আহত ২ শতাধিক

img

ইসরায়েলজুড়ে ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১০, নিখোঁজ ৩৫

প্রকাশিত :  ০৫:২২, ১৫ জুন ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:৪৯, ১৫ জুন ২০২৫

ইসরায়েলজুড়ে ইরানের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ১০, নিখোঁজ ৩৫

ইসরায়েলে রবিবার রাতভর ইরানের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে দশ জনে দাঁড়িয়েছে, যাদের মধ্যে একজন শিশু রয়েছে। আহত হয়েছেন আরো ২০০ জনের মতো। এ ছাড়া এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৩৫ জন। খবর সিএনএন ও টাইমস অব ইসরায়েলের।

ইসরায়েলের বাত ইয়ামে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর কয়েক ডজন মানুষ নিখোঁজ বলে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইয়নেট। হোম ফ্রন্ট কমান্ডের অনুমান, তেল আবিবের ঠিক দক্ষিণে বাত ইয়ামে হামলার স্থানে ৩৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন।

ইয়নেট আরও জানায়, ওই এলাকায় হামলায় আহতের সংখ্যা বেড়ে ১০০-এ পৌঁছেছে, যার মধ্যে চারজনের অবস্থা গুরুতর।

গত রাতে নিহতদের মধ্যে একজন ১০ বছরের ছেলে এবং দুজন বয়স্ক নারী। তাদের বয়স ৬৯ ও ৮০ বছর। ইসরায়েলি জরুরি পরিষেবা ম্যাগেন ডেভিড অ্যাডমের বরাত দিয়ে ইয়নেট আরও বলেছে, তেল আবিবের দক্ষিণে আরেকটি শহর রেহোভটে পৃথক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কমপক্ষে ৩৭ জন আহত হয়েছেন।

এদিকে ইরানের রাজধানী তেহরানে একটি আবাসিক ভবন কমপ্লেক্সে ইসরায়েলের চালানো বিমান হামলায় অন্তত ৬০ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে ২০ শিশু রয়েছে। শনিবার (১৪ জুন) ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১২ জুন) রাত ৩টার দিকে ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল। ওই হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক নেতা ও পরমাণু বিজ্ঞানীরা নিহত হন। এদের মধ্যে রয়েছেন, সলামি রেভল্যুশনারি গার্ডের কমান্ডার ইন চিফ জেনারেল হোসেইন সালামি ও সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মোহাম্মদ বাগেরি, পরমাণু বিজ্ঞানী মোহাম্মদ মেহেদি তেহরানচি ও ফেরেদুন আব্বাসি প্রমুখ। হামলার পর প্রতিশোধের ঘোষণা দেন আয়াতু্ল্লাহ আলী খামেনি। এরপরই ইসরায়েলে মিসাইল বৃষ্টি শুরু করে ইরান।

সূত্র : আলজাজিরা 

জাতীয় এর আরও খবর

img

সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই

প্রকাশিত :  ০৪:৫৬, ১২ জুলাই ২০২৬

সাবেক স্পিকার ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আজ রোববার (১২ জুলাই) ভোর ৪টা ১৯ মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার নাসির উদ্দিন অসীম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতার কারণে রাজধানীর শ্যামলীর বাংলাদেশ স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার বাংলাদেশের একজন প্রখ্যাত আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও সাবেক স্পিকার। তিনি ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত অষ্টম জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে রাষ্ট্রপতি অধ্যাপক এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরীর পদত্যাগের পর নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বও পালন করেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর প্রতিষ্ঠালগ্নের অন্যতম নেতা এবং দীর্ঘদিন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার ১৯৩১ সালের ১ ডিসেম্বর তৎকালীন জলপাইগুড়ি জেলার (বর্তমান পঞ্চগড় জেলার) তেতুলিয়া উপজেলার নয়াবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মৌলভী আলী বক্স এবং মাতা বেগম ফখরুন্নেছা। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইতিহাসে সম্মান ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর এলএলবি সম্পন্ন করেন। পরে ১৯৬০ সালে আইন পেশায় যোগ দেন এবং ১৯৬১ সালে যুক্তরাজ্যে গিয়ে লন্ডনের লিংকনস ইন থেকে ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল ডিগ্রি লাভ করেন। দেশে ফিরে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে সংবিধান, দেওয়ানি ও ফৌজদারি আইন বিষয়ে সুনামের সঙ্গে আইন পেশা পরিচালনা করেন।

রাজনৈতিক জীবনে তিনি প্রথমে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উদ্যোগে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন এবং বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে স্থায়ী কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হন। তিনি একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং বিভিন্ন সময়ে ভূমি, শিক্ষা, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কসহ গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন।

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন এবং ২৫ জানুয়ারি ২০০৯ পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করেন। স্পিকার হিসেবে সংসদ পরিচালনায় তার নিরপেক্ষতা, সংসদীয় রীতি-নীতি অনুসরণ এবং সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। ২০০২ সালের ২১ জুন থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।

আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়েও তার বিশেষ আগ্রহ ছিল। তিনি আন্তর্জাতিক আইন, সমুদ্র আইন, জাতিসংঘ এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস নিয়ে একাধিক গ্রন্থ রচনা করেছেন। পাশাপাশি তিনি নিজ জন্মভূমি পঞ্চগড়ে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার কলেজিয়েট ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষাক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বেগম নুর আখতারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের এক মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। তার দুই ছেলেই আইন পেশার সঙ্গে যুক্ত এবং ব্যারিস্টার হিসেবে সুপ্রিম কোর্টে আইন চর্চা করছেন।

বাংলাদেশের আইন, সংসদীয় গণতন্ত্র ও রাজনীতিতে ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকারের অবদান বিশেষভাবে স্মরণীয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক ও আইনজীবী জীবনে তিনি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিকাশ এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।


জাতীয় এর আরও খবর