img

শ্রীমঙ্গলের জানকী ছড়ায় দুর্লভ প্রজাতির পাখি ব্রাউন ফিশ ওউল

প্রকাশিত :  ১৯:০৬, ১৫ মে ২০২৫

শ্রীমঙ্গলের জানকী ছড়ায় দুর্লভ প্রজাতির পাখি ব্রাউন ফিশ ওউল

সংগ্রাম দত্ত: চারিদিকে সবুজ গাছপালা, চা বাগান,  বন জঙ্গল, হাওর, পাহাড়, হ্রদ ও চায়ের রাজধানী বলে দেশ-বিদেশে খ্যাত শ্রীমঙ্গল উপজেলার জানকী ছড়ায় বিরল প্রজাতির ব্রাউন ফিশ  ওউলকে ক্যামেরা বন্দি করেন প্রকৃতিপ্রেমী তারিক হাসান।

মঙ্গলবার ( ১৩ মে) বিকেলের দিকে হঠাৎ করে নামা ঝড়বৃষ্টির মধ্যে শ্রীমঙ্গলের জানকী ছড়া এলাকার এক গাছে দেখা যায় এক বিরল প্রজাতির প্যাঁচা—ব্রাউন ফিশ ওউল (Brown Fish Owl)। প্রকৃতির সেই দুর্লভ মুহূর্তটি ক্যামেরায় ধারণ করেন প্রকৃতি ও পাখিপ্রেমী আলোকচিত্রী তারিক হাসান।

ছবিতে দেখা যায়, গা ভেজা ডালের উপর বসে থাকা প্যাঁচাটি ডানা মেলার প্রস্তুতিতে, চোখে তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি আর দেহভঙ্গিমায় রাজকীয় স্থৈর্য। ঘন সবুজের ভেতরে বাদামী পালকে মোড়া এই নিশাচর পাখিটি যেন এক অনুপম দৃশ্যের অবতারণা করে।

ছবির কবি আলোকচিত্রী তারিক হাসান দীর্ঘদিন ধরে প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য নিয়ে কাজ করছেন। তার lens-এর ফ্রেমে এই ধরনের দৃশ্য ধরা পড়া শুধুই ভাগ্যের বিষয় নয়, বরং তার ধৈর্য, নিষ্ঠা ও গভীর পর্যবেক্ষণের ফল।

 ব্রাউন ফিশ ওউল বাংলাদেশের পাহাড়ি ও বনাঞ্চলে মাঝে মধ্যে দেখা গেলেও এত কাছ থেকে এবং এমন আবহাওয়ায় দেখা যাওয়া বেশ বিরল ঘটনা। এই প্যাঁচাটি সাধারণত নদী বা ছড়ার ধারে থাকে এবং মূলত মাছ ও ছোট স্তন্যপায়ী খেয়ে থাকে।

আলোকচিত্রী তারিক হাসান শুধু ছবির শিল্পী নন, তিনি প্রকৃতির এক নিবেদিত গবেষক। তার lens-এর মাধ্যমে আমরা যে সৌন্দর্য দেখি, তার পেছনে রয়েছে সময়ের বিনিয়োগ, মনের গভীরতা, আর প্রকৃতির প্রতি এক নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। 

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকৃতিপ্রেমীদের মাঝে বেশ উৎসাহ তৈরি হয়েছে। অনেকেই এই অসাধারণ ছবির জন্য তারেক হাসানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

শ্রীমঙ্গলের স্থানীয় সাংবাদিক ঝলক দত্ত তথ্য উপাত্ত দিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন।

অন্যদিকে প্রকৃতির এমন নীরব অথচ নান্দনিক সৌন্দর্য ধরে রাখার জন্য তারিক হাসানের ভূমিকাকে সাধুবাদ জানাচ্ছে শ্রীমঙ্গলের সচেতন মহল।


img

শ্রীমঙ্গলে ইতিহাসের নতুন দিগন্ত: দেবী সরস্বতীর ষোড়শ রূপের ব্যতিক্রমী পূজা

প্রকাশিত :  ০৪:২১, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: চায়ের স্বর্গরাজ্য হিসেবে পরিচিত দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গল এবার সাক্ষী থাকল এক ঐতিহাসিক ও ব্যতিক্রমী ধর্মীয়–সাংস্কৃতিক আয়োজনের। শ্রীমঙ্গল উপজেলার সবুজবাগ গোসাইবাড়ি রোড সংলগ্ন লালবাগ যুব কিশোর সংঘের আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো দেবী সরস্বতীর ষোড়শ রূপের পূজা—যা এশিয়া মহাদেশে এই প্রথম। একই পূজামণ্ডপে দেবী সরস্বতীর ১৬টি ভিন্ন ভিন্ন রূপ এবং মূল প্রতিমাসহ মোট ১৭টি মূর্তি নির্মাণ করে পূজা করা হয়েছে।

