যেসব সুবিধা পাবেন

img

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে মন্ত্রীর পদমর্যাদা দেয়ার প্রস্তাব

প্রকাশিত :  ১১:২২, ২৯ অক্টোবর ২০২৫

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরকে মন্ত্রীর পদমর্যাদা দেয়ার প্রস্তাব

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে মন্ত্রীর পদমর্যাদা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষজ্ঞদের মতামতের আলোকে সম্প্রতি এমন প্রস্তাবনা দিয়ে ‘বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ (সংশোধন) ২০২৫’ এর খসড়া করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থ বিভাগে এটি পাঠানো হয়েছে।

বর্তমানে রাষ্ট্রীয় মার্যাদাক্রম বিন্যাসের (ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স, ১৯৮৬) পঞ্চদশ অবস্থানে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর।

একই অবস্থানে রয়েছেন- অ্যাটর্নি জেনারেল, কম্পোটলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল ও ন্যায়পাল। গভর্নরের অবস্থান মন্ত্রিপরিষদ সচিব, মুখ্য সচিবের নিচে। তবে মর্যাদার দিক থেকে সরকারের সচিবদের ওপরে তার অবস্থান।

প্রধানমন্ত্রী ‘দ্য প্রাইম মিনিস্টার’স (রেমুনারেশেন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) আইন, ২০১৬’ এবং মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীরা ‘দ্য মিনিস্টারস, মিনিস্টার অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টারস (রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) (অ্যামেন্ডমেন্ট) আইন, ২০১৬’ অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।

একজন মন্ত্রী যেসব সুবিধা পেয়ে থাকেন

একজন মন্ত্রী মাসে বেতন পান ১ লাখ পাঁচ হাজার টাকা। এছাড়া দৈনিক ভাতা পান ২ হাজার টাকা, নিয়ামক ভাতা মাসিক ১০ হাজার টাকা, স্বেচ্ছাধীন তহবিল ১০ লাখ টাকা, মোবাইল ফোন কেনার জন্য পান ৭৫ হাজার টাকা। মন্ত্রীদের বেতন কর আওতামুক্ত।

মন্ত্রীরা সরকারি খরচে সার্বক্ষণিক গাড়ি পান। ঢাকার বাইরে অফিশিয়াল সফরের জন্য অতিরিক্ত একটি জিপ গাড়ি পান, যার যাবতীয় খরচ বহন করে সরকার।

এছাড়াও মন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের যাবতীয় রক্ষণাবেক্ষণ, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, টেলিফোন ব্যয় সরকার বহন করে। সরকারি বাসায় না থাকলে বাড়ি ভাড়া বাবদ ৮০ হাজার টাকা পান একজন মন্ত্রী। সেই সঙ্গে বাড়ি ব্যবস্থাপনা খরচ ও সব ধরনের সেবা খাতের বিল পান।

একজন মন্ত্রীকে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা প্রহরী দেওয়া হয়, তার বাসস্থান থেকে অফিস বা অফিস থেকে বাসস্থানে যাতায়াতের খরচ পান। নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের ভ্রমণ খরচও পান মন্ত্রীরা। এছাড়াও অন্তত দুইজন গৃহকর্মীর ভ্রমণের খরচ দেওয়া দিয়ে থাকে সরকার।

একজন মন্ত্রী উপসচিব পদমর্যাদার একজন একান্ত সচিব, সহকারী সচিব পদমর্যাদার একজন সহকারী একান্ত সচিব এবং ক্যাডারের বাইরে থেকে আরেকজন সহকারী একান্ত সচিব পেয়ে থাকেন। জাতীয় বেতন স্কেলে দশম গ্রেডের দুইজন কর্মকর্তা পান মন্ত্রী। একজন জমাদার ও একজন আর্দালি, দুইজন এমএলএসএস, একজন পাচক বা পিয়নও দেওয়া হয় মন্ত্রীকে।


অর্থনীতি এর আরও খবর

img

পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের কী হবে, জানালেন বিএসইসি চেয়ারম্যান

