img

বাংলাদেশে ভারতীয় কর্মীদের উপস্থিতি: অবৈধ কাজের বাস্তবতা -রেজুয়ান আহম্মেদ

প্রকাশিত :  ১১:৫৯, ০৯ আগষ্ট ২০২৪

বাংলাদেশে ভারতীয় কর্মীদের উপস্থিতি: অবৈধ কাজের বাস্তবতা  -রেজুয়ান আহম্মেদ

বাংলাদেশের অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ভারতীয় কর্মীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি একটি বিতর্কিত বিষয় হিসেবে উঠে এসেছে সম্প্রতি। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়সে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, বাংলাদেশে প্রায় ৫ লাখ ভারতীয় বিভিন্ন খাতে কাজ করছেন, যার মধ্যে মাত্র ১০ শতাংশের ওয়ার্ক পারমিট রয়েছে। এর মানে, প্রায় সাড়ে ৪ লাখ ভারতীয় বাংলাদেশে অবৈধভাবে কাজ করছেন। 

ট্যুরিস্ট ভিসায় অবৈধ কর্মসংস্থান 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অধিকাংশ ভারতীয় ট্যুরিস্ট ভিসা নিয়ে বাংলাদেশে আসছেন এবং এরপর তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। ট্যুরিস্ট ভিসার অপব্যবহার করে এই ধরনের অবৈধ কাজ করার ফলে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনই বাংলাদেশের নাগরিকদের কর্মসংস্থানেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। 

বেসরকারি খাতে ভারতীয়দের দাপট 

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে ভারতীয় কর্মীদের দাপট বাড়ছে। বিশেষ করে আইটি, বস্ত্রশিল্প এবং বাণিজ্যিক খাতে ভারতীয় কর্মীদের সংখ্যা বেশি। এই অবস্থান দেশের অর্থনীতিতে কিছু ইতিবাচক প্রভাব ফেললেও এর ফলে বাংলাদেশের স্থানীয় কর্মীদের মধ্যে বেকারত্ব বাড়ছে। 

আইনি ব্যবস্থা ও প্রশাসনের নজরদারি 

বাংলাদেশে অবৈধভাবে কাজ করা ভারতীয়দের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার এবং প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। ট্যুরিস্ট ভিসার অপব্যবহার বন্ধ করতে এবং কর্মসংস্থানের জন্য বৈধ ওয়ার্ক পারমিটের বাধ্যতামূলকতা নিশ্চিত করতে সরকারের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। 

প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ 

এই পরিস্থিতি সম্পর্কে অনেকেই উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি এই প্রবণতা অব্যাহত থাকে, তবে এটি বাংলাদেশের কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি, ট্যুরিস্ট ভিসার শর্ত ভঙ্গ করার কারণে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। 

সমাধান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা 

ভারতীয় কর্মীদের অবৈধভাবে কাজ করার এই প্রবণতা বন্ধ করতে বাংলাদেশ সরকারকে তৎপর হতে হবে। এর জন্য ওয়ার্ক পারমিট সিস্টেমকে শক্তিশালী করা এবং ট্যুরিস্ট ভিসার নিয়মাবলী কঠোরভাবে প্রয়োগ করার প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়াও, দেশের স্থানীয় কর্মীদের জন্য আরও প্রশিক্ষণ এবং দক্ষতা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া উচিত, যাতে তারা আন্তর্জাতিক মানের চাকরির বাজারে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম হয়।

উপসংহার 

বাংলাদেশে ভারতীয় কর্মীদের অবৈধ কাজ করার এই বাস্তবতা দেশের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রশাসন এবং সরকারের সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে, যাতে দেশের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে এবং স্থানীয় কর্মীদের জন্য আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়।




রেজুয়ান আহম্মেদ
কলামিস্ট, বিশ্লেষক; সম্পাদক অর্থনীতি ডটকম


img

শ্রীমঙ্গলে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী উদযাপন

প্রকাশিত :  ০৯:৪৯, ০৮ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:১৪, ০৮ জুন ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, শ্রীমঙ্গল শাখার উদ্যোগে রবীন্দ্র-নজরুল জয়ন্তী ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে দিনব্যাপী এ সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রদীপ প্রজ্বালনের মাধ্যমে উদ্বোধন করা হয়। এরপর সংগঠনের শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গান ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ পরিবেশনের মধ্য দিয়ে মূল পর্ব শুরু হয়।

অনুষ্ঠানের সূচনায় স্বাগত বক্তব্য দেন জাতীয় রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্মিলন পরিষদ, শ্রীমঙ্গল শাখার আহ্বায়ক তমাল চক্রবর্তী। তিনি উপস্থিত অতিথি, শিল্পী ও দর্শকদের শুভেচ্ছা জানান।

বিশিষ্ট আবৃত্তি শিল্পী জলি পালের সঞ্চালনায় এবং অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক কল্যাণ দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক নৃপেন্দ্রলাল দাস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সহ-সভাপতি অজয় দেব এবং ভুনবীর দশরথ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ঝলক চক্রবর্তী।

শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অয়ন চৌধুরী। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ, কবি ও সাহিত্যিক দ্বীপেন্দ্র ভট্টাচার্য। তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্য, সংগীত ও মানবতাবাদী চিন্তাধারা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি ও কবিতা পরিবেশনার মাধ্যমে রবীন্দ্র-নজরুলের সৃষ্টিশীলতার বহুমাত্রিক রূপ তুলে ধরা হয়।

সবশেষে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে বর্ণাঢ্য এ সাংস্কৃতিক আয়োজনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।