img

এসএমই প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ বাড়াতে বিএসইসির নতুন নির্দেশনা

প্রকাশিত :  ০৫:৪৩, ০৪ জানুয়ারী ২০২৬

এসএমই প্ল্যাটফর্মে বিনিয়োগ বাড়াতে বিএসইসির নতুন নির্দেশনা

পুঁজিবাজারে ক্ষুদ্র ও মাঝারি মূলধনী কোম্পানির প্ল্যাটফর্ম বা এসএমই বোর্ডকে পুনরুজ্জীবিত করতে বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নিয়ন্ত্রক সংস্থার নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে কোনো বিনিয়োগকারীর সেকেন্ডারি মার্কেটে মাত্র ১০ লাখ টাকার পোর্টফোলিও থাকলেই তিনি এসএমই বোর্ডে লেনদেনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫-এ অনুষ্ঠিত কমিশনের ৯৯০তম সভায় এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে এই বিনিয়োগের সীমা ছিল ৩০ লাখ টাকা, যা সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণের পথে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

এখন থেকে দেশি কিংবা বিদেশি—যেকোনো বিনিয়োগকারী ডিএসইর সেকেন্ডারি মার্কেটে ন্যূনতম ১০ লাখ টাকার শেয়ার ধারণ করলেই ‘কোয়ালিফাইড ইনভেস্টর’ হিসেবে এসএমই বোর্ডে কেনাবেচা করতে পারবেন। এই পরিবর্তন কার্যকর করার লক্ষে বিএসইসি তাদের ২০২২ সালের ২১ সেপ্টেম্বরের পুরনো নির্দেশিকাটি সংশোধনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

বস্তুত, বাজারের গভীরতা বাড়ানো এবং তারল্য সংকট নিরসনেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

বিএসইসির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বিগত কমিশনের সময়ে আইনের মূল বিধিমালার সঙ্গে জারি করা নির্দেশনার যে অসামঞ্জস্য ছিল, তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করেছিল। বর্তমান কমিশন সেই আইনি জটিলতা নিরসন করে বিধিমালার সঙ্গে নির্দেশনার পূর্ণ সামঞ্জস্য ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এতে করে বিনিয়োগকারীরা স্বচ্ছতার সঙ্গে এসএমই প্ল্যাটফর্মে লেনদেন করতে পারবেন।

তথ্যমতে, ২০১৮ সালের মূল বিধিমালায় ক্ষুদ্র মূলধনী কোম্পানিতে বিনিয়োগের সীমা ১০ লাখ টাকাই নির্ধারিত ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তৎকালীন কমিশন প্রধান শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলামের অধীনে একটি পৃথক আদেশের মাধ্যমে এই সীমা বাড়িয়ে ৩০ লাখ টাকা করা হয়। আইনের মূল স্পিরিটের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এই সিদ্ধান্তের ফলে এসএমই বোর্ডের লেনদেন উল্লেখযোগ্য হারে কমে যায় এবং তারল্য সংকট চরম আকার ধারণ করে। বর্তমান কমিশন এখন পুনরায় মূল বিধিমালার ১০ লাখ টাকার শর্তটি কার্যকর করার মাধ্যমে সেই স্থবিরতা কাটানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

৫ কোটি থেকে ৩০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনসম্পন্ন কোম্পানিগুলোর জন্য তৈরি এই বিকল্প ট্রেডিং প্ল্যাটফর্মটি নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মাঝে দীর্ঘদিন ধরেই অসন্তোষ ছিল। বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, ৩০ লাখ টাকার শর্তটি কেবল আইনগতভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ ছিল না, বরং এটি ক্ষুদ্র কোম্পানিগুলোর শেয়ারে বড় বিনিয়োগকারীদের সিন্ডিকেট তৈরির সুযোগ করে দিয়েছিল। এখন বিনিয়োগের সীমা কমিয়ে আনায় সাধারণ বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়বে, যা নিস্তেজ হয়ে থাকা এসএমই বোর্ডে নতুন করে প্রাণের সঞ্চার করবে।

২০২১ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরুর পর থেকেই এসএমই বোর্ড বারবার নীতিগত পরীক্ষার শিকার হয়েছে। শুরুতে বিনিয়োগের ন্যূনতম সীমা ৫০ লাখ টাকা থাকলেও ধাপে ধাপে তা ২০ লাখ এবং পুনরায় বাড়িয়ে ৩০ লাখ করা হয়েছিল। এই অস্থিতিশীল নীতির কারণে ২০২৫ সালে এসএমই সূচক ‘ডিএসএমইএক্স’ প্রায় ২১ শতাংশ ধসে পড়ে এবং দৈনিক গড় লেনদেন মাত্র ৫ কোটি টাকায় ঠেকে। নতুন বছরের শুরুতেই বিএসইসির এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ২০২৬ সালে এসএমই বোর্ডকে একটি শক্তিশালী ও গতিশীল প্ল্যাটফর্মে রূপান্তর করবে বলে আশা করছেন বিশ্লেষকরা।

img

ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য বেড়ে সাড়ে চার লাখ কোটি টাকা

