img

গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিতে বর্বর হামলার ঘটনায় ইউকে জমিয়তের তীব্র নিন্দা

প্রকাশিত :  ১৭:২৯, ১৭ জুলাই ২০২৫

গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিতে বর্বর হামলার ঘটনায় ইউকে জমিয়তের তীব্র নিন্দা

গোপালগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ঘোষিত ‘মার্চ টু গোপালগঞ্জ’ কর্মসূচিতে সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ইউকের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।

এক বিবৃতিতে নেতারা বলেন, ১৬ জুলাই (বুধবার) গোপালগঞ্জে এনসিপির পূর্বঘোষিত শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী শাসনের সন্ত্রাসী দোসররা হামলা চালিয়ে প্রমাণ করেছে যে দেশে এখনো মতপ্রকাশ ও রাজনৈতিক কর্মসূচির অধিকার মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত।

উল্লেখ্য, এনসিপির নেতৃবৃন্দ আইনানুগ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছিলেন। অথচ, প্রশাসনের দায়িত্ব রাজনৈতিক দলের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা হলেও এ ক্ষেত্রে তা লক্ষ করা যায়নি। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা উদ্বেগজনক ও প্রশ্নবিদ্ধ। গোপালগঞ্জ বাংলাদেশেরই অংশ, সেখানে সাংবিধানিক অধিকার বাস্তবায়নে বাধা দেয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা মাওলানা শায়খ আসগর হুসাইন, সভাপতি ড. মাওলানা শুয়াইব আহমদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুফতি আব্দুল মুনতাকিম, সহ-সভাপতি হাফিজ মাওলানা সৈয়দ তাছাদ্দুক আহমদ, হাফিজ সৈয়দ তামীম আহমদ, হাফিজ হোসাইন আহমদ বিশ্বনাথী, মাওলানা আশফাকুর রহমান, সেক্রেটারি মাওলানা সৈয়দ নাঈম আহমদ,সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা শামছুল আলম কিয়ামপুরী,জয়েন্ট সেক্রেটারি হাফীজ মাওলানা ইলিয়াছ, মুফতি শাহ হিফজুল করীম মাশুক, মাওলানা আখতারুজ্জামান, সহ-সেক্রেটারি মুফতি সৈয়দ রিয়াজ আহমদ, হাফিজ জিয়া উদ্দিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা নাজমুল হাসান,হাফীজ মাওলানা মাছুম আহমদ,ট্রেজারার হাফিজ রশীদ আহমদ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাওলানা ওলীউর রহমান,আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মাওলানা খালেদ আহমদ,প্রচার সম্পাদক মাওলানা শামছুল ইসলাম এবং সহ-প্রচার সম্পাদক হাফিজ মাওলানা আব্দুল হাই,মিডিয়া সেক্রেটারি আরিফুল ইসলামসহ অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার পতন ঘটলেও তার ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রভাব এখনো রয়ে গেছে। দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র এখনো চলমান। তারই ধারাবাহিকতায় এনসিপির কর্মসূচিতে ককটেল হামলা, ভাঙচুর, এমনকি সরকারি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের মতো বর্বর ঘটনা ঘটেছে। আওয়ামী সন্ত্রাসীরা ইউএনও ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে, যাতে কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। আমরা তাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি এবং এই ন্যাক্কারজনক সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ দ্রুততম সময়ের মধ্যে হামলাকারী দুর্বৃত্তদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

টাওয়ার হ্যামলেটসে তিন অসাধু বাড়িওয়ালা নিষিদ্ধ

প্রকাশিত :  ১৭:২২, ১২ জুন ২০২৬

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের সফল আইনি পদক্ষেপের ফলে তিনজন অসাধু বাড়িওয়ালাকে প্রাইভেট রেন্টিং সেক্টর থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রপার্টি ম্যানেজমেন্ট কোম্পানী আর এন্ড জি লিমেটেড এবং প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক রাফায়েল মেন্ডেস টরেস ও এভান্দ্রো দোস সান্তোস গোমেসের বিরুদ্ধে তিন বছরের নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ফার্স্ট-টিয়ার ট্রাইব্যুনাল। পপলার এলাকায় একটি লাইসেন্সবিহীন ও খারাপভাবে পরিচালিত প্রপার্টির সঙ্গে জড়িত গুরুতর আইন লঙ্ঘনের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

মামলাটি ই-ফোরটিন এলাকার কেম্পস ড্রাইভের একটি ফ্ল্যাটকে ঘিরে, যা জানুয়ারি ২০২২ থেকে ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত প্রয়োজনীয় অনুমতি ছাড়াই ‘হাউস অব মাল্টিপল অকুপেশন’  বা (এইচএমও) হিসেবে পরিচালিত হচ্ছিল। তদন্তে উঠে আসে, দুই বেডরুমের ফ্ল্যাটটিকে পরিবর্তন করে পাঁচটি কক্ষে রূপান্তর করা হয়, যার ফলে ওভারক্রাউডিং ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি হয়। ফ্ল্যাটটিতে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ছয়জন ভাড়াটিয়া বসবাস করছিলেন।

তদন্তে উঠে এসেছে ফ্ল্যাটটিতে ইঁদুর, তেলাপোকা ও বেডবাগের উপস্থিতি, ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ ও অপর্যাপ্ত রক্ষণাবেক্ষণ, ফায়ার ডোর ও অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রের অভাব, ভাড়াটিয়াদের ডিপোজিট সুরক্ষিত না রাখা এবং কোনো লিখিত চুক্তি ছিলোনা। একজন ভাড়াটিয়া জানান, সমস্যা সমাধানের পরিবর্তে বাড়িওয়ালারা ভাড়া বাড়িয়ে দেন।

এই প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আগেও একই ধরনের অপরাধে দণ্ড দেওয়া হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করা হয়, বাড়িওয়ালারা তাদের আইনি দায়িত্ব সম্পর্কে “বিপজ্জনক অজ্ঞতা” প্রদর্শন করেছেন এবং পরিস্থিতির উন্নতিতে কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। একই সঙ্গে  ভাড়াটিয়া ও কাউন্সিলকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন বলেও উল্লেখ করা হয়।

টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, “এই রায় একটি স্পষ্ট বার্তা দেয় যে, ভাড়াটিয়াদের ঝুঁকিতে ফেলে দেয় এমন অসাধু বাড়িওয়ালাদের আমরা সহ্য করব না। নিরাপদ ও সঠিকভাবে পরিচালিত ঘরবাড়ির অধিকার রয়েছে বারার প্রত্যেক বাসিন্দার।”

এই নিষেধাজ্ঞার ফলে অভিযুক্তরা তিন বছর ধরে ইংল্যান্ডে কোনো বাসা ভাড়া দেওয়া, রেন্টাল প্রপার্টি পরিচালনা বা লেটিং এজেন্ট হিসেবে কাজ করতে পারবেন না। এটি কার্যকর হবে আগামী ২১ আগস্ট ২০২৬ থেকে। এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা স্থানীয় কর্তৃপক্ষের অন্যতম কঠোর ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এটি লঙ্ঘন করলে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

ঘরবাড়ির পরিবেশ বা বাড়িওয়ালাকে নিয়ে কোনো অভিযোগ থাকলে [email protected]এ যোগাযোগ করতে বলেছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। 

কমিউনিটি এর আরও খবর