img

রাজধানীতে ১০ম শ্রেণির ছাত্রীকে গলা কেটে হত্যা

প্রকাশিত :  ১৬:০১, ১০ জানুয়ারী ২০২৬

রাজধানীতে ১০ম শ্রেণির ছাত্রীকে গলা কেটে হত্যা

রাজধানী ঢাকার বনশ্রীতে ফাতেমা আক্তার লিলি (১৭) নামের এক স্কুলছাত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। শনিবার দুপুর দেড়টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টার মধ্যে দক্ষিণ বনশ্রীর প্রধান সড়কের ‘প্রীতম ভিলা’ নামের একটি বাসায় এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। 

নিহত লিলি স্থানীয় রেডিয়েন্ট স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নিহত ফাতেমা আক্তার লিলি হবিগঞ্জ জেলার লাখাই থানার বামৈন গ্রামের সজীব মিয়ার মেয়ে। পরিবারের সঙ্গে সে খিলগাঁও থানার দক্ষিণ বনশ্রী প্রধান সড়কের এল ব্লকের প্রীতম ভিলার একটি বাসায় ভাড়া থাকত।

খিলগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের বড় বোন শোভা জানান, জমিজমা-সংক্রান্ত বিষয়ে তাদের বাবা-মা গত বুধবার গ্রামের বাড়িতে গেছেন। তাদের একটি হোটেলের ব্যবসা আছে। বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে খাবার নেওয়ার জন্য হোটেলের কর্মচারী মিলন বাসায় এলে লিলি তার সঙ্গে কিছুটা খারাপ ব্যবহার করেছিল। আজ দুপুরের দিকেও মিলন খাবার নিতে বাসায় আসেন। আজ দুপুর দেড়টার দিকে জিমে যাওয়ার সময় লিলিকে দরজা লক করে দিতে বলেন শোভা। জিম থেকে ফিরে তিনি দেখেন গেট লাগানো থাকলেও ঘরের দরজা খোলা এবং ভেতরে সবকিছু এলোমেলো।

শোভা আরও বলেন, ‘বাসার ভেতরে বড় একটি পাতিলের মতো জিনিসের নিচে আমার বোনকে কুঁকড়ানো অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। প্রথমে ভেবেছিলাম মাথায় আঘাত পেয়েছে। পরে হিজাব খুলে দেখি গলায় রশি প্যাঁচানো এবং গলা বঁটি দিয়ে কাটা। আমাদের হোটেলের কর্মচারী মিলনের ওপরই আমাদের সন্দেহ হচ্ছে।’

বোনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার সময় বাড়ির মালিক বা অন্য কেউ এগিয়ে আসেনি বলেও অভিযোগ করেন শোভা। পরে এক বন্ধুর সহযোগিতায় রিকশায় করে লিলিকে ফরাজী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

ওসি মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, বিকেলের দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে ফরাজী হাসপাতাল থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তিনি বলেন, ‘হাসপাতালে গিয়ে দেখি লিলির গলা কাটা। এখন পর্যন্ত এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যায়নি। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।’

বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের সময় ১৩টি স্বর্ণের বারসহ একজকে আটক করলো বিজিবি

প্রকাশিত :  ১৭:০৬, ২৬ জুন ২০২৬

যশোরের বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে স্বর্ণ পাচারের প্রাক্কালে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ১ কেজি ১৫৮ গ্রাম ওজনের ১৩টি স্বর্ণের বারসহ সাহাব উদ্দিন সরদার নামের এক স্বর্ণ পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

অদ্য (২৬ জুন) ভোরে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর অধীনস্থ বেনাপোল বিওপির একটি চৌকস আভিযানিক টহলদল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর-বেনাপোল মহাসড়কের গদখালী বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে সাহাব উদ্দিন সরদার (৪৪) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। এ সময় তার কোমরে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ১ কেজি ১৫৮ গ্রাম ওজনের ১৩টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে তার ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল এবং একটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। আটককৃত ব্যক্তি বেনাপোলের বালুন্ডা গ্রামের ইয়াছিন সরদারের ছেলে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত ব্যক্তি জানান, তিনি ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকার চোরাকারবারীদের কাছ থেকে স্বর্ণের বারগুলো সংগ্রহ করে যশোর হয়ে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের উদ্দেশ্যে পুটখালী এলাকায় নিয়ে যাচ্ছিলেন। 

উদ্ধারকৃত ১৩টি স্বর্ণের বারের আনুমানিক বাজারমূল্য ২,২১,৪৬,৭৫০/- (দুই কোটি একুশ লক্ষ ছেচল্লিশ হাজার সাতশত পঞ্চাশ) টাকা।  

আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক মামলা দায়েরের মাধ্যমে তাকে ঝিকরগাছা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, \"সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ থেকে ভারতে স্বর্ণ পাচারের প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় যশোর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এই সফল অভিযান পরিচালনা করে স্বর্ণসহ একজন পাচারকারীকে আটক করা হয়েছে। সীমান্তে সব ধরনের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির আভিযানিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।\"