img

মৌলভীবাজারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও কৃষি জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধ কোনভাবেই যেন থামছে না

প্রকাশিত :  ২১:২২, ০৮ জুন ২০২৫

মৌলভীবাজারে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও কৃষি জমি থেকে মাটি কাটা বন্ধ কোনভাবেই যেন থামছে না
সংগ্রাম দত্ত: মৌলভীবাজার জেলার সাতটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও কৃষি জমি থেকে মাটিকাটা কোনভাবেই যেন থামছে না। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা পরীক্ষার সংস্থা বিভিন্ন উপজেলা থেকে ৪০ লক্ষ টাকার বালু জব্দ ও সাড়ে নয় লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করেছে।

মৌলভীবাজার জেলার রাজনগর, কুলাউড়া, জুড়ী, বড়লেখা, কমলগঞ্জ, মৌলভীবাজার সদর ও শ্রীমঙ্গল উপজেলায় দিন দিন কৃষি জমির পরিমাণ কমছে। বিগত পাঁচ বছরে প্রায় ৬২২ একর ভূমি কমেছে বলে জানা গেছে। জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও কৃষি জমি থেকে মাটি কেটে অন্যত্র পাচার করার কারণে জমির ক্ষতিসহ পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। প্রশাসনের লোকজন মাঝেমধ্যে অপারেশন চালিয়ে কিছু জরিমানা , ড্রাইভার হেল্পার আটক ও ট্রাক জব্দ করলেও ঐসব কার্যক্রমের পেছনে পর্দার আড়ালে থাকা গডফাদাররা  ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকেন বলে এলাকায় গুঞ্জন শোনা যায়। 

একশ্রেণীর প্রভাব প্রতি পত্তিশক্তিশালী রাজনৈতিক নেতা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় মাটি ব্যবসায়ীরা এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে গেছে। তারা কৃষকদের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে জমির এক থেকে দেড় ফুট মাটি কিনে নিয়ে চড়া দামে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেন। মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ, রাজনগর, কুলাউড়া, শ্রীমঙ্গল ও সদর উপজেলাসহ হাকালুকি, হাইল, কেওলার হাওরসহ বিভিন্ন এলাকা  জমি ভরাটের মহোৎসবের খবর পাওয়া যাচ্ছে। 

শ্রীমঙ্গল উপজেলার সিন্দুরখান, ভূনবীর, নোয়াগাওসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে  প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলের নেতা নামধারী লোকজনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় একশ্রেণীর হোমরাচোমরা অবাধে বিভিন্ন ছোট নদী বা ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা ও কৃষি জমি থেকে মাটি মাটি কেটে অন্যত্র পাচার করা হচ্ছে। বিগত বছরে সিন্দুরখান ও ভূনবীর ইউনিয়নে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে ট্রাকে করে বালুপাচারের সময় ট্রাকের ধাক্কায় তিনজন নিহত হবার খবর পাওয়া গেছে। এমনকি ভূনবীর ইউনিয়নে স্থানীয় জনসাধারণ ট্রাক আটক করে পুলিশ উপজেলা প্রশাসন এর সামনে বিক্ষোভ করে অবিলম্বে এসব উত্তোলন বন্ধ করার দাবি জানায়। এসব নিয়ে পত্রপত্রিকায় বিভিন্ন সময়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। কিন্তু পুলিশের অপারেশনে বিভিন্ন ঘটনায় মাঝেমধ্যে ট্রাক ড্রাইভার ও হেলপার দের আটক করে দেখানো হলেও এসবের সাথে জড়িত প্রভাবশালী নেতারা থাকেন ধরাছোঁয়ার বাইরে।

শ্রীমঙ্গল থানার নোয়াগাঁও গ্রামের  বিস্কুট ফ্যাক্টরির সামনের জাগছড়া থেকে স্থানীয় হোমরাচোমরা শিপলুর নেতৃত্বে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে শিল্পপতি সিরাজুল ইসলাম হারুন মিয়া ও সাবেক চেয়ারম্যান রাসেন্দ্র দত্ত চৌধুরী জমির উপর দিয়ে বিগত দিনগুলোতে পাচার করেছে বলে জানা গেছে। ছড়ার পাশে স্থানীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোকজন ভয়ে পাচারকারী গডফাদারদের নাম ভয়ে বলতে চায় না।কিন্তু বিষয়গুলো সকলের কাছে ওপেন সিক্রেট ।

