img

শেয়ারবাজার থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ

প্রকাশিত :  ১৬:২৯, ০১ জুলাই ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১৬:৪৯, ০১ জুলাই ২০২৫

শেয়ারবাজার থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা লুটপাটের অভিযোগ

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ইতিহাসে ২০০৯-১০ সালের শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারির ঘটনা এখনো এক কালো অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত। সেই সময়কার ভয়াবহ ধসে বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারী তাদের সঞ্চয় হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েন। এই ঘটনা তদন্তে গঠিত হয়েছিল একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি, যার নেতৃত্বে ছিলেন প্রয়াত ব্যাংকার খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ।

তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, শেয়ারবাজারে একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি ও গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে দরবৃদ্ধির কারসাজিতে যুক্ত ছিলেন। প্রতিবেদনে সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী ও অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি লোটাস কামালের নাম উঠে আসে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ও তাঁর ঘনিষ্ঠ মহল একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে শেয়ার বাজারে প্রভাব বিস্তার করে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার সম্পদ আত্মসাৎ করেছেন। যদিও এসব অভিযোগের কোনো আইনি নিষ্পত্তি এখনো হয়নি।

তদন্ত অনুযায়ী, ওই সময় লোটাস কামাল বিভিন্ন লোকসানি প্রতিষ্ঠানের শেয়ারমূল্য অস্বাভাবিকভাবে বাড়াতে প্রভাব খাটান এবং কিছু প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের তথ্য গোপন রেখে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করেন। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর অর্থমন্ত্রিত্বকালেও শেয়ার কেলেঙ্কারি চলমান ছিল।

তালিকাভুক্ত একটি প্রতিষ্ঠান ‘সিএমসি কামাল টেক্সটাইল’ ঘিরে তৎকালীন সংসদ সদস্য আ হ ম মুস্তফা কামালের নামও উঠে আসে। তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠানটি লোকসানি হওয়া সত্ত্বেও তার শেয়ারমূল্য ১৬ গুণ বেড়ে যায়, যার পেছনে ছিল স্টক ডিভিডেন্ড ঘোষণা, সম্পদ পুনর্মূল্যায়ন ও রাইট শেয়ার ইস্যুর ঘোষণা। যদিও মুস্তফা কামাল এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেন, তিনি কেবল স্টক ডিভিডেন্ড হিসেবে পাওয়া শেয়ার বিক্রি করেছেন, মূল শেয়ার নয়।

তবে সমালোচকরা মনে করেন, এসব কার্যকলাপ বিনিয়োগকারীদের ক্ষতির কারণ হয়েছে এবং তা নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহিতার দাবি রাখে। শেয়ারবাজারে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা ফিরিয়ে আনতে হলে অতীতের কেলেঙ্কারির নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

তদন্ত প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হলেও শেয়ার বাজার কারসাজিতে অভিযুক্ত কারো বিরুদ্ধেই উল্লেখযোগ্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে বাজারে অনিয়মের সংস্কৃতি দৃঢ় হয়েছে বলে অনেক অর্থনীতিবিদ ও বাজার বিশ্লেষক মনে করেন।

শেয়ারবাজারে বর্তমানে যে নানা রকম অনিয়ম ও অস্বাভাবিক দরবৃদ্ধি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তার পেছনেও অতীতের সেই প্রভাবশালী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে ধারণা করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজারের স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে নিরপেক্ষ তদন্ত, আইনগত জবাবদিহি এবং বিএসইসিসহ নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

img

হরমুজ থেকে বছরে ৪ হাজার কোটি ডলার টোল আদায় করবে ইরান

প্রকাশিত :  ১৫:১৩, ২৬ জুন ২০২৬

গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বিদেশি বাণিজ্যিক জাহাজের কাছ থেকে প্রতি বছর ৪০ বিলিয়ন ডলার টোল আদায়ের পরিকল্পনা করছে ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার। এ তথ্য জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালl, যা বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তেহরানের পরিকল্পনা হলো গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি দিয়ে যাতায়াত করা বিদেশি জাহাজগুলো যেন ‘নিজেদের নিরাপত্তা সুরক্ষিত করতে’ ইরানের সরকারকে টোল প্রদান করে। প্রতিবেশী উপসাগরীয় অঞ্চলের ছয় দেশ সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, ওমান, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গেও এ বিষয়ে সম্প্রতি একাধিকার বার আলোচনা করেছেন ইরানের কর্মকর্তারা এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে এই টোলের হিস্যা এই ৬ দেশকেও প্রদান করা হবে।

