img

হাসিনার বিরুদ্ধে রায় প্রমাণ করে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়: প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশিত :  ১৭:১১, ১৭ নভেম্বর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:০০, ১৭ নভেম্বর ২০২৫

হাসিনার বিরুদ্ধে রায় প্রমাণ করে, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়: প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ক্ষমতাচ্যুত পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে আদালতের দণ্ডাদেশ প্রমাণ করেছে যে ক্ষমতার অবস্থান যাই হোক, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়।

আজ সোমবার (১৭ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে প্রধান উপদেষ্টা এ মন্তব্য করেন।

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এ বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘আজ বাংলাদেশের আদালত এমন একটি রায় দিয়েছেন, যা দেশ-বিদেশে প্রতিধ্বনিত হবে। দণ্ডাদেশ ও দোষী সাব্যস্ত করা একটি মৌলিক নীতিকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করেছে। ক্ষমতা যাই হোক, আইন সবার জন্য সমান। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ঘটনার সময় যেসব মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন এবং যেসব পরিবার এখনও শোক বয়ে বেড়াচ্ছেন, এই রায় তাদের জন্য আংশিক হলেও গুরুত্বপূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করেছে।’

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, দেশ এখন দীর্ঘ বছরের দমন-পীড়নে বিধ্বস্ত গণতান্ত্রিক ভিত্তি পুনর্গঠনের এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে রয়েছে। যেসব অপরাধের বিচার হয়েছে, নিরস্ত্র তরুণ-তরুণী ও শিশুদের বিরুদ্ধে প্রাণঘাতী শক্তি প্রয়োগের নির্দেশ শুধু আইনের লঙ্ঘনই নয়; রাষ্ট্র ও নাগরিকের মধ্যকার মৌলিক আস্থার বন্ধনও ভেঙে দিয়েছিল।

তিনি বলেন, এ ঘটনা বাংলাদেশের মৌলিক মূল্যবোধ-মর্যাদা, প্রতিরোধ-ক্ষমতা এবং ন্যায়বিচারের প্রতি অঙ্গীকারে তীব্রভাবে আঘাত করেছিল।

‘প্রায় ১,৪০০ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তারা কেবল কোনো সংখ্যা ছিলেন না; ছিলেন ছাত্র-ছাত্রী, বাবা-মা ও অধিকারসম্পন্ন নাগরিক,’ যোগ করেন তিনি।

অধ্যাপক ইউনূস জানান, আদালতে মাসের পর মাসের সাক্ষ্যপ্রমাণে উঠে এসেছে নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের ওপর কীভাবে হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছিল। এ রায় তাদের দুর্ভোগকে স্বীকৃতি দেয় এবং নিশ্চিত করে যে ন্যায়বিচারের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রশ্নে ছাড় নেই।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক জবাবদিহির মূল স্রোতে পুনরায় যুক্ত হচ্ছে। ‘পরিবর্তনের দাবিতে যারা দাঁড়িয়েছিল, তাদের অনেকে নিজের জীবন বিসর্জন দিয়েছে; তাদের আজকের ত্যাগ আমাদের আগামীর পথ তৈরি করছে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, শুধু আইনি জবাবদিহি নয়, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকের মধ্যে আস্থা পুনর্গঠনও এখন জরুরি। মানুষ কেন প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের জন্য সবকিছু ঝুঁকিতে ফেলতে প্রস্তুত হয়েছিল, এখন তা বোঝা এবং সেই আস্থার উপযোগী সিস্টেম তৈরি করা প্রয়োজন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমি পূর্ণ আস্থা রাখি ‘বাংলাদেশ সাহস ও বিনয়ের সঙ্গে আগামী দিনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে সক্ষম হবে।’

আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং প্রতিটি মানুষের সম্ভাবনার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলে বাংলাদেশে ন্যায়বিচার শুধু টিকেই থাকবে না, বরং বিজয়ী হবে এবং তা স্থায়ী হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

img

কাতারের এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে কারিগরি ত্রুটি, দেরি হতে পারে খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রায়

প্রকাশিত :  ১৬:৫১, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫

রাজধানীর এভারকেয়ারে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনে নেওয়ার উদ্দেশ্যে কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স কারিগরি সমস্যার কারণে ঢাকায় পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস উইং সদস্য শাইরুল কবির খান। তিনি জানান, কারিগরি সমস্যার কারণে উড্ডয়ন বিলম্বিত হয়েছে এবং কাতার থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স উড্ডয়ন হওয়ার বিষয়টি পরে জানানো হবে।

এর আগে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বৃহস্পতিবার (৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় গুলশানে চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, কাতারের আমিরের ব্যক্তিগত উদ্যোগে সর্বাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠানো হয়েছে, যাতে রয়েছে অপারেশন থিয়েটারসহ উন্নত চিকিৎসার সব জরুরি সুবিধা।

মির্জা ফখরুল বলেন, “আজ রাতের মধ্যেই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটির ঢাকায় পৌঁছানোর কথা ছিল এবং খুব ভোরেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।” তবে কারিগরি জটিলতায় সেই সময়সূচিতে পরিবর্তন এসেছে।

তিনি জানান, আনুষঙ্গিক সব প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন এবং ম্যাডামের সঙ্গে যাচ্ছেন দেশি–বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি দল।

তিনি বলেন, “আমরা আল্লাহ তায়ালার কাছে প্রার্থনা করি, তিনি যেন ম্যাডামকে সুস্থভাবে বিদেশে নিয়ে যেতে এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে ফিরে আসতে সহায়তা করেন।”

বিএনপি মহাসচিব আরও জানান, দেশি–বিদেশি চিকিৎসকদের যৌথ মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ অনুযায়ী খালেদা জিয়াকে যুক্তরাজ্যের উন্নত একটি হাসপাতালে নেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও এই সিদ্ধান্তে সম্মতি জানিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা জানান, সারাদেশের মানুষ জনপ্রিয় এই নেত্রীর সুস্থতার জন্য দোয়া করছেন এবং তার সফল চিকিৎসার অপেক্ষায় আছেন।

জাতীয় এর আরও খবর