গত ২ জুন  কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর ইউনিয়নের চাতলাপুর ব্রিজের পাশে অবৈধভাবে স্তুপ করে রাখা প্রায় ৫ লাখ ঘনফুট বালু জব্দ করেছে প্রশাসন।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহ জহুরুল হোসেন অভিযান চালিয়ে বালুগুলো জব্দ করেন ।

জানা গেছে, জব্দকৃত বালুগুলো ২০২১-২২ অর্থবছরে উত্তোলন করা হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সরিয়ে নেওয়া হয়নি। এ কারণে সরকারপক্ষে এগুলো জব্দ করা হয়েছে। বালুগুলোর বাজারমূল্য প্রায় ৪০ লাখ টাকা। শিগগিরই এসব বালু উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে সরকারি ব্যবস্থাপনায় বিক্রি করা হবে বলেও জানান তিনি।

গত ১ জুন সন্ধ্যায় মনু নদী থেকে অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু ট্রাকযোগে পরিবহনের সময় রাস্তায় ট্রাকের সারি আটকে দেন জনতা। পরে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানার ভ্রাম্যমান আদালত ট্রাকে পরিবহনকৃত বালু জব্দ এবং ২ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করেন।

কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উপজেলার শমশেরনগর-চাতলাপুর সড়কে ট্রাক আটক করে জরিমানা করেন।

জানা যায়, মনু নদীর কুলাউড়া উপজেলার শরীফপুর এলাকায় মনু সেতু সংলগ্ন স্থান থেকে দীর্ঘদিন ধরে একটি মহল বালু উত্তোলনের পর পরিবহন করে আসছিল। এরফলে নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ, ব্রিজের পার্শ্ববর্তী স্থান, কৃষিজমি ও সড়কে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়। স্থানীয়রা বার বার প্রতিবাদ জানিয়ে আসলেও কোন কাজ হয়নি। বর্তমানে ইজারার মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের পর শতাধিক ট্রাকযোগে বালু পরিবহন হচ্ছিল। এতে স্থানীয়রা আপত্তি জানানোর পরও বালুবাহী ট্রাক চলাচল বন্ধ হয়নি। ফলে যান চলাচলে বাঁধাগ্রস্ত ও সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় জনতা অবৈধ বালু বহনকারী ট্রাকের সারি আটক করেন।
খবর পেয়ে কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডি. এম সাদিক আল সাফিন বালুবাহী ট্রাকগুলো জব্দ করেন এবং ২ লক্ষ টাকা জরিমানা আদায় করেন। ট্রাক জব্দ ও জরিমানা আদায়ের সত্যতা নিশ্চিত করেন কমলগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ডি. এম সাদিক আল সাফিন।

গত ১৮ জানুয়ারি শ্রীমঙ্গল থানা পুলিশ
 উপজেলার কালাপুরে বাড়ি নির্মাণের মাটি বহনের সময় গাড়ির মালিক  ময়নুল ও চালক সহ ২ জনকে আটক করেছে ।

শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ আমিনুল ইসলাম বলেন, জমি থেকে মাটি কেটে বহন করার অপরাধে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। মালিকের গাড়ি মাটি বহন করায় ভূমি আইনে সে অপরাধী। গ্রেফতারকৃত  ইসলাম গাড়ির মালিক। 

জানাযায়, লইয়ারকুল সাতগাঁও এর মোঃ শিব্বির আহমেদ ও মোঃ হারুননুর রশিদ উপজেলার ভাড়াউড়া মৌজাধীন জে এল ৭-৬৪- খতিয়ান নং: ৬৮৪৫, দাগ নং ৫৫৩৪ ভূক্ত ভূমিতে স্থানীয় ৩নং শ্রীমঙ্গল ইউনিয়ন পরিষদের ২৭/১১/২০২৪ইং তারিখের ১১২৯/২০২৪ নং স্মারক মূলে গৃহ নির্মাণ (টিনশেড বাড়ী বিশিষ্ট) করার অনুমতি নিয়ে শ্রীমঙ্গল ভাড়াউড়া ৪ নং পুলের পাশে বাড়ি করার জন্য কালাপুরের গাজীপুর দরছ মিয়ার জমি থেকে মাটি ডায়না পিকাপ দিয়ে বহন করছিলেন।

শ্রীমঙ্গল থানার এসআই রহিম ওসির নির্দেশে মাটি বহনকারী গাড়ি কালাপুর থেকে গাড়ির ড্রাইভার ও মালিক ময়নূলকে গ্রেফতার করে থানায় আটক করে নিয়ে আসেন।

