নবীগঞ্জে সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর–লুটপাটে আহত ৩
প্রকাশিত :
০৬:৩৫, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের পূর্ব তিমিরপুর গ্রামে দৈনিক হবিগঞ্জ সময় এর স্টাফ রিপোর্টার, দিনরাত নিউজ-এর নবীগঞ্জ প্রতিনিধি এবং দৈনিক ইনাতগঞ্জ বার্তার বার্তা সম্পাদক ও নবীগঞ্জ প্রেসক্লাব সদস্য সাংবাদিক ইকবাল হোসেন তালুকদারের বাড়িতে একদল সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালিয়েছে।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) বিকেলে সংঘটিত এ হামলায় তিনজন আহত হন। গুরুতর আহত হামদু তালুকদার (৩৫)-কে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পশ্চিম তিমিরপুর গ্রামের ভুট্ট মিয়া ও জীবনসহ ৫০–৬০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল পূর্ব তিমির পুর গ্রামে এসে লাঠি–রামদা নিয়ে সাংবাদিকের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তারা বাড়ির ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করে।
সাংবাদিক ইকবাল হোসেন তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, আমার ধানের জমির ওপর দিয়ে ভুট্ট মিয়ার ধান কাটার মেশিন যাতায়াত নিষেধ করায় জীবন নামের গাড়িচালক আমার ভাইকে গালাগালি করে। পরে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা হলে আমরা বাড়িতে চলে আসি। কিছুক্ষণ পরই ৫০–৬০ জনের একটি সন্ত্রাসী দল আমাদের বাড়িতে হামলা চালায়। লাঠি–রামদা দিয়ে আমাদের ওপর হামলা করে, ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। ধান বিক্রির ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা লুট করে নেয়—যার রসিদও আমাদের কাছে রয়েছে। এছাড়া গোয়ালঘর থেকে কৃষিকাজের বিভিন্ন যন্ত্রপাতিও নিয়ে যায়।
এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ কামরুজ্জামান বলেন, সাংবাদিক ইকবাল ফোন করে বিষয়টি জানিয়েছিলেন। আমরা পুলিশ পাঠিয়েছি। তবে এখনো থানায় কেউ এসে লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সাংবাদিকের বাড়িতে হামলার ঘটনায় নবীগঞ্জে কর্মরত সাংবাদিক সমাজ, বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বাজার সিন্ডিকেট ব্যবস্থা ভাঙতে দেশে প্রথমবারের মতো সরকারি ব্যবস্থাপনায় সিলেটে চালু হলো ‘কৃষকের হাট’। জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিপ্তরের উদ্যোগে নগরের টিলাগড়ে সরকারি জায়গায় এ হাট চালু করা করা হয়েছে।
শনিবার সকালে হাটটির উদ্বোধন করেন শিল্প ও বানিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। সংশ্লিস্টদের আশা, এই হাটে অপেক্ষাকৃত কম দামে পণ্য কিনতে পারবেন ক্রেতারা।
উদ্বোধনের পর থেকেই ক্রেতা-বিক্রেতায় জমজমাট ছিলো হাটটি। দুপুরের মধ্যে বেশিরভাগ কৃষকের পণ্য বিক্রি হয়ে যায়। প্রথমদিনে সিলেট নগর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ২০ জন কৃষক তাদের পণ্য নিয়ে হাটে আসেন।
সংশ্লিস্টরা জানিয়েছেন, প্রতিদিন সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত টিলাগড় পয়েন্টের নির্ধারিত স্থানে এই বাজারের কার্যক্রম চলবে। এখানে সিলেটের প্রান্তিক কৃষকরা কোনো ধরনের মধ্যস্থতাকারী বা দালালের সহায়তা ছাড়াই তাদের উৎপাদিত পণ্য সরাসরি সাধারণ ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করার সুযোগ পাবেন। বাজারটির মূল লক্ষ্য হলো মাঠপর্যায়ের কৃষক এবং শহরের সাধারণ ভোক্তার মধ্যে একটি সরাসরি সেতুবন্ধন তৈরি করা।
