img

জগন্নাথপুরে ভয়াবহ আগুনে ৬টি দোকান পুড়ে ছাই, ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি

প্রকাশিত :  ১০:৫৮, ১২ এপ্রিল ২০২৫

জগন্নাথপুরে ভয়াবহ আগুনে ৬টি দোকান পুড়ে ছাই, ৫০ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুরে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে ৬ টি দোকানঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার চিলাউড়া হলদিপুর ইউনিয়নের বাউধরন গ্রামের মুজিব মার্কেটে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রাত আড়াইটার দিকে রাসেল মিয়ার চা দোকান থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। পরে টিনশেডের ওই মার্কেটের ৬টি দোকানে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের ঘন্টব্যাপি প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ততক্ষণে ৬টি দোকান পুড়ে ছাঁই হয়ে যায়।

ক্ষতিগ্রস্ত মুদি দোকানদার আনসার মিয়া বলেন, আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে এসে দেখি সব চোখের সামনে পুড়ছে। নতুন দোকান খুলেছিলাম। সব পুড়ে গেছে। ৩ লাখ টাকার শুধু মালামালই ছিল।

মার্কেটের মালিক মুজিবুর রহমান বলেন, আগুনে ৬টি দোকানের সবকিছু পুড়ে গেছে। এরমধ্যে একটি ওষুধের দোকান, ৩টি মুদি দোকান, একটি সবজির ও একটি চায়ের দোকান ছিল। সবমিলিয়ে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলেও তারা ঘটনাস্থলে আসেনি।

 জগন্নাথপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সেশনের ইনচার্জ মুর্শেদ আলম বলেন, সংবাদ পেয়েই আমরা দ্রুত বের হই। কিন্তু রাস্তার জন্য আমরা সেখানে যেতে পারিনি। ঘটনাস্থলের প্রায় দেড় কিলোমিটার সামন থেকে আমাদের ফিরে আসতে হয়েছে। ততক্ষণে শুনেছি স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনেছে।

 জগন্নাথপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ ইমতিয়াজ ভূঞা বলেন, খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক সট সার্কিট বা গ্যাস সিলিন্ডার থেকে আগুন সুত্রপাত ঘটে।



 

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

জগন্নাথপুরে বৃষ্টিতে বেড়িবাঁধে ফাটল, আতঙ্কে কৃষক

প্রকাশিত :  ০৭:৩৩, ১৬ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:০৫, ১৬ মার্চ ২০২৬

সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলায় গত দুই রাতের বৃষ্টিতে কয়েকটি ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধে ফাটল ও ধস নামার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। এতে আতঙ্কে আছে বলে জানিয়েছে স্থাণীয় স্থানীয় কৃষকরা ।

কৃষকদের অভিযোগ, ফসল রক্ষার নামে দায়সারা বেড়িবাঁধ নির্মাণ সংস্কার কাজ করছে সংশ্লিষ্টরা। চৈত্রের শুরু হয়ে গেলেও এখনও পুরোপুরিভাবে শেষ হয়নি অধিকংশ বেড়িবাঁধের কাজ। ফলে হাওরের বোরো ধান তুলা নিয়ে শঙ্কায় দিন কাটছে কৃষকদের।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার নলুয়ার হাওরের ১১ নম্বর প্রকল্পে দ্বিতীয় দফা সময় বৃদ্ধির (১৫ দিন আবেদনের পরও) শনিবার পর্যন্ত মাটির কাজ শেষ হয়নি। ৩ নম্বর প্রকল্প, আশারকান্দি ইউনিয়নের ৯৪ নম্বর প্রকল্পে ফাটল দেখা দিয়েছে। তাছাড়া মিরপুর ইউনিয়নে অবস্থিত জামাইকাটা হাওরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বেড়িবাঁধে ফাটল ও ধস দেখা দেওয়ায় চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কৃষকরা।

কৃষকরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দায়সারা বাঁধ নির্মাণ করে বরাদ্দকৃত অর্থ লুটপাট করা হয়েছে। এই বেড়িবাঁধ নিয়ে আমরা আতংকে রয়েছি। যদি বাঁধ ভেঙে হাওরে পানি ঢুকে পড়ে তবে হাজার হাজার কৃষকের স্বপ্ন তলিয়ে যাবে। আমরা এখন রাতে ঘুমাতে পারছি না। জামাই কাটাসহ হাওরের বিভিন্ন বেড়িবাঁধের কাজ ভালো হয়নি। দ্রুত এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে।

এ অবস্থায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল আর অকাল বন্যার আশঙ্কায় হাজার হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

জামাইকাটা হাওরের ৩৬ নং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির মাধ্যমে ০.০৫৮ কি.মি. দৈর্ঘ্যর বাধঁ নির্মান / মুখ বন্ধ করন কাজের জন্য ৮ লক্ষ ছয় লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। স্হানীয় কৃষক তানভির মিয়া জানান, ৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দের মধ্যে ৩ লক্ষ টাকারও কাজ হয়নি। দায়সারা বাঁধ নির্মাণের ফলে সামান্য বৃষ্টিতে বাঁধ ধসে পড়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি মো. গয়াছুর রহমান বলেন, আমি কোন ফাটল বা ধস দেখতে পাইনি। এই হাওরে আমার নিজের অনেক জমি রয়েছে। কাজ পুরোপুরি শেষ হয়নি এখনো। বাঁধের ত্রুটি মেরামত করে দিবো।

জগন্নাথপুর উপজেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী শাহ ফরিদ মিয়া জানান, জামাই কাটা হাওরে বেড়িবাঁধে ফাটল শুনেছি। এছাড়াও ৩ ও ৯৪ নম্বর প্রকল্পে সামান্য ফাটল দেখা দিয়েছে। সেগুলো মেরামত করা হয়েছে। ১১ নম্বর প্রকল্পের অসমাপ্ত কাজ শেষ করতে কাজ চলমান রয়েছে।

জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরকত উল্লাহ জানান, সময়ে সময়ে হাওরের ফসল রক্ষা বেড়িবাঁধের কাজ তদারকি করছি আমরা। আশা করছি কোন সমস্যা হবে না ।

সিলেটের খবর এর আরও খবর