img

যে যাই বলুক না কেন, ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে : প্রধান উপদেষ্টা

প্রকাশিত :  ১৬:১৬, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৮:২০, ১৮ জানুয়ারী ২০২৬

যে যাই বলুক না কেন, ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে : প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘এবারের ভোট ও গণভোট সফলভাবে করতেই হবে। যে যাই বলুক না কেন, ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন হবে। এবারের নির্বাচন কোনো গোজামিলের নির্বাচন হবে না। এবারের নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে হয় এই দায়িত্ব সরকার, নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দল- আমাদের সবার।

এ ব্যাপারে সব রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করছি।’ 

আজ রবিবার (১৮ জানুয়ারি) রাতে যমুনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠককালে এসব কথা বলেন তিনি। বৈঠকে জামায়াত নেতারা জানান, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে পূর্ণোদ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে। জামায়াতে ইসলামী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রচারণা ইতিমধ্যেই শুরু করেছে; আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে পাশাপাশি দুই ক্যাম্পেইন চলবে।

এসময় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ নির্বাচন সম্পর্কিত কয়েকটি বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। 

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত নেতাদের বলেন, ‘যেভাবেই হোক আমাদের ভালো নির্বাচন করতে হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত যেকোনো জরুরি তথ্য, অভিযোগ বা মতামত আমাদের জানাবেন। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনের নজরে আনব; সরকারের যদি কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার থাকে, নেব।

কেন্দ্রগুলোকে খুব দ্রুত সিসি ক্যামেরার আওতাধীন আনা হবে জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘অধিকাংশ কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকবে। এগুলো জানুয়ারির মধ্যে ইনস্টল হয়ে যাবে। ঝুঁকির আশঙ্কা আছে এমন কেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বডি ক্যামেরা থাকবে। কন্ট্রোল রুম থেকে এগুলো সব মনিটর করা হবে। ফুটেজ রেকর্ডেড থাকবে যাতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটামাত্রই যেন ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচার-প্রচারণার বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “কেউ কেউ বলছেন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের প্রচারণা আইনসম্মত কি না, কিন্তু আমরা সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি এতে কোনো আইনগত বাধা নেই। গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব সংস্কারের পক্ষে থাকা।’ 

প্রধান উপদেষ্টা জানান, নির্বাচনের সময় স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ভূত বিরোধ নিরসনের জন্য সব রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে যাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যায় সে ব্যাপারে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ছাড়া নির্বাচন উপলক্ষে একটি হটলাইন নম্বর চালু থাকবে যেখানে সব ধরনের অভিযোগ গ্রহণ করা হবে। নির্বাচনে জয়-পরাজয় যাই হোক না কেন, সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচন সফল এবং দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।

বৈঠকে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে এতে অংশ নেন দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।

এসময় পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, শিল্প, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।

জাতীয় এর আরও খবর

img

ভারতে ব্রিকস সম্মেলনে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১০:৩৪, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আসন্ন ব্রিকস সম্মেলনে ভারতে যাচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অনুকূল পরিবেশ হলেই প্রধানমন্ত্রী ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

বৃহস্পতিবার ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে রোহিঙ্গা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বক্তৃতা করে বেরিয়ে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এ কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রীর এই বক্তব্যে তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে দুদেশের মধ্যে যে আশা-নিরাশার দোলাচল চলছিল সেটির অবসান ঘটল। 

ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্রিকসের অষ্টাদশতম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর। এ সম্মেলনের আয়োজক ভারত। নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে সরকার প্রধান তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, আগামী সপ্তাহে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশ নিচ্ছেন না। ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে যে প্রক্রিয়ায় আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, তাতে সন্তুষ্ট নয় ঢাকা। তবে সরকারপ্রধানের ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফর হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ প্রশ্নে কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। সবশেষ ৪ সেপ্টেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছিলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অংশগ্রহণ নিয়ে তাদের কাছে নতুন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।

বৃহস্পতিবার প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে ব্রিকসে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। অনুকূল পরিবেশ হলেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন।

বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য না হলেও বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীকে সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে অংশ নিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল দিল্লি। তবে শেষ পর্যন্ত সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিচ্ছেন না প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে গেল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও ভারতের আমন্ত্রণ জানানোর প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি বিষয়টিকে ‘সিরিয়াসলি’ নেওয়ার কথাও বলেন।

সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কাজের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেছিলেন, সরকার শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনতে চায় কি না, কেউ কেউ এ ধরনের স্পেকুলেট করছেন। কেউ কেউ এটা আসলে চায় না, ভারতের ওপর একটা চাপ তৈরির জন্য।

তিনি সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করে বলেন, আমরা একটা কথা খুব ক্লিয়ারলি বলতে চাই—মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সঙ্গে যখন এটাকে কন্ডিশন হিসেবে দেওয়া হয়েছে, ইউ হ্যাভ টু টেক ইট সিরিয়াসলি।