জেলা প্রশাসক মৌলভীবাজারের ফেসবুক একাউন্টের পোস্ট থেকে জানা গেছে গত ১০ এপ্রিল  কমলগঞ্জ উপজেলার আদমপুর ইউনিয়নের কেওয়ালীঘাট থেকে অবৈধ বালু পরিবহনের দায়ে  শ্রীপুর কোঁনাগাও এর 
আমিন মিয়াকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং   গোলেরহাওরের কয়ছর আলীকে ২ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ২ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। 

অন্যদিকে গত ১০ এপ্রিল  তারিখে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় কৃষি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি বালু উত্তোলনের দায়ে ভূনবীর আলীশারকুলের মোঃ তাজু মিয়াকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

গত ২১ এপ্রিল  রাজনগর উপজেলার তারাপাশায় মনু নদী বালুমহালে ইজারা বহির্ভূতভাবে বালি উত্তোলন ও পরিবহনের জন্য বালুমহাল ও  মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ অনুযায়ী ২ টি পৃথক মামলায় চারজন অভিযুক্তকে  মোঃ ইসমাইল হোসেন , জুনেদ আহমদ (২৪) ,   মোঃ সেলিম উদ্দিন (৩০),   জুয়েল আহমেদ (৩৫) কে তিন জনকে এক লক্ষ পঞ্চাশ হাজার করে এবং অপর জনকে পঞ্চাশ হাজার সর্বমোট  পাঁচ লক্ষ টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক এর ফেসবুক একাউন্টের পোস্ট থেকে জানা গেছে।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তাঁর ফেসবুক একাউন্টে একটি পোস্ট করে জানিয়েছেন যে,গত ২৫ এপ্রিল ২০২৫ বিকেল ৪ ঘটিকার সময় মৌলভীবাজার সদর উপজেলার ১০নং নাজিরাবাদ ইউনিয়নের ছিকরাইল গ্রামে মোবাইল কোর্টের অভিযানকালে অবৈধভাবে সরকারি জমি দখল ও মাটি কেটে ক্ষতিসাধনের দায়ে মৌলভীবাজার জেলা সদরের দুঘর গ্রামের মোঃ আবুল কাসেম (৩০) কে হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়। তাকে  ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩ এর ১১ ধারায় তাকে দোষী সাবস্ত করে ০৬(ছয়) মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদানপূর্বক জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

সিলেটে চালু হলো ‘কৃষকের হাট’, কম দামে মিলবে পণ্য

প্রকাশিত :  ১২:০২, ১২ এপ্রিল ২০২৬

বাজার সিন্ডিকেট ব্যবস্থা ভাঙতে দেশে প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় সিলেটে চালু হলো ‘কৃষকের হাট’। জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের উদ্যোগে নগরের টিলাগড়ে সরকারি জায়গায় এ হাট চালু করা করা হয়েছে।

শনিবার সকালে হাটটির উদ্বোধন করেন শিল্প ও বানিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সংশ্লিস্টদের আশা, এই হাটে অপেক্ষাকৃত কম দামে পণ্য কিনতে পারবেন ক্রেতারা।

উদ্বোধনের পর থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতায় জমজমাট ছিলো হাটটি। দুপুরের মধ্যে বেশিরভাগ কৃষকের পণ্য বিক্রি হয়ে যায়। প্রথমদিনে সিলেট নগর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ২০ জন কৃষক তাদের পণ্য নিয়ে হাটে আসেন।

সংশ্লিস্টরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত টিলাগড় পয়েন্টের নির্ধারিত স্থানে এই বাজারের কার্যক্রম চলবে। এখানে সিলেটের প্রান্তিক কৃষকরা কোনো ধরনের মধ্যস্থতাকারী বা দালালের সহায়তা ছাড়াই তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করার সুযোগ পাবেন। বাজারটির মূল লক্ষ্য হলো মাঠপর্যায়ের কৃষক এবং শহরের সাধারণ ভোক্তার মধ্যে একটি সরাসরি সেতুবন্ধন তৈরি করা।

সিলেটের সদর উপজেলার মোগলাগাও এলাকা থেকে বাজারে মিষ্টি কুমড়া নিয়ে এসেছিলেন কৃষক উস্তার মিয়া। তিনি বলেন, আগে তো আমরা মাঠেই ফসল বিক্রি করে ফেলতাম। পাইকাররা কিনে নিয়ে আসতেন। তাতে আমরা দাম কম পেতাম অথচ ক্রেতারা বেশি দামে কিনছেন। এই প্রথম বাজারে এসে সরাসরি ক্রেতাদের কাছে ফসল বিক্রি করতে পারছি। এতেভালো লাভ হচ্ছে।