প্রকাশিত :  ০৬:১২, ২২ অক্টোবর ২০২৬

বিনিয়োগের চাহিদা কমে যাওয়ায় ব্যাংক খাতে উদ্বৃত্ত তারল্য ক্রমাগত বাড়ছে। গত আগস্ট শেষে এর পরিমাণ বেড়ে প্রায় সাড়ে চার লাখ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে, যা গত জুনে প্রথমবারের মতো চার লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়েছিল। উদ্বৃত্ত এই অর্থের বড় অংশ ট্রেজারি বিল ও বন্ডে বিনিয়োগের মাধ্যমে সরকারকে ঋণ দিতে কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে ব্যাংকগুলো।

উদ্বৃত্ত তারল্য মানেই অলস অর্থ নয়। আমানত থেকে কোনো ব্যাংকের বিধিবদ্ধ তারল্য অনুপাত (এসএলআর) সংরক্ষণের পর বাকি অর্থ উদ্বৃত্ত তারল্য হিসেবে বিবেচিত। বর্তমানে প্রচলিত ধারার একটি ব্যাংকের মোট আমানতের ১৩ শতাংশ এবং শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের ৪ শতাংশ  এসএলআর রাখতে হয়। বিল ও বন্ডে বিনিয়োগের বিপরীতে যা রাখার সুযোগ রয়েছে। এ ছাড়া দুই ধরনের ব্যাংকের নগদ জমা অনুপাত (সিআরআর) রাখতে হয় আরও ৪ শতাংশ।

ব্যাংকাররা জানান, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে এখন আশানুরূপ বিনিয়োগ হচ্ছে না। আবার খেলাপি ঋণ কমাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের চাপের কারণে ঋণ বিতরণে সতর্কতা দেখাচ্ছে ভালো ব্যাংকগুলো। যে কারণে বেসরকারি খাতে বার্ষিক ঋণপ্রবৃদ্ধি  ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশে নেমেছে, যা  আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে কম। এ সময়ে ঝুঁকিমুক্ত বিবেচনায় ট্রেজারি বিল ও বন্ডে ঋণ দেওয়ায় বেশি আগ্রহ দেখাচ্ছে ব্যাংকগুলো। যে কারণে দীর্ঘদিন দুই অঙ্কে থাকা বিল ও বন্ডের সুদহার অনেক কমেছে।

ব্যাংকাররা আরও জানিয়েছেন, কয়েকটি ব্যাংক দীর্ঘদিন ধরে আমানত ফেরত দিতে না পারায় মানুষের হাতে টাকা রাখার প্রবণতা ব্যাপক বেড়ে যায়। এখন আবার ঘরের টাকা ব্যাংকে ফিরছে। তবে এই অর্থ আসছে হাতেগোনা কয়েকটি ব্যাংকে। ভালো ব্যাংকগুলো তুলনামূলক কম সুদ দিলেও যথাসময়ে টাকা ফেরতের প্রত্যাশা থেকে সেখানেই রাখছে বেশির ভাগ মানুষ। তবে গ্রাহকের স্বর্থে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি ঋণ ও আমানতে মধ্যেকার সুদহারের সর্বোচ্চ ব্যবধান (স্প্রেড) ৪ শতাংশ নির্ধারণ করে দিয়েছে। যদিও অনেক ব্যাংক এই নির্দেশনা পালন করছে না। তারা এ ক্ষেত্রে প্রচলিত হিসাব পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সঙ্গে  আলোচনা করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট শেষে ব্যাংক খাতের উদ্বৃত্ত তারল্য দাঁড়িয়েছে চার লাখ ৪১ হাজার ৯৫৪ কোটি টাকা। আগের মাস জুলাই শেষে যা ছিল চার লাখ ২৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা। গত জুনে ছিল চার লাখ ১৪ হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা। গত বছরের ডিসেম্বর শেষে উদ্বৃত্ত তারল্য ছিল তিন লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের জুন শেষে ছিল দুই লাখ ৮৩ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের জুন শেষে এর পরিমাণ ছিল এক লাখ ৯৩ হাজার ৯৬৪ কোটি টাকা। 

পরিসংখ্যান বলছে, কম সুদের ঋণেও আগ্রহ দেখাচ্ছেন না ব্যাংকাররা। ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙ্গা করতে কম সুদে ঋণ দিতে বাংলাদেশ ব্যাংক গত মে মাসে ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। এ তহবিল থেকে গত ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে মাত্র ১১ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা। এই প্যাকেজের আওতায় বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে এ পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে মাত্র ৫৬১ কোটি টাকা। গ্রামীণ অর্থনৈতিক কাজে গতিশীলতা আনা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, সবুজ কারখানা রূপান্তর, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা রপ্তানি এবং হিমায়িত চিংড়ি এসব খাতের ১০ হাজার টাকার তহবিল থেকে এক টাকাও বিতরণ হয়নি।


অর্থনীতি এর আরও খবর