img

পুঁজিবাজারে ঘুরে দাঁড়ানোর বাস্তব সংকেত: আগামীকাল বিনিয়োগকারীদের জন্য কী অপেক্ষা করছে?

প্রকাশিত :  ১২:২৯, ০৭ জুলাই ২০২৫

পুঁজিবাজারে ঘুরে দাঁড়ানোর বাস্তব সংকেত: আগামীকাল বিনিয়োগকারীদের জন্য কী অপেক্ষা করছে?

✍️ রেজুয়ান আহম্মেদ

দীর্ঘ এক অনিশ্চয়তার অধ্যায় পেরিয়ে অবশেষে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে দেশের শেয়ারবাজার। আজ (০৭ জুলাই) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের উল্লম্ফন, লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং খাতভিত্তিক চাঙ্গাভাব বাজারে এক নতুন প্রত্যাবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষণ বলছে, এটি শুধুমাত্র একটি দিনের বা মুহূর্তের প্রতিফলন নয়—বরং এটি একটি বহুল প্রত্যাশিত টেকসই প্রবণতার সূচনা হতে পারে, যদি সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বিনিয়োগকারীরা সম্মিলিতভাবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন।

সূচক ও লেনদেন আশাবাদের বার্তা দিচ্ছে

ডিএসইএক্স সূচক ৮২.০৯ পয়েন্ট বা ১.৬৮% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪,৯৭৬.১৬ পয়েন্টে। এই উত্থান বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ এটি বাজারে আস্থার ফিরে আসার একটি প্রাথমিক ও শক্তিশালী লক্ষণ।

এছাড়া, ডিএসইএস ও ডিএস৩০ সূচক যথাক্রমে ১.৪৮% ও ২.০১% বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজারে ৫৭২.৬৮ কোটি টাকার লেনদেন এবং ২৭.৯৭ কোটি শেয়ার আদান-প্রদানে একটি গতিশীল ও সক্রিয় ট্রেডিং দিনের ইঙ্গিত স্পষ্ট।

ব্যাংকিং ও টেক্সটাইল খাত: ঘুরে দাঁড়ানোর প্রধান চালিকাশক্তি

আজকের বাজারে সবচেয়ে বেশি সাড়া ফেলেছে টেক্সটাইল ও ব্যাংকিং খাত।

ব্র্যাক ব্যাংক একাই ৩৭.৭৮ কোটি টাকার লেনদেন করে ৪.০৯% দরবৃদ্ধি অর্জন করেছে।

টেক্সটাইল খাত, যা দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় ছিল, হঠাৎ করেই পুনরুজ্জীবিত হয়েছে।

এছাড়া ফার্মাসিউটিক্যালস, মিউচুয়াল ফান্ড এবং খাদ্য খাতও ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছে। বাজারে গতি ফেরাতে এই খাতগুলোর সক্রিয়তা ছিল অত্যাবশ্যক।

বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর কারণসমূহ: বিশ্লেষণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি

বিশ্লেষকদের মতে, বাজার ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনে বেশ কিছু নীতিনির্ধারক ও অর্থনৈতিক কারণ সক্রিয় ছিল:

১. আন্তর্জাতিক বাজারের ইতিবাচক প্রভাব:

বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা ও রপ্তানি খাতের অগ্রগতি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থার ভিত্তি গড়ে তুলেছে।

২. নগদ প্রবাহ ও তারল্য বৃদ্ধি:

ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তারল্য বৃদ্ধির ফলে লেনদেন আরও সহজ ও স্বচ্ছ হয়েছে।

৩. বাজেট ও মুদ্রানীতি:

নতুন অর্থবছরের বাজেটে অবকাঠামো ও উৎপাদন খাতে বরাদ্দ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সুদের হারে স্থিতিশীলতা বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে।

৪. প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের প্রত্যাবর্তন:

বড় বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান ও ব্রোকারেজ হাউজগুলো দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আবার সক্রিয় হচ্ছে, যা বাজারে শক্ত ভিত্তি তৈরি করছে।

আগামীকালের বাজার: কী হতে পারে প্রবণতা?

আজকের ঘুরে দাঁড়ানো যদি কেবল একদিনের আবেগপ্রবণ প্রতিক্রিয়া না হয়ে একটি ধারাবাহিক প্রবণতা হিসেবে গড়ে ওঠে, তাহলে আগামীকাল (০৮ জুলাই) বাজারে নিচের প্রভাবগুলো দেখা যেতে পারে:

সূচকে আরও ৩০–৫০ পয়েন্ট প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা, যদি সক্রিয়তা অব্যাহত থাকে

টেক্সটাইল, ব্যাংকিং ও ফার্মা খাতে পুনরায় আগ্রহ বাড়তে পারে,

কিছু শেয়ারে মুনাফা সংরক্ষণের কারণে বিক্রির চাপ তৈরি হতে পারে,

স্বল্পমূল্যের শেয়ারে নতুন বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়তে পারে,

মিউচুয়াল ফান্ড ও প্রকৌশল খাতে নতুন গতি দেখা দিতে পারে।

তবে এ সবকিছুই নির্ভর করবে প্রাতিষ্ঠানিক লেনদেন এবং সরকারি সমর্থনের ধারাবাহিকতার ওপর।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিভঙ্গি

