শ্রীমঙ্গলের শংকরটিলা লেক: প্রকৃতির নীরব সৌন্দর্যে আরেকটি প্রাণহানি
সংগ্রাম দত্ত: চা-বাগানের সবুজ ঢেউ, পাহাড়ি টিলা, ঘন বনাঞ্চল আর নিস্তব্ধ লেক—সব মিলিয়ে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া চা বাগান যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব ক্যানভাস। কিন্তু সেই মনোমুগ্ধকর পরিবেশ বৃহস্পতিবার বিকেলে পরিণত হলো শোকের ঘটনায়। ভাড়াউড়া চা বাগান এলাকার শংকরটিলা সংলগ্ন লেকে পানিতে ডুবে মারা গেছেন শ্রী অন্তর সাহা (২৬) নামে এক টমটম চালক।
নিহত অন্তর সাহা উপজেলার শাহজীবাজারের দক্ষিণ উত্তরসূর এলাকার বাসিন্দা। তার পিতা দীলিপ সাহা (কালু)।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে অন্তর সাহা শংকরটিলায় অবস্থিত একটি মন্দির পরিদর্শনে যান। পরে পাশের লেকে স্নান করতে নামলে তিনি পানিতে তলিয়ে যান। দীর্ঘ সময় তাকে খুঁজে না পেয়ে আশপাশের লোকজন উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন।
বাগানের এক পাহারাদার বিষয়টি প্রথমে বাগান কর্তৃপক্ষকে জানান। পরে খবর পেয়ে শ্রীমঙ্গল ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ডুবুরি দলের সহায়তায় সন্ধ্যার দিকে লেক থেকে অন্তরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ শ্রীমঙ্গল থানায় নেওয়া হয়।
ঘটনার পর এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে অন্তরের টমটম গাড়ির ব্যাটারি নিয়ে সন্দেহের কথা উঠেছিল। তবে পরে নিশ্চিত হওয়া যায়, গাড়ির ব্যাটারি সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে এবং টমটমটিও উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার অভিযানে থাকা এসআই দীপঙ্করের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
প্রকৃতির সৌন্দর্যের আড়ালে রহস্যঘেরা লেক
শংকরটিলা লেক স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই পরিচিত এক নৈসর্গিক স্থান হিসেবে। চারদিকে সবুজ চা বাগান, উঁচুনিচু পাহাড়ি টিলা, বনাঞ্চলের নির্জনতা এবং শান্ত জলরাশি মিলিয়ে এটি দর্শনার্থীদের কাছে আকর্ষণীয় এক গন্তব্য।
তবে স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এই লেকের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অতীতের কিছু বেদনাদায়ক স্মৃতিও। কয়েক দশক আগে একই লেক থেকে এক চা-বাগান ম্যানেজারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
জানা যায়, সাঁতার কাটতে নেমে দুর্ঘটনাবশত তার মৃত্যু হয়েছিল।
স্থানীয় প্রবীণদের মতে, প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা হলেও লেকটির কিছু অংশ বেশ গভীর এবং ঝুঁকিপূর্ণ। নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও সতর্কতামূলক নির্দেশনার অভাবও এখানে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়।
শোকের ছায়া
অন্তর সাহার মৃত্যুতে তার পরিবার ও এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। পরিচিতজনদের ভাষ্য, তিনি ছিলেন শান্ত ও পরিশ্রমী একজন তরুণ। জীবিকার তাগিদে টমটম চালিয়ে পরিবারকে সহায়তা করতেন।
শ্রীমঙ্গলের অপরূপ প্রাকৃতিক পরিবেশে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু আবারও প্রশ্ন তুলেছে—পর্যটন ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় সংশ্লিষ্টদের আরও কার্যকর উদ্যোগ কতটা জরুরি।



















