img

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা পর্যায়ে জনমুখী ও উদ্ভাবনী প্রচার কৌশল গ্রহণের পরামর্শ তথ্য সচিবের

প্রকাশিত :  ১১:৪২, ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ১১:৫৬, ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫

জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে জেলা পর্যায়ে জনমুখী ও উদ্ভাবনী প্রচার কৌশল গ্রহণের পরামর্শ তথ্য সচিবের

ঢাকা, ১৮ অগ্রহায়ণ (০৩ ডিসেম্বর) :  আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ বাড়াতে জেলা পর্যায়ে জনমুখী ও উদ্ভাবনী প্রচার কৌশল গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা। তিনি বলেন, নির্বাচনে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে প্রচার কৌশল  নিবিড় ও জনস্পর্শী হতে হবে।

তথ্য সচিব আজ জুম প্লাটফর্মে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট  উপলক্ষে মাঠ পর্যায়ের নির্বাচনী কৌশল সম্পর্কে দিক নির্দেশনা প্রদানের জন্য আয়োজিত সভায়  প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ পরামর্শ দেন।  গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের  উদ্যোগে  জেলা তথ্য কর্মকর্তাদের নিয়ে এ সভা আয়োজন করা হয়। 

গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আবদুল জলিল অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের  মাঠ পর্যায়ের ৬৮ অফিসের কমকর্তারা এতে অংশ নেন। 

তথ্য সচিব  বলেন, মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশনা অনুযায়ী অতীতের সব নির্বাচনের চেয়ে ইউনিক ও অভূতপূর্ব নির্বাচন হতে যাচ্ছে আগামী নির্বাচন। এ নির্বাচনে জেলা তথ্য অফিসগুলো ইনটেন্সিভ পাবলিসিটি বা জনমত গঠনের মূল দায়িত্ব পালন করবে। তিনি আজ থেকেই নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করার জন্য জেলা তথ্য অফিসারদের নির্দেশ দেন। 

তিনি আরো বলেন, ইতিহাসে প্রথমবারের মতো  এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ে ইউনিয়ন বা গ্রাম লেভেল পর্যন্ত তৃণমূল পর্যায়ে জনগণকে অবহিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, তথ্য অফিসাররা এ চ্যালেঞ্জ  সাফল্যের সাথে মোকাবিলা করবে। তিনি বলেন, নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং  সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সমন্বয় করে  করে কাজ করবে। এছাড়া, গুজব ও ফ্যাক্ট চেকিং এর জন্য পিআইবি'র নেতৃত্বে বাংলা ফ্যাক্ট এর সাথে তথ্য অফিসারদের সংযোগ স্থাপন করে দায়িত্ব পালন করতে হবে।  তথ্য অফিসারদের তিনি একটি ইনোভেটিভ টিম হিসেবে কাজ করার জন্য নির্দেশনা দেন। একই সাথে তিনি জেলা প্রশাসন ও নির্বাচন কর্মকর্তার সাথে সমন্বয় করে কাজ করার জন্য তাদের নির্দেশ  দেন। 

সভাপতির বক্তব্যে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, প্রচার কাজে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের ১০২ বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনী আচরণবিধির সাথে সমন্বয় করে ৩৪ টি গান প্রস্তুত করা হয়েছে।   এগুলো আঞ্চলিক ভাষায়  গেয়ে নির্দিষ্ট অঞ্চলে পরিবেশন করা হবে। গ্রামের হাটে বাজারে কেমন করে হ্যাঁ /না ভোট দিতে হয় তার ডেমো জনগণকে দেখানো হবে। ভোট দিতে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রচার আরো আধুনিক ও হৃদয়গ্রাহী করা হচ্ছে। গণমুখী প্রচার কৌশলের ফলে আসন্নজাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং হ্যাঁ/না ভোটে  জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। 

সভায় অন্যদের মধ্যে  তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের রয়েছে অতিরিক্ত  সচিব ড. মোহাম্মদ আলতাফ -উল-আলম, যুগ্ম সচিব মাহফুজা আখতার, গণ যোগাযোগ অধিদপ্তরের  পরিচালক মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দিন এবং সৈয়দ এ. মু'মেন বক্তব্য রাখেন ।

জাতীয় এর আরও খবর

img

আজকের পর আমাদের প্রার্থীরা কোনো দলের না, ১১ দলীয় ঐক্যের: নাহিদ

প্রকাশিত :  ২০:১৭, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

৪৭টি আসন ফাঁকা রেখে ২৫৩ আসনে সমঝোতা করেছে জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের ১০টি দল। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেয়ার জন্য আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আজকের পর থেকে আমাদের কোনো দলের প্রার্থী থাকবে না, প্রার্থী হবে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতসহ ১১ দলের নির্বাচনী ঐক্যের চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, মোট ২৫৩টি আসনের প্রার্থিতা নিয়ে জোটের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি ৩০টি আসনে নির্বাচন করবে। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দলের জন্য বরাদ্দ আসনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজকে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমরা উপস্থিত হয়েছি। যেখানে সংস্কার ও বাংলাদেশের আজাদির পক্ষে থাকা এবং বৈষম্য ও দুর্নীতিবিরোধী অনেকগুলো দল একত্রে একটি প্ল্যাটফর্মে এসেছি। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তিনি বলেন, এখন থেকে কোনো প্রার্থী আর নিজ দলের পরিচয়ে পরিচিত হবেন না। প্রতিটি আসনে তারা জোটের অভিন্ন প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। জোটের প্রতিটি সদস্য দল তাদের ব্যক্তিগত দলীয় পরিচয় বিসর্জন দিয়ে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সমবেত হয়েছে। সারা বাংলাদেশের সব আসনে এখন থেকে আমাদের নির্দিষ্ট কোনো দলের প্রার্থী থাকবে না। আজ থেকে প্রতিটি প্রার্থীই এই ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের একক প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত হবেন। জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার জন্য এবং বৈষম্যবিরোধী লক্ষ্য অর্জনে এই সংহতি অপরিহার্য। 

এই নির্বাচনী ঐক্যকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত ও ঐতিহাসিক যাত্রা’ মন্তব্য করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পরে আমরা যে আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে চাইছি, (তা বাস্তবায়নে) আসন্ন নির্বাচনে এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে আমাদের উৎরাতে হবে।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ; মহান মুক্তিযুদ্ধের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের বাংলাদেশ এবং আমাদের ১৯৪৭ সালের আজাদির লড়াই—সব ঐতিহাসিক লড়াইকে ধারণ করে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। সারা বাংলাদেশের সব আসনে আমাদের কোনো দলের প্রার্থী থাকবে না। আজকের ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবেই তারা বিবেচিত হবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। মুখ্য বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। এছাড়া নাহিদ ইসলাম, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের বক্তব্য দেন। ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন।

মঞ্চে ছিলেন এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির সরওয়ার কামাল আজিজী, বিডিপির সভাপতি এ কে এম আনোয়ারুল হক, জাগপার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাশেদ প্রধান প্রমুখ। তবে ১১–দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেউ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না।

জাতীয় এর আরও খবর