 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা রবিবার জানায় ভাইরাসটি পরিবর্তিত হয়ে নতুন রূপে হানা দিচ্ছে। WHO কোভিড দেখা গিয়েছে এমন দেশগুলিকে আরও শক্তিশালী নজরদারি চালানোর পরামর্শ দিয়েছে। সেই সঙ্গে বড়দিনের  ছুটির মরসুমে  পরিবার এবং বন্ধুদের নিরাপদ রাখতে আরও সতর্ক থাকতে বলেছে ও WHO-এর জনস্বাস্থ্য পরামর্শ অনুসরণ করার আবেদন করেছে। 


 

img

করোনার ঝুঁকি: জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভারতে না যাওয়ার পরামর্শ

প্রকাশিত :  ১৯:১৪, ০৯ জুন ২০২৫

ভারতসহ পার্শ্ববর্তী কয়েকটি দেশে করোনাভাইরাসের নতুন ধরনের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় এবং অন্যান্য দেশে ভাইরাসের এই ধরনটি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় নতুন সতর্কতা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ভারত এবং ভাইরাস ছড়ানো অন্যান্য দেশে ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি ঝুঁকি মোকাবেলায় সব স্থল ও বিমানবন্দরে হেলথ স্ক্রিনিং ও নজরদারি বাড়াতে বলা হয়েছে। 

আজ সোমবার (৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশিদের স্বাক্ষরে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়। 

নির্দেশনায় বলা হয়, পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসের নতুন সাব ভেরিয়েন্ট, বিশেষ করে অমিক্রন এলএফ. ৭, এক্সএফজি, জেএন-১ এবং এনবি ১.৮.১ এর সংক্রমণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের মাধ্যমে বাংলাদেশে এর সম্ভাব্য সংক্রমণ প্রতিরোধে ভারত ও অন্যান্য সংক্রামক দেশ এবং বাংলাদেশ থেকে ভারত এবং অন্যান্য সংক্রামক দেশে ভ্রমণকারী নাগরিকদের জন্য দেশের সকল স্থল, নৌ, বিমানবন্দরের আইএইচআর ডেস্কে নজরদারি জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি ঝুঁকি মোকাবিলায় কিছু কার্যক্রম নিতে হবে।
গত বৃহস্পতিবার দেশে করোনায় একজনের মৃত্যু হয়। আশঙ্কাজনক না হলেও দেশে এ রোগের প্রকোপ বাড়ছে। আইসিডিডিআরবির গবেষকেরা করোনার নতুন একটি ধরন শনাক্তের কথা বলছেন। এর নাম এক্সএফজি। এর পাশাপাশি এক্সএফসি ধরনটিও পাওয়া গেছে। দুটোই করোনার শক্তিশালী ধরন অমিক্রনের জেএন-১ ভ্যারিয়েন্টের উপধরন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দেওয়া সংক্রমণ প্রতিরোধে কিছু নির্দেশনা হলো:

- সাত বার প্রয়োজনমতো সাবান দিয়ে হাত ধোবেন (অন্তত ২৩ সেকেন্ড)।
- নাক-মুখ ঢাকায় জন্য মাস্ক ব্যবহার করুন।
- আক্রান্ত ব্যক্তি হতে কমপক্ষে ৩ ফুট দূরে থাকতে হবে
- অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করবেন না
- হাঁচি-কাশির সময় বাহ/ টিস্যু/ কাপড় দিয়ে নাক মুখ ঢেকে রাখুন।
দেশে প্রবেশ পথের জন্য নির্দেশনা
- দেশের বিভিন্ন স্থল/নৌ/ বিমান বন্দরসমূহে আইএইচআর (IHR-2005) স্বাস্থ্য ডেস্কসমূহে সতর্ক থাকা, হেলথ স্ক্রিনিং এবং সার্ভেল্যান্স জোরদার করুন।
- দেশের পয়েন্টস অব এন্ট্রি সমূহে থার্মাল স্কান্যার/ ডিজিটাল হেন্ড হেল্ড থার্মোমিটারের মাধ্যমে নন টাচ টেকনিকে তাপমাত্রা নির্ণয় করুন।

- চিকিৎসা কাজে স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহারের জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণ মাস্ক, গ্লাভস এবং রোগ প্রতিরোধী পোশাক মজুত রাখুন (পিপিই)

- ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য রোগ প্রতিরোধ নির্দেশনা সমূহ প্রচার করুন।
- জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত ভারত ও অন্যান্য আক্রান্ত দেশসমূহে ভ্রমণ করা থেকে বিরত থাকুন।
সন্দেহজনক রোগীদের ক্ষেত্রে করণীয়
- অসুস্থ হলে ঘরে থাকুন, মারাত্মক অসুস্থ হলে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।
- রোগীর নাক-মুখ ঢাকার জন্য মাস্ক ব্যবহার করতে বলুন
- প্রয়োজন হলে আইইডিসিআরের হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করুন (০১৪০১-১৯৬২৯৩)