img

জয়পুরহাটে ট্রেন লাইনচ্যুত, ৫ ঘণ্টা পর চলাচল স্বাভাবিক

প্রকাশিত :  ০৬:২৫, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

জয়পুরহাটে ট্রেন লাইনচ্যুত, ৫ ঘণ্টা পর চলাচল স্বাভাবিক

জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা আন্ত:নগর ট্রেন কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। প্রায় ৫ ঘণ্টার চেষ্টায় লাইনচ্যুত বগি উদ্ধার করা হলে উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে স্বাভাবিক হয় রেল চলাচল।

গতকাল রোববার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার ভদ্রকালী চকরঘুনাথ এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে সারা দেশের সাথে প্রায় ৫ ঘন্টা উত্তরাঞ্চলের রেল যোগাযোগ বন্ধ ছিল।

সান্তাহার রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন জানান, রোববার দিবাগত রাত ৩টা ৩০ মিনিটে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা কুড়িগ্রামগামী আন্ত:নগর কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি বগি আক্কেলপুর স্টেশনের আগে ভদ্রকালি এলাকায় লাইনচ্যুত হয়। এরপর থেকে ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ থাকে। খবর পেয়ে দ্রুত রিলিফ ট্রেন এসে বগিটি উদ্ধার করলে ৫ ঘন্টা পর সকাল ৯টা থেকে ট্রেন যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।

এতে হতাহতের কোন ঘটনা ঘটেনি বলেও তিনি জানান। 

জাতীয় এর আরও খবর

img

চট্টগ্রামে ১২ ঘণ্টায় ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টি, সড়কে হাঁটুপানি

প্রকাশিত :  ০৭:৪৮, ১২ জুলাই ২০২৬

বন্দর নগরী চট্টগ্রামে আবারও ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হয়েছে। টানা বর্ষণে নগরের বিভিন্ন সড়কে হাঁটুপানি জমে জনদুর্ভোগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে জলাবদ্ধতার আশঙ্কায় কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা ও শ্রেণি কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

আজ রোববার (১২ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ১২ ঘণ্টায় চট্টগ্রামে ১২৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আর গত ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ১৩৬ দশমিক ৮ মিলিমিটার।

সকাল ১০টার দিকে নগরীর চকবাজার, বাকলিয়া, রাহাত্তারপুল কাতালগঞ্জ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কে হাঁটুপানি জমে গেছে। পানি মাড়িয়ে যানবাহন চলাচল করছে। সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে অফিসগামী মানুষকে ছাতা ও রেইনকোট পরে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। অনেক এলাকায় রিকশা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকট দেখা দেয়। যাত্রীরা অভিযোগ করেন, যানবাহন মিললেও চালকেরা অতিরিক্ত ভাড়া দাবি করছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম কার্যালয়ের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বলেন, সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে চট্টগ্রামে আরও দুই থেকে তিন দিন ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এতে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা এবং পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ঝুঁকি রয়েছে।

গতকাল শনিবার বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, চট্টগ্রামের ১৫টি উপজেলা ও মহানগরে ৬ লাখ ৬২ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে রয়েছে।

গত কয়েকদিনের অতি বৃষ্টি ও বন্যায় পানিতে ডুবে বাঁশখালীতে তিন, আনোয়ারা, সীতাকুণ্ড, হাটহাজারী, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও সাতকানিয়া উপজেলায় একজন করে মারা যান। চট্টগ্রাম নগরীতে মারা যান দুইজন।

গত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চট্টগ্রামে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এরই মধ্যে গত মঙ্গলবার জুলাই মাসে এক দিনে গত ৪৩ বছরের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়। ওই বৃষ্টিতে আগ্রাবাদ, হালিশহর, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, চকবাজার, কাতালগঞ্জ ও পতেঙ্গাসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছিল। বাসাবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকে পড়ে। দুই দিন বৃষ্টি কিছুটা কম থাকায় পরিস্থিতির উন্নতি হলেও নতুন করে ভারী বর্ষণে আবারও জলাবদ্ধতার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী শনিবার সবচেয়ে বেশি মানুষ পানিবন্দি হয়ে রয়েছে, সাতকানিয়া উপজেলায়, ৩ লাখ ৫২ হাজার ৫০০ জন আর বাঁশখালীতে দেড় লাখ মানুষ।

নগরীর আমবাগান আবহাওয়া অফিসের অফিসার্স ইনচার্জ বিজন রায় ঢাকা পোস্টকে বলেন, সকাল ৬টা থেকে ৯টায় পর্যন্ত ৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। ৯টা থেকে ১২টায় পর্যন্ত ৮ মিলিমিটার এবং গত ২৪ ঘণ্টায় ১০৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

জাতীয় এর আরও খবর