শ্রীমঙ্গলে বাঁশঝোপ থেকে অজগর সাপ উদ্ধার
সংগ্রাম দত্ত: শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া চা বাগানের শান্ত-নীরব পরিবেশ হঠাৎই কেঁপে ওঠে এক অপ্রত্যাশিত ঘটনায়। মেডিকেল সেন্টার সংলগ্ন এলাকার ঘন বাঁশঝোপে দেখা মেলে একটি বিশাল অজগর সাপের। মুহূর্তেই এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক, নিরাপদ দূরত্বে সরে যান স্থানীয় বাসিন্দারা।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকেলে ভাড়াউড়া চা বাগানের মেডিকেল সংলগ্ন এলাকায় বিক্রমজিতের বাসার পাশের বাঁশঝোপে সাপটি দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় উৎকণ্ঠা তৈরি হয়।
এ সময় বিক্রমজিতের ছেলে বিষয়টি জানালে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন। উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল, পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ও রিদন গৌড়।
ঘন বাঁশঝোপের ভেতরে দীর্ঘ সময় অনুসন্ধান চালিয়ে অবশেষে অজগরটিকে নিরাপদে উদ্ধার করতে সক্ষম হন তারা। উদ্ধার অভিযান ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ছিল টানটান উত্তেজনা। পরে সাপটি উদ্ধার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় স্বস্তি ফিরে আসে।
বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল জানান, সাম্প্রতিক বন্যা ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে অজগরটি তার স্বাভাবিক আবাসস্থল হারিয়ে লোকালয়ের কাছে চলে আসতে পারে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করে উদ্ধারকৃত অজগরটি শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, “বন্যপ্রাণী কখনো মানুষের শত্রু নয়। আবাসস্থল সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে লোকালয়ে চলে আসে। সচেতনতা বাড়লে মানুষ ও বন্যপ্রাণী—দু’পক্ষই নিরাপদ থাকবে।”
উল্লেখ্য যে, বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন গত দুই দশকে প্রায় দুই হাজারের উপর বন্যপ্রাণী উদ্ধার করে বন বিভাগের মাধ্যমে অবমুক্ত করেছে।
প্রকৃতিপ্রধান শ্রীমঙ্গল উপজেলা চারদিকে পাহাড়, হাওর, বনাঞ্চল ও চা বাগানে ঘেরা। বিশেষ করে ভানুগাছ পাহাড় ও লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বনভূমি দখল, বসতি স্থাপন, রিসোর্ট নির্মাণ ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক স্থাপনার বিস্তারের কারণে বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাস ও খাদ্যসংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।
ফলে খাদ্যের সন্ধানে প্রায়ই বন্যপ্রাণী লোকালয়ে চলে আসছে। অনেক সময় সড়কে যানবাহনের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারায় তারা, আবার কোথাও আতঙ্কিত মানুষ তাদের পিটিয়ে মেরে ফেলে। তবে সচেতন নাগরিকদের একটি অংশ এখন বন্যপ্রাণী দেখলে হত্যা না করে দ্রুত উদ্ধারকারী সংস্থাকে খবর দিচ্ছেন, যা পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠছে।



















