img

ইসরায়েলকে বাঁচাতে এলে তাদের ওপরও হামলা করবে ইরান

প্রকাশিত :  ০৬:১৯, ১৪ জুন ২০২৫

ইসরায়েলকে বাঁচাতে এলে তাদের ওপরও হামলা করবে ইরান

ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের অনেক শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা ও পারমাণবিক বিশেষজ্ঞ নিহত হয়েছে। পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ইরান বলেছে, তারা ইসরায়েলের ওপর হামলা আরও বাড়াবে।

একজন সিনিয়র ইরানি কর্মকর্তা জানিয়েছে, ‘ইরান চাইলে এই হামলা আরও জোরালো করতে পারে।’

ইসরায়েলকে বাঁচাতে এলে তাদের ওপরও হামলা করবে ইরান

তিনি আরও বলেন, যে দেশগুলো চাইবে ইসরায়েলকে রক্ষা করতে, তাদের ঘাঁটিতেও হামলা হতে পারে।

ইরান মনে করে, আত্মরক্ষার অধিকার তাদের রয়েছে। কারণ, ১৩ই জুন সকালে ইসরায়েল যে হামলা চালিয়েছে, তা অনেক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও পারমাণবিক স্থানে আঘাত করেছে এবং অনেক কমান্ডার ও বিশেষজ্ঞকে হত্যা করেছে।

শুক্রবার রাতে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ থ্রি’র অংশ হিসেবে শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে ইরান। এ হামলায় তারা ইসরায়েলের অনেক গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি ও স্থাপনায় আঘাত হানে এবং দেশটির দুর্ভেদ্য আকাশ প্রতিরক্ষাও অল্প সময়ের মধ্যেই ভেদ করে যায়।

ইরানি বিপ্লবী গার্ড কর্পস বলেছে, এ অভিযান সম্পূর্ণভাবে ইসলামী বিপ্লবের নেতা ও সেনাপ্রধানের নির্দেশ এবং জনগণের দাবিতে পরিচালিত হয়েছে।

ইসরায়েলের হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইরান যে প্রতিশোধ নেবে, তার ইঙ্গিত বহু আগেই মিলেছিল। ইরান জানিয়েছিল, তারা একসাথে ছয়শ’রও বেশি হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক মিসাইল ছোঁড়ার সক্ষমতা অর্জন করেছে। এ তথ্য সামনে আসার পর থেকেই নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছিলেন, ইসরায়েল যদি উত্তেজনা বাড়ায়, তবে তার পরিণাম ভয়াবহ হতে পারে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতায় এবার মধ্যস্থতা করবে চীন

প্রকাশিত :  ১৮:৫৫, ১২ মে ২০২৬

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা প্রশমনে চীন একটি শক্তিশালী মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে বলে জানিয়েছে তেহরান। চীনে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত রহমানি ফাজলি দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। 

রাষ্ট্রদূত রহমানি বলেন, বেইজিং তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা কমানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তবে এই মধ্যস্থতা যেন ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়।

ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির বেইজিং সফর এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীন সফরের ঠিক আগমুহূর্তে ফাজলির এই মন্তব্যটি সামনে এল। হোয়াইট হাউসের সূত্রগুলো জানিয়েছে, ট্রাম্পের এই চীন সফরের আগে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ে বড় কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা কম। 

রহমানি ফাজলি জোর দিয়ে বলেন, চীন কেবল ইরানের একটি অর্থনৈতিক অংশীদারই নয়, বরং বহিরাগত হুমকির বিপরীতে তেহরানের ‘রাজনৈতিক ভারসাম্য’ রক্ষার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ।

রাষ্ট্রদূত ফাজলি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে সাম্প্রতিক সংঘাতের পর ইরান কেবল সামরিক বা কৌশলগত প্রতিক্রিয়াতেই সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। বরং ইরান সক্রিয়ভাবে তার কূটনৈতিক অবস্থানকে পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছে। 

আরাগচির চীন সফর সেই পরিকল্পনারই একটি অংশ। তার মতে, চীন এই সংকটকে ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির কোণ থেকে দেখছে না, বরং তারা যুদ্ধ নিয়ন্ত্রণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার পতন ঠেকাতেই বেশি আগ্রহী।

হরমুজ পরিস্থিতির বিষয়ে ফাজলি স্পষ্ট করেন যে, হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নেওয়া নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলো একান্তই প্রতিরক্ষামূলক এবং তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিরোধী নয়। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেইজিং সফরের প্রাক্কালেই ইরানের তেল বিক্রিতে সহায়তার অভিযোগে ১২ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। এই দ্বিমুখী পরিস্থিতির মধ্যেই বেইজিংয়ের মধ্যস্থতার বিষয়টি এখন আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

সূত্র:সিএনএন। 

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর