img

পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

প্রকাশিত :  ০৭:৫১, ০৪ ডিসেম্বর ২০২৫

পাটগ্রাম সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত

ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) গুলিতে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে  সবুজ মিয়া (৩০) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন।

আজ বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) ভোরে শমশেরনগর সীমান্তের ৮৬৪/৫ নং মূল সীমানা পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত সবুজ মিয়া জগতবেড় ইউনিয়নের পচাভান্ডার গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বৃহস্পতিবার ভোরে কয়েকজন বাংলাদেশি নাগরিক ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গে মিলে গরু আনার উদ্দেশ্যে সীমান্তের শূন্যরেখার কাছাকাছি প্রবেশ করেন। এ সময় সীমান্তে দায়িত্বে থাকা ভারতের চেনাকাটা ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে একাধিক রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

এতে ঘটনাস্থলেই সবুজ মিয়ার মৃত্যু হয়। এ সময় তার সঙ্গে থাকা অন্যরা দ্রুত পালিয়ে আসতে সক্ষম হলেও সবুজের মরদেহ বিএসএফ সদস্যরা নিয়ে যায়।

ঘটনার পর বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের আহ্বান করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সীমান্তে এমন একটি ঘটনার খবর পেয়েছি। তবে বিজিবি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি। শুনেছি এ ঘটনায় বিজিবি ও বিএসএফের কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে পারে।

জাতীয় এর আরও খবর

img

আজকের পর আমাদের প্রার্থীরা কোনো দলের না, ১১ দলীয় ঐক্যের: নাহিদ

প্রকাশিত :  ২০:১৭, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

৪৭টি আসন ফাঁকা রেখে ২৫৩ আসনে সমঝোতা করেছে জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় নির্বাচনী জোটের ১০টি দল। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সংবাদ সম্মেলনে এই ঘোষণা দেয়ার জন্য আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আজকের পর থেকে আমাদের কোনো দলের প্রার্থী থাকবে না, প্রার্থী হবে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের।

বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জামায়াতসহ ১১ দলের নির্বাচনী ঐক্যের চূড়ান্ত ঘোষণা দিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জানানো হয়, মোট ২৫৩টি আসনের প্রার্থিতা নিয়ে জোটের মধ্যে সমঝোতা হয়েছে। এর মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি ৩০টি আসনে নির্বাচন করবে। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ কয়েকটি দলের জন্য বরাদ্দ আসনের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আজকে এক ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমরা উপস্থিত হয়েছি। যেখানে সংস্কার ও বাংলাদেশের আজাদির পক্ষে থাকা এবং বৈষম্য ও দুর্নীতিবিরোধী অনেকগুলো দল একত্রে একটি প্ল্যাটফর্মে এসেছি। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আসন্ন জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোটে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

তিনি বলেন, এখন থেকে কোনো প্রার্থী আর নিজ দলের পরিচয়ে পরিচিত হবেন না। প্রতিটি আসনে তারা জোটের অভিন্ন প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। জোটের প্রতিটি সদস্য দল তাদের ব্যক্তিগত দলীয় পরিচয় বিসর্জন দিয়ে একটি অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সমবেত হয়েছে। সারা বাংলাদেশের সব আসনে এখন থেকে আমাদের নির্দিষ্ট কোনো দলের প্রার্থী থাকবে না। আজ থেকে প্রতিটি প্রার্থীই এই ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের একক প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচিত হবেন। জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়ার জন্য এবং বৈষম্যবিরোধী লক্ষ্য অর্জনে এই সংহতি অপরিহার্য। 

এই নির্বাচনী ঐক্যকে ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত ও ঐতিহাসিক যাত্রা’ মন্তব্য করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের পরে আমরা যে আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে এগিয়ে যেতে চাইছি, (তা বাস্তবায়নে) আসন্ন নির্বাচনে এই পরীক্ষার মধ্য দিয়ে আমাদের উৎরাতে হবে।’

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ; মহান মুক্তিযুদ্ধের সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচারের বাংলাদেশ এবং আমাদের ১৯৪৭ সালের আজাদির লড়াই—সব ঐতিহাসিক লড়াইকে ধারণ করে আসন্ন নির্বাচন ও গণভোটে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব। সারা বাংলাদেশের সব আসনে আমাদের কোনো দলের প্রার্থী থাকবে না। আজকের ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী হিসেবেই তারা বিবেচিত হবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে সূচনা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক। মুখ্য বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। এছাড়া নাহিদ ইসলাম, এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ও খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের বক্তব্য দেন। ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এইচ এম হামিদুর রহমান আযাদ সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন।

মঞ্চে ছিলেন এনসিপির মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া, আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের আমির হাবীবুল্লাহ মিয়াজী, নেজামে ইসলাম পার্টির আমির সরওয়ার কামাল আজিজী, বিডিপির সভাপতি এ কে এম আনোয়ারুল হক, জাগপার জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি রাশেদ প্রধান প্রমুখ। তবে ১১–দলীয় ঐক্যের অন্যতম শরিক ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেউ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন না।

জাতীয় এর আরও খবর