উল্লেখ্য, পারস্য উপসাগর এবং ওমান উপসাগরকে সংযোগকারী ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সংকীর্ণ প্রণালী হরমুজ বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথগুলোর মধ্যে একটি। বিশ্বের মোট জ্বালানি পণ্যের ২০ শতাংশ পরিবহন করা হয় এই জলপথ দিয়ে।

এতদিন হরমুজ প্রণালি দিয়ে মুক্তভাবে জাহাজ চলাচল করতে পারলেও গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র অভিযান শুরুর পর হরমুজে বিদেশি জাহাজ চলাচলে অবরোধ জারি করে ইরান। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যের সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটে এবং দেশে দেশে বাড়তে থাকে জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম।

হরমুজে অবরোধ জারির সময়েই ইরানের ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকার জানিয়েছিল যে যেহেতু এই জলপথ ইরানের মানচিত্রের আওতায় পড়েছে, তাই বিদেশি জাহাজগুলোকে এই প্রণালি ব্যবহার করতে হলে অবশ্যই টোল দিতে হবে। এ সংক্রান্ত একটি আইনও গত মার্চ মাসে পাস হয়েছে ইরানের পার্লামেন্টে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের এ সিদ্ধান্তে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল এবং এর পাল্টায় ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ জারি করেছিল।

সম্প্রতি ওমান সফরে গিয়েছিলেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং দেশটির শীর্ষ মুখপাত্র মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ। সেখানে হরমুজ থেকে টোল আদায় নিয়ে ঘালিবাফ বলেছেন, “সবারই এটা জানা থাকা উচিত যে হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা আর কখনও যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় অবস্থায় ফিরবে না।”

এদিকে বাঘের ঘালিবাফের এই বক্তব্য সম্প্রচারিত হওয়ার পর ইরানের ইসলামপন্থি সরকারকে সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। হরমুজে বিদেশি জাহাজগুলো থেকে টোল আদায় করা হলে তা সর্বাত্মক বিশৃঙ্খলা এবং বিপজ্জনক বৈশ্বিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।

বর্তমানে বাহরাইনে সফররত মার্কো রুবিও গতকাল সাংবাদিকদের বলেছেন, “বাস্তবতা হলো আন্তর্জাতিক জলপথ ব্যবহারের বাবদ টোল আরোপ করার অধিকার এই পৃথিবীতে কোনো দেশের নেই। ইরানের সঙ্গে যে চুক্তিই হোক না কেন- কোনো চুক্তিতেই হরমুজ থেকে টোল আদায় সংক্রান্ত শর্ত থাকলে তা যুক্তরাষ্ট্র গ্রহণ করবে না।

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের এই টোলনীতি মেনে নেয়, তাহলে বিশ্বের অন্যান্য দেশও তাদের সীমানভুক্ত আন্তর্জাতিক জলসীমায় টোল আরোপ শুরু করবে উল্লেখ করে রুবিও বলেন, “আন্তর্জাতিক জলপথ কোনো জাতি-রাষ্ট্রের সম্পত্তি নয়। এটি আজকের বিশ্বের একটি মৌলিক নীতি, যা ছাড়া বিশ্ব চরম বিশৃঙ্খলার মধ্যে পড়বে।”

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে হরমুজে জাহাজ চলাচল বাড়ছে। বৃহস্পতিবার ২৪ ঘণ্টায় ৭০টি জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করেছে বলে জানা গেছে।

সূত্র: ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল, এনডিটিভি