টুকের বাজার থেকে আসা আরেক কৃষক বলেন, সবজি বাজারে নিয়ে আসতে গাড়ি ভাড়া ছাড়া আর কোন খরচ হয়নি আমার। এখানে দোকান ভাড়াও দিতে হচ্ছে না। ফলে নায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করতে পারছি। তাতে আমারও লাভ হচ্ছে, ক্রেতাদেরও লাভ হচ্ছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরণের শাকসবজির পাশাপাশি মধু, ঘিসহ আর নানান ধরণের কৃষিজাত দ্রব্য বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে নিয়ে এসেছেন কৃষকরা। অপেক্ষাকৃত কম দামে ও টাটকা শাবসবজি পেয়ে খুশি ক্রেতারাও।

এখানে বাজার করতে যাওয়া চাকরিজীবী খালেদ আহমদ বলেন, কয়েকপদের সবজি কিনলাম। দাম কিছুটা কম আছে। তাছাড়া সবজির মানটাও ভালো। একেবারে টাটকা। ইটি আমাদের জন্য ভালো হয়েছে।

কয়েস উদ্দিন নামের আরেক ক্রেতা বলেন, এটি ভালো উদ্যোগ। এই উদ্যোগ যেনো অব্যাহত থাকে। অনেক ভালো উদ্যোগ কিছুদিন পরই হারিয়ে যায়। এই বাজারের ক্ষেত্রে যেনো তা না হয়। এছাড়া এরকম বাজার আরো নগরের আরও কয়েকটি এলাকায় চালু করতে ভালো। তাদের আরও অনেক কৃষক ও ক্রেতা লাভবান হবেন।

সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে একটি কৃষিপণ্য মাঠ থেকে ভোক্তার থালা পর্যন্ত পৌঁছাতে অন্তত চার থেকে পাঁচবার হাতবদল হয়। এতে প্রতিটি স্তরে দাম বাড়লেও তার সুফল কৃষকরা পান না; বরং চাষের খরচ তোলা নিয়ে তাদের চরম ঝুঁকিতে থাকতে হয়। অন্যদিকে, সাধারণ ক্রেতাদের গুনতে হয় চড়া দাম। এই ‘কৃষকের হাট’ চালু হওয়ায় ন্যায্য মূল্য কৃষক তার শ্রমের সঠিক দাম সরাসরি পাবেন। সাশ্রয়ী দামে বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে সতেজ ও বিষমুক্ত সবজি পাবেন সাধারণ ক্রেতারা। সিন্ডিকেট নির্মূলে মধ্যস্বত্বভোগীদের অতিরিক্ত মুনাফাখোরি প্রবণতা হ্রাস পাবে।

শনিবার সকালে এই বাজার উদ্বোধনকালে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর বলেন, দেশে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আর বাজার নিয়ন্ত্রিত হবে না। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রিত হয়, এমন কথাই আমরা বাংলাদেশ থেকে মুছে দিবো।

তিনি বলেন, সিলেটে কৃষকের বাজার নতুন না। এই কনসেপ্ট পৃথিবীর দেশে দেশে আছে। আমরাও এটি চালু করলাম। যাতে বাজারে মধ্যসত্ত্বভোগী না থাকে। এতে কৃষক ও ক্রেতা সকলেই লাভবান হবেন।

তিনি বলেন, সারা দেশে কৃষক যাতে তার উৎপন্ন পণ্য সপ্তাহে একদিন হলেও সরাসরি ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারেন সে বিষয়ে প্রত্যেক জেলায় এটি চালু করা হবে। সিলেটে পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু হলো।

এই হাটের উদ্বোধনকালে মন্ত্রী আরও বলেন, আমদানি নির্ভর পণ্য স্থিতিশীল রাখতে দেশের পুরো সাপ্লাই চেন এআই মডেলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বাজার নজরদারি বজায় রাখতে সরকার সহজে করতে পারবে। এতে, বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে বলে জানান তিনি।

দেশে টিসিবির কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো হবে জানিয় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রতিবছর টিসিবির কাজের জন্য ৩২শ/৩৩শ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়, এটা কমানো হবে। তবে টিসিবির কার্যক্রম বাড়ানো হবে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, কৃষি পণ্যের বাজার সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই বাজারে পর্যায়ক্রমে আরও কৃষকদের সম্পৃক্ত করা হবে। এখানে পণ্য বিক্রির জন্য কৃষকদের কোন ভাড়া দিতে হবে না।

সিলেটের খবর এর আরও খবর