img

সাকিবের রাজত্ব ভেঙে ২৫০ উইকেট তাইজুলের

প্রকাশিত :  ০৫:৪৯, ২৩ নভেম্বর ২০২৫

সাকিবের রাজত্ব ভেঙে ২৫০ উইকেট তাইজুলের

সাদা পোশাকে টাইগার স্পিনার তাইজুল ইসলাম এখন দেশের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের মালিক। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান সিরিজে সাকিব আল হাসানকে ছাড়িয়ে এই রেকর্ডটি একান্ত নিজের করে নেন তিনি।

সাকিবকে ধরতে এদিন একটি মাত্র উইকেটের অপেক্ষা ছিল তাইজুলের। সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে তাকে সময় নিতে হলো মাত্র ৩ ওভার। ইনিংসের শুরু থেকেই আক্রমণে ছিলেন এই বাঁহাতি স্পিনার।

ষষ্ঠ ওভারে তার শিকার হন আইরিশ অধিনায়ক অ্যান্ড্রু বালবার্নি। তাইজুলের গতির হেরফেরে বিভ্রান্ত হন বালবার্নি, বেশি গতির আর্মারটির কোনো জবাব দিতে পারেননি। এলবিডব্লিউর আবেদনে আম্পায়ার সাড়া দিলে রিভিউ নেন আইরিশ অধিনায়ক। তাতে লাভ হয়নি আউট হয়ে সাজঘরে ফেরলেন বালবার্নি।

এই উইকেটের সঙ্গেই তাইজুল ইসলাম ছুঁয়ে ফেলেন সাকিব আল হাসানের রেকর্ড, যিনি এতদিন সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন। তবে তাইজুল এখানেই থামেননি।

পরের ওভারেই তাইজুল তুলে নেন তার দ্বিতীয় উইকেট। তার বল সামনে ঝুঁকে ডিফেন্ড করতে গিয়ে পল স্টার্লিং তার ব্যাটের কানায় বল লাগান, যা ফরোয়ার্ড শর্ট লেগে থাকা মাহমুদুল হাসান জয়ের হাতে জমা পড়ে। তুলনামূলক সহজ ক্যাচটি নিতে ভুল করেননি জয়।

এদিনের ম্যাচে ৩ উইকেট শিকার করে তাইজুল তার ক্যারিয়ারের মোট উইকেট সংখ্যাকে নিয়ে গেছেন ২৪৯-এ। এর ফলে বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে ২৫০ টেস্ট উইকেটের মাইলফলক ছুঁতে তার এখন দরকার আর মাত্র ১টি উইকেট!

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের শুরুতে তাইজুল ইসলামের উইকেট সংখ্যা ছিল ২৩৭টি। প্রথম টেস্টে ৫ এবং দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৪ উইকেট নিয়ে তিনি মোট ২৪৬ উইকেট নিয়ে সাকিব আল হাসানকে স্পর্শ করেন।

বাংলাদেশের টেস্ট উইকেটে সেরা পাঁচ

১. তাইজুল ইসলাম: ২৪৯ উইকেট

২. সাকিব আল হাসান: ২৪৬ উইকেট

৩. মেহেদী হাসান মিরাজ: ২০৫ উইকেট (৫৪ টেস্ট)

৪. মোহাম্মদ রফিক: ১০০ উইকেট

৫. মাশরাফি বিন মর্তুজা: ৭৮ উইকেট

img

ইতিহাস গড়ে নিউজিল্যান্ডকে হারাল বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ১১:৪৯, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৩২, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

১৮৩ রান তাড়া করতে দুই ওপেনারের মন্থর গতির ব্যাটিংয়ে শুরুতেই ব্যাকফুটে পড়ে বাংলাদেশ। বলার মতো সুবিধা করতে পারেননি দলনেতা লিটন কুমার দাসও। অর্ধেক ইনিংস শেষে বাংলাদেশের সমর্থকদের চোখে-মুখে ছিল হতাশার ছাপ। এরপর দুটি সফল জুটিতেই কঠিন ম্যাচ সহজ করে জিতে নিল স্বাগতিকরা। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা।

