img

ফুলে মোড়া ‘ক্যাসিয়া জাভানিকা’: শিক্ষক তারেক হাসানের হাত ধরে সবুজে নতুন রূপে শ্রীমঙ্গল

প্রকাশিত :  ১০:২৩, ০৯ মে ২০২৬

ফুলে মোড়া ‘ক্যাসিয়া জাভানিকা’: শিক্ষক তারেক হাসানের হাত ধরে সবুজে নতুন রূপে শ্রীমঙ্গল
সংগ্রাম দত্ত: প্রকৃতিকে ভালোবাসা অনেকেই প্রকাশ করেন কথায়, কেউবা ছবিতে। তবে শ্রীমঙ্গলের শিক্ষক ও আলোকচিত্রপ্রেমী তারেক হাসান সেই ভালোবাসাকে রূপ দিয়েছেন বাস্তব উদ্যোগে। ক্যামেরার ফ্রেমে প্রকৃতির সৌন্দর্য তুলে ধরার পাশাপাশি নিজের হাতে গাছ লাগিয়ে তিনি সবুজে সাজিয়ে তুলছেন পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলকে।

শ্রীমঙ্গল কলেজ রোডের কবরস্থানের পাশে তার লাগানো দুর্লভ ‘ক্যাসিয়া জাভানিকা’ গাছটি এখন ফুলে ফুলে সুশোভিত। গোলাপি আভায় মোড়া গাছটির মনোমুগ্ধকর সৌন্দর্য পথচারীদের দৃষ্টি কাড়ছে প্রতিনিয়ত। কেউ গাড়ি থামিয়ে ছবি তুলছেন, কেউ আবার কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করছেন প্রকৃতির এই অনিন্দ্য রূপ।

স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগেও সড়কের পাশের স্থানটি ছিল একেবারেই সাধারণ। কিন্তু তারেক হাসানের পরিচর্যায় গাছটি আজ যেন পুরো এলাকাকে নতুন সৌন্দর্যে ভরিয়ে তুলেছে। বিশেষ করে ফুল ফোটার মৌসুমে জায়গাটি ছোট্ট এক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকেন্দ্রে পরিণত হয়।

তারেক হাসান মনে করেন, একটি গাছ শুধু পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, মানুষের মনেও ছড়িয়ে দেয় প্রশান্তি ও সৌন্দর্যের অনুভূতি। সেই বিশ্বাস থেকেই তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজ উদ্যোগে শ্রীমঙ্গলের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে শোভাবর্ধনকারী, ফলজ ও বনজ নানা প্রজাতির গাছ।

বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন নগরী ও চায়ের রাজ্যখ্যাত শ্রীমঙ্গলে প্রতিদিনই দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আনাগোনা থাকে। শহরের বিভিন্ন সড়কের পাশে ফুটে থাকা এমন দৃষ্টিনন্দন গাছপালা পর্যটকদের আকৃষ্ট করছে নতুনভাবে। স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি দর্শনার্থীরাও এই সৌন্দর্যে মুগ্ধ হচ্ছেন।

অনেকেই বলছেন, পরিকল্পিতভাবে এমন বৃক্ষরোপণ অব্যাহত থাকলে শ্রীমঙ্গলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আরও বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে পরিবেশ রক্ষা ও নগর সৌন্দর্য বৃদ্ধিতেও এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রকৃতিপ্রেমী শিক্ষক তারেক হাসানের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শুধু একটি গাছ লাগানোর গল্প নয়; এটি মানুষ ও প্রকৃতির বন্ধনের এক নীরব বার্তা। যেখানে সৌন্দর্য, পরিবেশ সচেতনতা ও মানবিক ভালোবাসা একসঙ্গে ফুটে উঠেছে ফুলে মোড়া একটি ‘ক্যাসিয়া জাভানিকা’ গাছের রঙিন ছায়ায়।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

৭০ বছরের অপেক্ষা: একটি সেতুর স্বপ্নে বদলে যেতে পারে কমলগঞ্জ–রাজনগরের হাজারো মানুষের জীবন

প্রকাশিত :  ১১:১০, ১৮ জুন ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ ও রাজনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি—লাঘাটা নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু। স্বাধীনতারও আগে থেকে নদীটি দুই উপজেলার মানুষের যাতায়াত ও যোগাযোগের পথে বড় বাধা হয়ে আছে। প্রায় ৭০ বছর ধরে স্থায়ী সেতুর অভাবে এলাকার কয়েক হাজার মানুষকে এখনো একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার যুগে দাঁড়িয়ে এখনো তারা মৌলিক অবকাঠামোগত সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামাজিক যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই তাদের নানামুখী দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

একটি সাঁকো, হাজারো মানুষের ভরসা

লাঘাটা নদীর পশ্চিম তীরে কমলগঞ্জ উপজেলার রকিব বাজার-গোপিনগর, উত্তর শ্রীরামপুর, রাধাগোবিন্দপুর, বৃন্দাবনপুর, কান্দিগাঁও, মাঝগাঁও, নোয়াগাঁও, নন্দগ্রাম, কোনাগাঁও, বৈরাগীচক ও রাজদিঘিরপার এলাকার মানুষ বসবাস করেন। অপরদিকে পূর্ব তীরে রয়েছে রাজনগর উপজেলার মৌলভীচক, নোয়াগাঁও, মিলের বাজার, চানহারাবেলী, পালপুর, আপসলগতি, মরিচা ও বাঘুয়া গ্রামের জনপদ।

এই দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম একটি বাঁশের সাঁকো। বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এটি ব্যবহার করেন।

স্বাস্থ্যসেবায় সময়ের সঙ্গে যুদ্ধ

এলাকাবাসীর মতে, সেতু না থাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হতে হয় রোগীদের। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগী ও গর্ভবতী নারীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

বর্তমানে বিকল্প পথ ব্যবহার করে জেলা সদর হাসপাতালে পৌঁছাতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। স্থানীয়দের ধারণা, লাঘাটা নদীর ওপর ২৫ থেকে ৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মিত হলে এই সময় কমে প্রায় ৩০ মিনিটে নেমে আসবে। এতে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি অনেক মূল্যবান জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।

শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পথচলা

নদীর দুই পাড়ে রয়েছে একাধিক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী বাঁশের সাঁকো পার হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। বর্ষাকালে সাঁকো পিচ্ছিল ও নড়বড়ে হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

অভিভাবকদের অভিযোগ, নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থার অভাবে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। ফলে শিক্ষার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে।

কৃষি ও বাণিজ্যের সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত

কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের অর্থনীতি মূলত ফসল উৎপাদন ও স্থানীয় বাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। কিন্তু সেতু না থাকায় কৃষকরা সহজে তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে পারেন না। এতে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং ন্যায্য মূল্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের মতে, সেতু নির্মিত হলে রকিব বাজার, রাজদিঘিরপার বাজার ও মিলের বাজারসহ আশপাশের বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো নতুন গতি পাবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

দীর্ঘদিনের দাবিতে এলাকাবাসী

এলাকাবাসীর পক্ষে মো. রকিব মিয়া জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। আবেদনে লাঘাটা নদীর ওপর ২৫ থেকে ৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে। তাদের বিশ্বাস, একটি সেতু শুধু দুই পাড়কে সংযুক্ত করবে না; বরং দীর্ঘদিনের অবহেলায় পিছিয়ে থাকা একটি বিস্তীর্ণ জনপদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।

লাঘাটা নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু এখন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের দাবি নয়; এটি হাজারো মানুষের নিরাপদ জীবন, উন্নত যোগাযোগ এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের স্বপ্নের প্রতীক হয়ে উঠেছে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর