img

শান্তিগঞ্জে গাছের সাথে মোটর সাইকেলের ধাক্কা, ৭ম শ্রেণির ছাত্র নিহত

প্রকাশিত :  ১০:৩৭, ১২ মে ২০২৬

 শান্তিগঞ্জে গাছের সাথে মোটর সাইকেলের ধাক্কা, ৭ম শ্রেণির ছাত্র নিহত

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জের ডবর-জগন্নাথপুর সড়কে দুর্ঘটনায় এক মোটর সাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও একজন।

সোমবার বিকাল সাড়ে ৪ টায় থানা এলাকার দরগাপাশা ইউনিয়নের সিচনী ব্রীজ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।। নিহত নিরব মিয়া (১৫) দরগাপাশা ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের তাদির ইসলামের পুত্র এবং আহত সাকিবুর ইসলাম(১৫) একই গ্রামের সফিকুল ইসলামের পুত্র। নিহত নিরব মিয়া ও সাকিবুর ইসলাম আক্তাপাড়া মাদরাসার ৭ শ্রেণীর শিক্ষার্থী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার(১১ মে) বিকাল সাড়ে ৪ টায় নিহত নিরব মিয়া তাহার চাচার মোটর সাইকেলযোগে সহপাঠি সাকিবুল ইসলামকে সাথে নিয়ে ডাবর-জগন্নাথপুর সড়কে মোটর সাইকেল চালিয়ে পাগলা বাজারে যায়। পাগলা বাজার থেকে ফেরার পথে পথিমধ্যে সিচনী ব্রিজ এলাকায় দ্রুত ও বেপরোয়া গতিতে মোটর সাইকেল চালিয়ে নিয়ন্ত্রন হারায় এবং রাস্তায় পাশে থাকা গাছের সাথে স্বজোরে ধাক্কা দেয়।

এতে ঘটনাস্থলেরই নিরব মিয়া মাথায় আঘাত পেয়ে মৃত্যুবরণ করে। মুমূর্ষ ও আহত অবস্থায় সাকিবুর রহমানকে দ্রুত সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করা হয়। তার অবস্থা আশংকাজনক বলে জানিয়েছেন তার চাচা সাদেক মিয়া।

তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে শান্তিগঞ্জ থানা পুলিশের এসআই সেলিম মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃত নিরব মিয়ার লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেন । পরে লাশ ময়না তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়।

নিহত নিরবের বাবার চাচাতো ভাই সাদেক মিয়া জানান, নিরব মিয়া তার চাচার নতুন মোটর সাইকেল পরিবারের কাউকে না বলে বাড়ি থেকে পাগলা বাজার থেকে আসার পথে সিচনী ব্রিজ এলাকায় দ্রুত গতিতে মোটর সাইকেলের নিয়ন্ত্রন হারিয়ে গাছের সাথে ধাক্কা লাগে। এতে ঘটনাস্থলে নিরব মারা যায়।

শান্তিগঞ্জ থানার উপ পুলিশ পরিদর্শক(এসআই) নোবেল সরকার বলেন, লাশ ময়না তদন্তের জন্য হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

৭০ বছরের অপেক্ষা: একটি সেতুর স্বপ্নে বদলে যেতে পারে কমলগঞ্জ–রাজনগরের হাজারো মানুষের জীবন

প্রকাশিত :  ১১:১০, ১৮ জুন ২০২৬

সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ ও রাজনগর উপজেলার সীমান্তবর্তী জনপদের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি—লাঘাটা নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু। স্বাধীনতারও আগে থেকে নদীটি দুই উপজেলার মানুষের যাতায়াত ও যোগাযোগের পথে বড় বাধা হয়ে আছে। প্রায় ৭০ বছর ধরে স্থায়ী সেতুর অভাবে এলাকার কয়েক হাজার মানুষকে এখনো একটি জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করে চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার যুগে দাঁড়িয়ে এখনো তারা মৌলিক অবকাঠামোগত সুবিধা থেকে বঞ্চিত। ফলে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং সামাজিক যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই তাদের নানামুখী দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

একটি সাঁকো, হাজারো মানুষের ভরসা

লাঘাটা নদীর পশ্চিম তীরে কমলগঞ্জ উপজেলার রকিব বাজার-গোপিনগর, উত্তর শ্রীরামপুর, রাধাগোবিন্দপুর, বৃন্দাবনপুর, কান্দিগাঁও, মাঝগাঁও, নোয়াগাঁও, নন্দগ্রাম, কোনাগাঁও, বৈরাগীচক ও রাজদিঘিরপার এলাকার মানুষ বসবাস করেন। অপরদিকে পূর্ব তীরে রয়েছে রাজনগর উপজেলার মৌলভীচক, নোয়াগাঁও, মিলের বাজার, চানহারাবেলী, পালপুর, আপসলগতি, মরিচা ও বাঘুয়া গ্রামের জনপদ।

এই দুই পাড়ের মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম একটি বাঁশের সাঁকো। বর্ষা মৌসুমে সাঁকোটি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এটি ব্যবহার করেন।

স্বাস্থ্যসেবায় সময়ের সঙ্গে যুদ্ধ

এলাকাবাসীর মতে, সেতু না থাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হতে হয় রোগীদের। বিশেষ করে মুমূর্ষু রোগী ও গর্ভবতী নারীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

বর্তমানে বিকল্প পথ ব্যবহার করে জেলা সদর হাসপাতালে পৌঁছাতে প্রায় দুই ঘণ্টা সময় লাগে। স্থানীয়দের ধারণা, লাঘাটা নদীর ওপর ২৫ থেকে ৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মিত হলে এই সময় কমে প্রায় ৩০ মিনিটে নেমে আসবে। এতে জরুরি চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি অনেক মূল্যবান জীবন রক্ষা করা সম্ভব হবে।

শিক্ষার্থীদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পথচলা

নদীর দুই পাড়ে রয়েছে একাধিক স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী বাঁশের সাঁকো পার হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাতায়াত করে। বর্ষাকালে সাঁকো পিচ্ছিল ও নড়বড়ে হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বেড়ে যায়।

অভিভাবকদের অভিযোগ, নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থার অভাবে অনেক শিক্ষার্থী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যেতে পারে না। ফলে শিক্ষার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে।

কৃষি ও বাণিজ্যের সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত

কৃষিনির্ভর এই অঞ্চলের অর্থনীতি মূলত ফসল উৎপাদন ও স্থানীয় বাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। কিন্তু সেতু না থাকায় কৃষকরা সহজে তাদের উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করতে পারেন না। এতে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পায় এবং ন্যায্য মূল্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।

স্থানীয়দের মতে, সেতু নির্মিত হলে রকিব বাজার, রাজদিঘিরপার বাজার ও মিলের বাজারসহ আশপাশের বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো নতুন গতি পাবে। একই সঙ্গে কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

দীর্ঘদিনের দাবিতে এলাকাবাসী

এলাকাবাসীর পক্ষে মো. রকিব মিয়া জেলা প্রশাসকের কাছে একটি আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন। আবেদনে লাঘাটা নদীর ওপর ২৫ থেকে ৩০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেবে। তাদের বিশ্বাস, একটি সেতু শুধু দুই পাড়কে সংযুক্ত করবে না; বরং দীর্ঘদিনের অবহেলায় পিছিয়ে থাকা একটি বিস্তীর্ণ জনপদের অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানবিক উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচন করবে।

লাঘাটা নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতু এখন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের দাবি নয়; এটি হাজারো মানুষের নিরাপদ জীবন, উন্নত যোগাযোগ এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের স্বপ্নের প্রতীক হয়ে উঠেছে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর