img

শান্তিরক্ষা মিশনে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

প্রকাশিত :  ১৩:১২, ২০ এপ্রিল ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১৭:১৩, ২০ এপ্রিল ২০২৫

শান্তিরক্ষা মিশনে নারীর অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে আরও বেশি বাংলাদেশি নারী নিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আজ রোববার (২০ এপ্রিল) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জঁ-পিয়েরে ল্যাক্রোয়া প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অটল প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি। বৈঠকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।

বাংলাদেশ নিয়মিতভাবে শান্তিরক্ষা মিশনে শীর্ষ তিনটি সেনা/পুলিশ প্রেরণকারী দেশের মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে ১১টি সক্রিয় শান্তিরক্ষা মিশনের মধ্যে ১০টিতে বাংলাদেশের মোট ৫ হাজার ৬৭৭ জন শান্তিরক্ষী কর্মরত।

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল জঁ-পিয়েরে ল্যাক্রোয়া বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষায় নারীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর নীতিতে অটল। তিনি বলেন, ‘আমরা নারীদের নির্দিষ্ট কিছু ভূমিকায় সীমাবদ্ধ রাখতে চাই না।’

শান্তিরক্ষার সব স্তরে নারীদের নিয়োগে জাতিসংঘ সহায়তা করবে বলেও জানান তিনি।

বাংলাদেশ অতিরিক্ত সেনা ও পুলিশ সদস্য মোতায়েনে প্রস্তুত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি জাতিসংঘের ‘পিসকিপিং ক্যাপাবিলিটি রেডিনেস সিস্টেম’-এর (পিসিআরএস) র‍্যাপিড ডিপ্লয়মেন্ট লেভেলে পাঁচটি ইউনিট প্রদানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

এছাড়াও তিনি জাতিসংঘের সদর দপ্তর ও মাঠ পর্যায়ে শান্তিরক্ষী নেতৃত্বে বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান। জাতিসংঘ কর্মকর্তা জানান, এ ব্যাপারেও বাংলাদেশকে সমর্থন দেবে জাতিসংঘ।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী যাচাইকরণ প্রক্রিয়া বাংলাদেশ কঠোরভাবে অনুসরণ করে এবং মানবাধিকার নিশ্চিতে প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহিতা জোরদারে জাতিসংঘসহ অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে বাংলাদেশ আগ্রহী।

বৈঠকে জানানো হয়, শান্তিরক্ষা বিষয়ক জাতিসংঘ মন্ত্রীপর্যায়ের সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল বিদেশ উপদেষ্টার নেতৃত্বে আগামী ১৩-১৪ মে জার্মানির বার্লিনে যাবে।

মিয়ানমারে চলমান সংঘাত এবং সীমান্তে গুলিবিনিময়, বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ও নাফ নদীর আশপাশে জীবন-জীবিকার বিঘ্ন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা।

তিনি বলেন, চলমান অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে, যা নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে। তিনি রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর উদ্যোগের আহ্বান জানান।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সাম্প্রতিক কক্সবাজার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন রোহিঙ্গাদের মধ্যে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের আশার সঞ্চার করেছে।

img

হরমুজে ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নিরাপদ চলাচলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ইরানের নির্দেশনা

প্রকাশিত :  ১০:১১, ২০ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১০:৩২, ২০ এপ্রিল ২০২৬

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছে ইরান সরকার।

কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশের পতাকাবাহী জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে ইরান সরকার।

তুরস্কের আনতালিয়া ডিপ্লোমাসি ফোরামের পার্শ্ববৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাঈদ খাতিবজাদেহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়। 

সোমবার (২০ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেও বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইরানের এই পদক্ষেপকে বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি জাহাজের যাতায়াত সহজতর করার জন্য ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মধ্যস্থতা ও সহযোগিতা কামনা করেন। এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, ইরান যখন হরমুজ প্রণালি পারাপারের অনুমতিপ্রাপ্ত ছয়টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছিল, তখন বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ অত্যন্ত কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিল। 

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে সাঈদ খাতিবজাদেহ অবিলম্বে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজখবর নেন। পরে রোববার রাতে তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিশ্চিত করেন, বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তেজনাপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপদ যাতায়াতের জন্য ইরানের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা উপসাগরীয় অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতি এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের বিষয়ে বাংলাদেশের ধারাবাহিক ও ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থানের কথা পুনরায় ব্যক্ত করেন। 

তিনি জোর দিয়ে বলেন, আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে সকল পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শন করতে হবে এবং যেকোনো মতপার্থক্য নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বাংলাদেশের এই গঠনমূলক ও শান্তিপ্রিয় অবস্থানের প্রশংসা করে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তেহরান সফর করবেন।

আন্তর্জাতিক জলসীমায় বাংলাদেশি পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বর্তমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে বিভিন্ন দেশের জাহাজে হামলার ঘটনার পর থেকে বাংলাদেশের নৌ-পরিবহন ও বাণিজ্য খাত এই রুটটি নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ছিল। 

ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া এই নতুন নির্দেশনার ফলে ‘বাংলার জয়যাত্রা’সহ অন্যান্য বাংলাদেশি জাহাজের যাতায়াত আরও নির্বিঘ্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে এ ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়ে একমত পোষণ করেছে।

জাতীয় এর আরও খবর