“আজকের সূচক ও লেনদেন বিশ্লেষণ বলছে, বিনিয়োগকারীরা ফিরছেন। তবে এই আস্থা টিকিয়ে রাখতে হলে দরকার সুশাসন, সঠিক তথ্যপ্রবাহ এবং কর্পোরেট স্বচ্ছতা।”

— ড. তানভীর বিন আলম, শেয়ার বিশ্লেষক

বিনিয়োগকারীদের জন্য বাস্তবিক পরামর্শ

আজকের ইতিবাচক বাজার প্রবণতা আনন্দজনক হলেও, অন্ধভাবে বাজারে ঝাঁপিয়ে পড়া উচিত নয়। বিনিয়োগে সচেতনতা ও কৌশলিক পরিকল্পনা অত্যন্ত জরুরি।

যা মাথায় রাখবেন:

গুজব নয়, তথ্যনির্ভর সিদ্ধান্ত নিন,

দরবৃদ্ধি পাওয়া শেয়ারে লোভ করে বিনিয়োগ করবেন না,

ডাইভার্সিফায়েড পোর্টফোলিও গঠন করুন,

শেয়ার কেনার আগে কোম্পানির মৌলিক তথ্য বিশ্লেষণ করুন,

প্রয়োজনে ফিনান্সিয়াল অ্যাডভাইজরের পরামর্শ নিন।

পুঁজিবাজারের সামনে কী?

শেয়ারবাজার একটি আস্থাভিত্তিক ব্যবস্থা। বিগত কয়েক মাস ধরে যে হতাশা ও স্থবিরতা বিরাজ করছিল, আজকের সূচক সেই অচলাবস্থার অবসানের সম্ভাব্য সূচনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

তবে এই গতি কতটা স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করবে—

আগামী দিনের বাজার আচরণ,

প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের ধারাবাহিকতা,

সরকারি নীতিমালা,

এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটের ওপর।

আমাদের অভিমত —

বাজার এখন সম্ভাবনার দ্বারপ্রান্তে। এই সুযোগকে কাজে লাগাতে হলে প্রয়োজন বাস্তবতা, কৌশল ও ধৈর্যের সমন্বয়। যারা এ তিনটি গুণ ধারণ করতে পারবেন, তাদের জন্য আগামীকাল হতে পারে এক নতুন সূচনা।

img

ন্যাশনালসহ চার ব্যাংকে এবার পর্যবেক্ষক বসালো বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশিত :  ১৪:২৮, ০৯ মার্চ ২০২৬

ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরই ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া হয়। ফলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ দেওয়া স্বতন্ত্র ও শেয়ারধারী পরিচালকেরা সেই ব্যাংকগুলোর পরিচালনা করছেন। তবে এতে পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি। তাই বাংলাদেশ ব্যাংক এবার এমন চারটি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক বসালো। মূলত এসব ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালকের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠায় পর্যবেক্ষক বসানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

আজ সোমবার (৯ মার্চ) কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত চিঠি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

বেসরকারি খাতের ব্যাংক চারটি হলো- ন্যাশনাল ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক ও আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক। গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই নিয়োগ দিয়ে এই সব ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে।

জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালক পদমর্যাদার চার কর্মকর্তাকে পর্যবেক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তারা ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ, নির্বাহী কমিটি ও নিরীক্ষা কমিটির সভায় উপস্থিত থেকে পর্যবেক্ষণ করবেন। ফলে একই ব্যাংকের স্বতন্ত্র পরিচালক ও পর্যবেক্ষক বসিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কী বার্তা দিতে চায়, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, কয়েকটি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক বসানোর বিষয়ে অনেক আগেই সিদ্ধান্ত হয়েছে। নতুন গভর্নর সব দিক বিবেচনায় নিয়ে আপাতত চারটি ব্যাংকে পর্যবেক্ষক দিয়েছেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী- ন্যাশনাল ব্যাংকে পর্যবেক্ষক করা হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংক সুপারভিশন বিভাগ-১২ এর পরিচালক মুনির আহমেদ চৌধুরীকে। আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে দেওয়া হয়েছে ইসলামিক ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগের পরিচালক মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, প্রিমিয়ার ব্যাংকে পেমেন্ট সিস্টেম বিভাগের পরিচালক এ.এন.এম. মঈনুল কবির এবং আইএফআইসি ব্যাংকে দেওয়া হয়েছে ফরেক্স রিজার্ভ অ্যান্ড ট্রেজারি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ-১ এর পরিচালক একেএম কামরুজ্জামানকে। পর্যবেক্ষকরা বৈঠকে উপস্থিত থেকে বিভিন্ন ইস্যুতে বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে মতামত তুলে ধরবেন।

এর আগে, ঋণ জালিয়াতি, নিয়োগ-পদোন্নতিতে স্বেচ্ছাচারিতাসহ বিভিন্ন অনিয়মের কারণে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মোট ১৪টি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে পুনর্গঠন করে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ওই তালিকায় এই চার ব্যাংকও ছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে এসব ব্যাংকের পরিচালনায় যুক্তরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পলাতক।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদে ন্যাশনাল ব্যাংক পরিচালনা করতো জয়নুল হক সিকদারের সিকদার গ্রুপ, প্রিমিয়ার ব্যাংক পরিচালনা করত এইচ বি এম ইকবালের প্রিমিয়ার গ্রুপ। আইএফআইসি ব্যাংক পরিচালনা করতো সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও আল-আরাফাহ্‌ ইসলামী ব্যাংক পরিচালনা করতেন এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ।

অর্থনীতি এর আরও খবর