প্রকাশিত :  ০৫:৫৮, ১২ জুলাই ২০২৬

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে একীভূত হওয়া পাঁচটি ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ সুরক্ষায় বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) ভূমিকা নিয়ে অবস্থান স্পষ্ট করেছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মাসুদ খান। তিনি বলেন, শেয়ারহোল্ডারদের ভবিষ্যৎ স্বার্থ ও প্রাপ্য আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন (ইন্টারন্যাশনাল ভ্যালুয়েশন) পদ্ধতির ভিত্তিতেই নির্ধারণ করা উচিত।

গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর বিজয়নগরের ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিস্টস ফোরাম (সিএমজেএফ) আয়োজিত ‘সিএমজেএফ টক’ অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সিএমজেএফের সভাপতি মনির হোসেন, সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব রাসেলসহ সংগঠনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্তবর্তীকালীন সরকারের সময়ে শেয়ারবাজারের দুর্বল পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করার লক্ষ্যে \'শেয়ার শূন্য\' ঘোষণা করা হয়। পরবর্তীতে সমালোচনার মুখে তৎকালীন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানান যে- সরকার তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। কোন প্রক্রিয়ায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে সেটি \'হিসাব-নিকাশ\' করা হচ্ছে। এরপর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও বিষয়টির সমাধান হয়নি৷ ওই পাঁচ ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষায় বর্তমান কমিশন কি ধরনের ভূমিকা রাখবে?

জবাবে বিএসইসি চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, “ওই প্রশ্নটার উত্তর দেওয়ার আগে আমি একটা ফান্ডামেন্টাল প্রশ্ন উত্থাপন করতে চাই। হোয়াট ইজ দ্য ভ্যালু অফ দিস শেয়ার? ওই পাঁচটি ব্যাংকের নেগেটিভ নিট ইকুইটি ছিল কিনা? উত্তর- ছিল। অর্থাৎ লস মেকিংয়ে নেগেটিভ ইকুইটি ছিল। ইন দিস কেসেস ইন্টারন্যাশনাল ভ্যালুয়েশন মেথলজি কি বলছে? যদি কোনো কোম্পানি লস মেকিং হয় আমরা শেয়ারকে মূল্যায়ন করবো বেসড অন দ্য নেটওয়ার্কস, অন্য দিকে তাকাবো না। তাহলে নেটওয়ার্ক যদি নেগেটিভ হয়, ভ্যালুয়েশন কি হবে? উত্তরটা হবে ‘জিরো’।”

তিনি বলেন, \'আপনি (বিনিয়োগকারী) তো জেনে-শুনে ইনভেস্ট করছেন। আজকে যদি ওই ব্যাংকগুলো খোলাও থাকতো তাহলে হয়তো ৫০ পয়সা থেকে এক টাকা দিয়ে লেনদেন করতে হতো। এর বেশি হয়তো আপনি পেতেন না। আপনি হয়তো ২০ টাকা বা ১৫ টাকায় কিনেছেন। কিন্তু, ওভার দ্য ইয়ারস এগুলোর পারফরমেন্স ডিউ (বকেয়া) হয়ে গেছে। ফলে এগুলো পাঁচটাকা, একটাকা, দুই টাকা হয়ে গেছে। হয়তো আপনি সেটাই পেতেন। কিন্তু সেটাও পাওয়ার কথা নয়। কারণ এগুলোতে নেগেটিভ ইকুইটি ছিল।\'

ঢাকা পোস্টের এই প্রতিবেদকের দ্বিতীয় প্রশ্ন- সম্প্রতি প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) যেই কোম্পানিগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে, সেগুলো তালিকাচ্যুত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংক তালিকাভুক্ত অনেকগুলো ব্যাংক বহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধের দিকে এগোচ্ছে৷ এসব কোম্পানি তালিকাচ্যুত করা হলে শেয়ারহোল্ডারদের স্বার্থ রক্ষা করা হবে কিনা?

এমন প্রশ্নের জবাবে মাসুদ খান বলেন, ‘একই উত্তরটা আপনি পাবেন। ওইসব প্রতিষ্ঠানের কী অবস্থা আপনি বলেন তো? এগুলোতে নেগেটিভ ইকুইটির পরিমাণ হিসাব ছাড়া। ইন্টারন্যাশনাল লিজিং, পিপল লিজিং- এসব কোম্পানিগুলোর নেটওয়ার্ক কি আছে? এগুলো জিরোর থেকেও অনেক কম।’

অর্থনীতি এর আরও খবর