সিলেটের সদর উপজেলার মোগলাগাও এলাকা থেকে বাজারে মিষ্টি কুমড়া নিয়ে এসেছিলেন কৃষক উস্তার মিয়া। তিনি বলেন, আগে তো আমরা মাঠেই ফসল বিক্রি করে ফেলতাম। পাইকাররা কিনে নিয়ে আসতেন। তাতে আমরা দাম কম পেতাম অথচ ক্রেতারা বেশি দামে কিনছেন। এই প্রথম বাজারে এসে সরাসরি ক্রেতাদের কাছে ফসল বিক্রি করতে পারছি। এতেভালো লাভ হচ্ছে।
টুকের বাজার থেকে আসা আরেক কৃষক বলেন, সবজি বাজারে নিয়ে আসতে গাড়ি ভাড়া ছাড়া আর কোন খরচ হয়নি আমার। এখানে দোকান ভাড়াও দিতে হচ্ছে না। ফলে নায্যমূল্যে পণ্য বিক্রি করতে পারছি। তাতে আমারও লাভ হচ্ছে, ক্রেতাদেরও লাভ হচ্ছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন ধরণের শাকসবজির পাশাপাশি মধু, ঘিসহ আর নানান ধরণের কৃষিজাত দ্রব্য বিক্রির জন্য বাজারে নিয়ে নিয়ে এসেছেন কৃষকরা। অপেক্ষাকৃত কম দামে ও টাটকা শাবসবজি পেয়ে খুশি ক্রেতারাও।
এখানে বাজার করতে যাওয়া চাকরিজীবী খালেদ আহমদ বলেন, কয়েকপদের সবজি কিনলাম। দাম কিছুটা কম আছে। তাছাড়া সবজির মানটাও ভালো। একেবারে টাটকা। ইটি আমাদের জন্য ভালো হয়েছে।
কয়েস উদ্দিন নামের আরেক ক্রেতা বলেন, এটি ভালো উদ্যোগ। এই উদ্যোগ যেনো অব্যাহত থাকে। অনেক ভালো উদ্যোগ কিছুদিন পরই হারিয়ে যায়। এই বাজারের ক্ষেত্রে যেনো তা না হয়। এছাড়া এরকম বাজার আরো নগরের আরও কয়েকটি এলাকায় চালু করতে ভালো। তাদের আরও অনেক কৃষক ও ক্রেতা লাভবান হবেন।
সিলেট জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে একটি কৃষিপণ্য মাঠ থেকে ভোক্তার থালা পর্যন্ত পৌঁছাতে অন্তত চার থেকে পাঁচবার হাতবদল হয়। এতে প্রতিটি স্তরে দাম বাড়লেও তার সুফল কৃষকরা পান না; বরং চাষের খরচ তোলা নিয়ে তাদের চরম ঝুঁকিতে থাকতে হয়। অন্যদিকে, সাধারণ ক্রেতাদের গুনতে হয় চড়া দাম। এই ‘কৃষকের হাট’ চালু হওয়ায় ন্যায্য মূল্য কৃষক তার শ্রমের সঠিক দাম সরাসরি পাবেন। সাশ্রয়ী দামে বাজারমূল্যের চেয়ে কম দামে সতেজ ও বিষমুক্ত সবজি পাবেন সাধারণ ক্রেতারা। সিন্ডিকেট নির্মূলে মধ্যস্বত্বভোগীদের অতিরিক্ত মুনাফাখোরি প্রবণতা হ্রাস পাবে।
শনিবার সকালে এই বাজার উদ্বোধনকালে বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর বলেন, দেশে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আর বাজার নিয়ন্ত্রিত হবে না। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রিত হয়, এমন কথাই আমরা বাংলাদেশ থেকে মুছে দিবো।
তিনি বলেন, সিলেটে কৃষকের বাজার নতুন না। এই কনসেপ্ট পৃথিবীর দেশে দেশে আছে। আমরাও এটি চালু করলাম। যাতে বাজারে মধ্যসত্ত্বভোগী না থাকে। এতে কৃষক ও ক্রেতা সকলেই লাভবান হবেন।
তিনি বলেন, সারা দেশে কৃষক যাতে তার উৎপন্ন পণ্য সপ্তাহে একদিন হলেও সরাসরি ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করতে পারেন সে বিষয়ে প্রত্যেক জেলায় এটি চালু করা হবে। সিলেটে পাইলট প্রকল্প হিসেবে চালু হলো।
এই হাটের উদ্বোধনকালে মন্ত্রী আরও বলেন, আমদানি নির্ভর পণ্য স্থিতিশীল রাখতে দেশের পুরো সাপ্লাই চেন এআই মডেলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বাজার নজরদারি বজায় রাখতে সরকার সহজে করতে পারবে। এতে, বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে বলে জানান তিনি।
দেশে টিসিবির কার্যক্রমের পরিধি বাড়ানো হবে জানিয় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার প্রতিবছর টিসিবির কাজের জন্য ৩২শ/৩৩শ কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়, এটা কমানো হবে। তবে টিসিবির কার্যক্রম বাড়ানো হবে।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, কৃষি পণ্যের বাজার সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই বাজারে পর্যায়ক্রমে আরও কৃষকদের সম্পৃক্ত করা হবে। এখানে পণ্য বিক্রির জন্য কৃষকদের কোন ভাড়া দিতে হবে না।