img

বিশ্ববাজারে আরও কমলো স্বর্ণের দাম

প্রকাশিত :  ০৬:০৭, ০৮ জুন ২০২৬

বিশ্ববাজারে আরও কমলো স্বর্ণের দাম

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন আশঙ্কা জোরালো হওয়ায় বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও কমেছে। ফলে আগের দিনের বড় ধরনের দরপতনের ধারাবাহিকতা আরও গভীর হয়েছে। অন্যদিকে, পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা দেখা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। এতে বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ৮ জুন স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩২১ দশমিক ৪৯ ডলারে নেমে আসে। এর আগের শুক্রবার দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমে গত ২৪ মার্চের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছায়। ওই বড় পতনের পেছনে মূল ভূমিকা রাখে প্রত্যাশার চেয়ে ভালো মার্কিন কর্মসংস্থান প্রতিবেদন। একই দিনে আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৪ হাজার ৩৪৫ দশমিক ৬০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, বৈরুতের উপকণ্ঠে হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর তিনি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে পাল্টা হামলা না চালানোর আহ্বান জানাবেন। এদিকে সোমবার তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ ডলারের বেশি বেড়েছে, যাতে মুদ্রাস্ফীতি ও সুদের হার বাড়ার আশঙ্কা আরও জোরালো হয়ে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

ক্লিভল্যান্ড ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট বেথ হ্যামাক বলেছেন, সাম্প্রতিক কর্মসংস্থান তথ্য অনুযায়ী শ্রমবাজার এখন মোটামুটি ভারসাম্যপূর্ণ এবং প্রায় পূর্ণ কর্মসংস্থানের কাছাকাছি রয়েছে। তবে দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ফেডকে শিগগিরই সুদের হার বাড়াতে হতে পারে। মে মাসে মার্কিন অর্থনীতিতে টানা তৃতীয় মাসের মতো শক্তিশালী কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এতে ইরান যুদ্ধের কারণে বাড়তে থাকা মুদ্রাস্ফীতির মধ্যেও ফেডকে সুদের হার স্থিতিশীল রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অন্যদিকে চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পিপলস ব্যাংক অব চায়নার তথ্য অনুযায়ী, মে মাসে টানা ১৯তম মাসের মতো দেশটির স্বর্ণের রিজার্ভ বেড়েছে। বর্তমানে চীনের স্বর্ণের রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৭৪ দশমিক ৯৬ মিলিয়ন ফাইন ট্রয় আউন্সে। বিশ্লেষকদের মতে, গত সপ্তাহে ভারতে স্বর্ণের চাহিদা কম ছিল, কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে দামের অস্থিরতার কারণে ক্রেতারা অপেক্ষা করছিলেন। একই সময়ে চীনে স্বর্ণের প্রিমিয়ামও কিছুটা কমেছে। ২ জুন সমাপ্ত সপ্তাহে স্বর্ণের ফটকাবাজরা তাদের নেট লং পজিশন ১৪ হাজার ৪০৯টি কন্ট্রাক্ট বাড়িয়ে ১ লাখ ১১ হাজার ৩৪১-এ উন্নীত করেছে।

এদিকে বিশ্ববাজারে দাম কমায় দেশের বাজারেও কমতে পারে স্বর্ণের দাম। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববাজারে দাম কমলে এর প্রভাব পড়ে দেশের বাজারেও, তাই যে কোনো সময় দেশের বাজারেও দাম কমানো হতে পারে। এর আগে সবশেষ গত ৬ জুন সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছে বাজুস। সেদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতুর দাম ৫ হাজার ৪৮২ টাকা কমানো হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৩৭৩ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৮ হাজার ৯৩৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬৭৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫২ হাজার ৮৫৭ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে। অন্যদিকে বিশ্ববাজারে স্পট রুপার দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৭ দশমিক ৫২ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কমে ১ হাজার ৭৭৩ দশমিক ৬৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে এবং প্যালাডিয়ামের দাম শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৩১ দশমিক ৫১ ডলারে পৌঁছেছে।

সূত্র: রয়টার্স

img

বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় লাফ

প্রকাশিত :  ০৭:০৬, ০৮ জুন ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩ ডলারের বেশি বেড়েছে। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলা এবং ইরানে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশের পর জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় তেলের বাজারে এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার (৮ জুন) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৩.২০ ডলার বা ৩.৩৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৬.২৪ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন ডব্লিউটিআই অপরিশোধিত তেলের দাম ২.৮৭ ডলার বা ৩.১৭ শতাংশ বেড়ে ৯৩.৪১ ডলারে ওঠে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনের আশা তৈরি হওয়ায় গত শুক্রবার তেলের দাম কমেছিল। তবে মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে।

সোমবার ভোরে ইরানের রাজধানী তেহরান, তাবরিজ ও ইসফাহানে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। এতে চলমান যুদ্ধ দ্রুত শেষ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহনের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার আশাও ক্ষীণ হয়েছে।

যদিও রোববার ইরান ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, তবু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, বৃহত্তর সংঘাতের অবসানে একটি চুক্তি এখনও সম্ভব। তিনি জানান, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে নতুন হামলা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করাকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির অন্যতম শর্ত হিসেবে দেখছে ইরান। মার্চে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর হামলার পর ইসরায়েল লেবাননে সামরিক অভিযান শুরু করে। পরে ওয়াশিংটনে আলোচনার মাধ্যমে গত ৩ জুন উভয় দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

এদিকে সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় রোববার ওপেক প্লাস টানা চতুর্থবারের মতো তেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা এবং বিভিন্ন উৎপাদনকারী দেশের সক্ষমতা সংকটের কারণে এই সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রভাব খুবই সীমিত হবে।

জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জির ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষণ বিভাগের প্রধান জর্জ লিওন বলেন, বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে উৎপাদন বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের বাস্তব প্রভাব প্রায় শূন্যের কাছাকাছি।