এই জয়ের মাধ্যমে একটি রেকর্ড করেছে ফিল সিমন্সের শিষ্যরা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ। এর আগে কিউইদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৩৫ রান তাড়া করে জিতেছিল টাইগাররা। এদিকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডটি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ২০১৮ সালে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২১৫ করে জিতেছিল টাইগাররা।

রান তাড়া করতে নেমে কিউই বোলারদের সামনে ভুগতে থাকেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম। ৫.৩ বলে ৪১ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। বাংলাদেশের প্রথম উইকেটটি নেন নাথান স্মিথ। আর আউট হওয়ার আগে ১৬ বলে ১৭ রান করেন সাইফ। আরেক ওপেনার তানজিদ করেন ২৫ বলে ২০ রান। এদিকে ১৫ বলে ২১ রানে থামেন দলনেতা লিটন দাস।

১০.১ ওভারে ৭৭ রান তুলতে ৩ উইকেট হারিয়ে খানিকটা ব্যাকফুটেই পড়ে বাংলাদেশ দল। এমতাবস্থায় চতুর্থ উইকেটে দলের ভরসা জোগায় চতুর্থ উইকেট জুটি। মাত্র ২৮ বলে ৫৬ রান তোলেন তাওহীদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন। মাত্র ১৪ বলে ২৮ রান করে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান ইমন।

শামীম হোসেন পাটোয়ারিকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে তাওহীদ হৃদয়ের গড়া জুটিটা ছিল দুর্দান্ত। মাত্র ১৯ বলে ৪৯ রানের অপ্রতিরোধ্য পার্টনারশিপ গড়েন হৃদয়-শামীম। তাতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিক বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন তাওহীদ হৃদয়। মাত্র ২৯ বলে খেলা তার এই ইনিংসটি দুটি চার ও তিনটি ছয়ে সাজানো। আর মাত্র ১৩ বলে তিনটি চার ও দুটি ছয়ে ৩১ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস খেলেন শামীম।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে দুটি উইকেট পেয়েছেন ইশ সোধি। আর একটি করে উইকেট নেন নাথান স্মিথ ও জশ ক্লার্কসন।

এর আগে চট্রগ্রামে টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় কিউইরা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার টিম রবিনসন।

তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে শুরুর চাপ সামলে নেন ওপেনার কেতেন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভার। এসময় দুজন মিলে গড়েন ৮৮ রানের জুটি। আর এই দুই কিউই ব্যাটারই ফিফটির দেখা পেয়েছেন। মজার ব্যাপার আউট হওয়ার আগে দুজনই করেন ৫১ রান। ৩৭ বলে সাতটি চার ও একটি ছয়ে ৫১ রান করেন ক্লার্ক। আর মাত্র ২৮ বলে সাতটি চার ও একটি ছয়ে ৫১ রানে থামেন ক্লেভার।

এই দুই ব্যাটার সাজঘরে ফেরার পর খানিকটা চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। দ্রুত কয়েক উইকেট হারানোর পর রানের গতিও কিছুটা কমে যায়। প্রথম ১০ ওভারে ১০০ রান করা নিউজিল্যান্ড পরের ৫ ওভারে করেছেন মাত্র ৩০ রান। এর মাঝেই বেভন জ্যাকবস ১ রানে ও ড্যান ফক্সক্রফট ৩ রানে আউট হন।

এরপর ফের একবার রানের চাকা সচল করেন অধিনায়ক নিক কেলি। কিন্তু ইনিংস শেষ করে ফিরতে পারেননি তিনি। শরিফুল ইসলামের করা বলে আউট হওয়ার আগে কিউই অধিনায়ক করেন ২৭ বলে ৩৯ রান। এছাড়া জশ ক্লার্কসন ৩০ ও নাথান স্মিথ ৪ রান করেন। নিউজিল্যান্ডের ইনিংস থামে ১৮২ রানে।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন রিশাদ হোসেন। এছাড়া একটি করে উইকেটের দেখা পেয়েছেন তিনজন বোলার।