এই আয়োজন কেবল একটি ধর্মীয় উৎসবেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি জ্ঞান, প্রজ্ঞা, শিল্প ও দর্শনের এক জীবন্ত প্রদর্শনী। প্রতিটি রূপে দেবী সরস্বতী আবির্ভূত হয়েছেন ভিন্ন ভিন্ন অর্থ ও ব্যঞ্জনায়। কোথাও তিনি জ্ঞানের আলোকবর্তিকা, কোথাও অজ্ঞতা বিনাশী শক্তি, আবার কোথাও সৃজনশীলতা, সংগীত ও মানবিক চেতনার প্রতীক।

গৌরী রূপে দেবী সরস্বতী জ্ঞান, মেধা ও সৌন্দর্যের প্রতীক হয়ে মানবচেতনাকে সত্য ও ন্যায়ের পথে পরিচালিত করেছেন। মানবী রূপে তিনি মানবজাতির কল্যাণ ও প্রজ্ঞাবৃদ্ধির বার্তা বহন করেন। মানসী রূপে মন, চেতনা ও বিবেক আলোকিত করেন, আর মহাকালী ও কালী রূপে অজ্ঞতা ও অসত্য ধ্বংসের শক্তিকে প্রতিফলিত করেন।

বজ্রশৃঙ্খলা রূপে দেবী অজ্ঞতার শৃঙ্খল ভেঙে জ্ঞানকে অপরাজেয় শক্তিতে রূপ দেন। কুলি শাঙ্কুশা রূপে বিদ্যা, বুদ্ধি ও সংযমের শিক্ষা দেন। মহামানব, প্রজ্ঞপ্তী ও চকেশ্বরী রূপে সত্য–অসত্যের পার্থক্য অনুধাবন, নৈতিকতা ও শক্তির সমন্বয়ের দর্শন ফুটে ওঠে।

পুরুষ দত্তা ভারতীয়, বৈরাট্যা, মোহিনী ও গান্ধারী রূপে ভাষা, বাগ্মী শক্তি, সৃজনশীলতা ও সংগীতকলার বিকাশের প্রতীক হয়ে উঠেছেন দেবী সরস্বতী। সর্বশেষ আচ্ছুপ্তা রূপে তিনি মায়া ও অজ্ঞতা দূর করে মানবচেতনাকে জ্ঞান, প্রজ্ঞা ও অন্তর্দৃষ্টির আলোয় উদ্ভাসিত করেছেন।

নিপুণ কারুকাজ, রঙের নান্দনিক ব্যবহার এবং প্রতিটি প্রতিমার ভাবনাগত গভীরতা দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করেছে। প্রতিটি মূর্তি যেন আলাদা আলাদা গল্প বলে—মানুষের মন, বিবেক ও বুদ্ধির গভীরে আলো জ্বালানোর গল্প।
লালবাগ যুব কিশোর সংঘের সভাপতি কৌশিক দত্ত ও উপদেষ্টা প্রান্ত মিশ্র জানান, “এশিয়া মহাদেশে এই প্রথম দেবী সরস্বতীর ষোড়শ রূপের এমন পূর্ণাঙ্গ আয়োজন করতে পেরে আমরা গর্বিত। আমাদের লক্ষ্য ছিল দেবী সরস্বতীকে কেবল বিদ্যার দেবী হিসেবে নয়, বরং মানবচেতনার সর্বাঙ্গীণ বিকাশের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা।”
সকাল থেকেই পূজামণ্ডপে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় প্রমাণ করে, এই ব্যতিক্রমী আয়োজন কতটা হৃদয় ছুঁয়ে গেছে সাধারণ মানুষের।

শ্রীমঙ্গলের এই অনন্য উদ্যোগ নিঃসন্দেহে ধর্মীয় উৎসবের গণ্ডি পেরিয়ে জ্ঞান, শিল্প ও মানবিক চেতনার এক স্মরণীয় মিলনমেলায় রূপ নিয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর