img

বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে আরও দেড় লাখ রোহিঙ্গা : জাতিসংঘ

প্রকাশিত :  ১৬:৪৫, ১১ জুলাই ২০২৫

বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে আরও দেড় লাখ রোহিঙ্গা : জাতিসংঘ

মায়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ব্যাপক সহিংসতা ও নির্যাতনের কারণে গত ১৮ মাসে বাংলাদেশে নতুন করে প্রায় দেড় লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছে। আজ শুক্রবার (১১ জুলাই) জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

এতে বলা হয়, ২০১৭ সালে মায়ানমার থেকে প্রায় সাড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়ার পর এটি সর্বোচ্চসংখ্যক রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের ঘটনা। নতুন আশ্রয়প্রার্থীদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

ইউএনএইচসিআর জানায়, গত জুন পর্যন্ত বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নতুন ১ লাখ ২১ হাজার রোহিঙ্গাকে শনাক্ত করা হয়েছে। তবে অনেককে এখন পর্যন্ত শনাক্ত করা যায়নি, যদিও তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বসবাস করছেন। 

কক্সবাজারের মাত্র ২৪ বর্গকিলোমিটার জায়গায় প্রায় ১০ লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের কারণে এটি ইতিমধ্যে বিশ্বের অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ ক্যাম্পে পরিণত হয়েছে।

জাতিসংঘ বলছে, নতুন করে আরো রোহিঙ্গা আশ্রয় নেওয়ায় বিদ্যমান সহায়তা ব্যবস্থার ওপর চরম চাপ পড়ছে।

খাদ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও আশ্রয়ের জন্য নতুন করে আগতরা অনেকাংশেই আগের রোহিঙ্গাদের ওপর নির্ভরশীল। ইতিমধ্যে দাতাগোষ্ঠী তহবিল সংকটে পড়ায় গুরুত্বপূর্ণ সেবা ব্যাহত হচ্ছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে স্বাস্থ্যসেবা বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি আছে। ডিসেম্বরের মধ্যে খাদ্য সহায়তা সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

এছাড়া, দুই লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা শিশুর শিক্ষা বন্ধ হয়ে যাবে।

এমন সংকটে রোহিঙ্গাদের মাঝে হতাশা, নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে জানিয়ে ইউএনএইচসিআর বলছে, রোহিঙ্গাদের অনেকেই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সমুদ্রপথে অন্য দেশে পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা করছে।

এ অবস্থায় রাখাইন রাজ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরে না আসা পর্যন্ত, রোহিঙ্গাদের জন্য জীবন রক্ষাকারী সহায়তা যেন বন্ধ না করা হয়, তার দাবি জানিয়েছে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা।

জাতীয় এর আরও খবর

img

ঢাকা-নারিতা রুট পুনরায় চালু

প্রকাশিত :  ০৫:০৪, ২৭ জুলাই ২০২৬

দীর্ঘ এক বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আবারও চালু হয়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট। সরকারের আশা, এ রুট পুনরায় চালুর ফলে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, শিক্ষা এবং জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ আরও জোরদার হবে।

সোমবার রাতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ঢাকা-নারিতা রুটের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম, এমপি বলেন, ভবিষ্যতে এই রুট আর বন্ধ করার প্রশ্নই আসে না। আশা করি এবার রুটটি লাভজনক হবে এবং ইতোমধ্যে উদ্বোধনী ফ্লাইটের পাশাপাশি ফিরতি ও পরবর্তী ফ্লাইটগুলোর বুকিংও সম্পন্ন হয়েছে। এতে জাপানপ্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি হয়েছে।

মিট অ্যান্ড গ্রিট অনুষ্ঠানে মন্ত্রী বলেন, আজকের ঢাকা-নারিতা ফ্লাইট আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফসল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে পারে আমি অত্যন্ত আনন্দিত বোধ করছি। 

মন্ত্রী আরও বলেন, ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট চালুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক ও সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।

অনুষ্ঠানে বিমান পরিবহণ ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, এমপি বলেন, জাপানপ্রবাসী প্রায় ৪৫ হাজার বাংলাদেশি ছাত্র, শ্রমিক ও অভিবাসীদের কথা বিবেচনায় রেখে আমরা ফ্লাইটটি চালু করেছি। ফ্লাইটটি যাতে আর কখনোই বন্ধ না হয় সেজন্য  ভবিষ্যতের চাহিদা বিবেচনায় শুধু বোয়িং নয়, এয়ারবাসের উড়োজাহাজও বহরে যুক্ত করা হবে। 

প্রতিমন্ত্রী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, ১৯৮০ সালে উড়োজাহাজ স্বল্পতা থাকা স্বত্বেও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান জাপান বাংলাদেশ সম্পর্ক সুদৃঢ় করার জন্য ঢাকা - নারিতা ফ্লাইট চালু করেছিলেন। আজ আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ফ্লাইটটি যাত্রী সাধারণের জন্য পুনরায় চালু করলাম। 

এরপর মন্ত্রী প্রতিমন্ত্রী জাপানগামী যাত্রীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং ফিতা কেটে ফ্লাইটের শুভ উদ্বোধন করেন। 

উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ২০২৫ সালের ১ জুলাই ঢাকা-নারিতা সরাসরি ফ্লাইট বন্ধ করা হয়েছিল। প্রায় এক বছর পর আবারও চালু হলো এই রুট। আজ ২৭ জুলাই রাত ২ টা ২৫ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি ৩৭৬ ফ্লাইটটি জাপানের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। 


জাতীয় এর আরও খবর