img

‘কুসুম’ হয়ে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতলেন জয়া

প্রকাশিত :  ০৯:০৭, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

‘কুসুম’ হয়ে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতলেন জয়া

অভিনেত্রী জয়া আহসান নতুন বছরের শুরুতেই নিজের অভিনয়জীবনে আরও একটি গৌরবময় সাফল্য যুক্ত করলেন । কলকাতার জনপ্রিয় টেলিভিশন চ্যানেল জি২৪ ঘণ্টা আয়োজিত ‘বিনোদনের সেরা ২৪’ অ্যাওয়ার্ডে সমালোচকদের বিচারে সেরা অভিনেত্রীর সম্মান অর্জন করেছেন তিনি। সুমন মুখার্জি পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’-তে অনবদ্য অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ এই পুরস্কার উঠেছে তাঁর হাতে।

পুরস্কারপ্রাপ্তির অনুভূতি ভাগ করে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জয়া লিখেছেন, পুতুলনাচের ইতিকথা” সিনেমার জন্য বছরের প্রথম পুরস্কার পেয়ে আমি সম্মানিত বোধ করছি। জি২৪ ঘণ্টা আয়োজিত “বিনোদনের সেরা ২৪” অনুষ্ঠানে সমালোচকদের বিচারে সেরা অভিনেত্রী হিসেবে এই স্বীকৃতি পাওয়া সত্যিই আনন্দের। কৃতজ্ঞ ও অভিভূত।

জয়ার এই অর্জনে শুভেচ্ছার জোয়ার বইছে—ভক্তদের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও কলকাতার অভিনয়শিল্পী, নির্মাতা এবং সংস্কৃতিকর্মীরাও তাঁকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস ‘পুতুলনাচের ইতিকথা’ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৩৪–৩৫ সালে, ভারতবর্ষ সাময়িকীতে ধারাবাহিকভাবে। প্রায় ৯০ বছর পর সেই সাহিত্যকর্ম অবলম্বনে নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রটি। গত বছরের আগস্টে পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায় সিনেমাটি। উপন্যাসের কুসুম চরিত্রে পর্দায় প্রাণবন্ত উপস্থিতি নিয়ে হাজির হয়েছেন জয়া আহসান। ছবিতে তাঁর সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন আবীর চট্টোপাধ্যায়, পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়, ধৃতিমান চট্টোপাধ্যায় ও অনন্যা চট্টোপাধ্যায়—যাঁরা যথাক্রমে শশী, কুমুদ, যাদব ও সেনদিদি চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

কুসুম চরিত্রটি নিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জয়া বলেন, ‘সাধারণত নারীদের কেবল কামনা-বাসনার বস্তু হিসেবেই তুলে ধরা হয়। কিন্তু কুসুমের নিজেরও কামনা-বাসনা আছে, আর সে তা গোপন করে না। কুসুম যেন একেবারে খোলা বই—তার মন, শরীর আর আত্মা একই সুরে বাঁধা। এখানেই শশীর সঙ্গে তার মূল পার্থক্য। কুসুম শশীর চরিত্রকে চ্যালেঞ্জ করার ক্ষমতা রাখে। সে ভীষণ খোলা মনের, সতেজ ও প্রাণবন্ত একটি চরিত্র।’


বিনোদন এর আরও খবর

img

বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকার আর নেই

প্রকাশিত :  ০৫:১৮, ০৮ অক্টোবর ২০২৬

ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিশালী অভিনেতা ও নির্মাতা নানা পাটেকার আর নেই। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি গোয়ায় নিজের বাসভবনে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।

আজ বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) হাসপাতাল সূত্র জানায়, সকালে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসকরা সেখানে প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর দিয়ে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু সব চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং সকাল ৫টা ২০ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

দীর্ঘ অভিনয় জীবনে নিখুঁত অভিনয়শৈলী ও দাপুটে সংলাপের জন্য দর্শকদের হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছিলেন নানা পাটেকার। তিনবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া এই কিংবদন্তি নটসম্রাট, ওয়াজুদ, পরিন্দা, আব তাক ছাপ্পান আর যশোবন্ত-এর মতো অসংখ্য সফল ছবিতে অভিনয় করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করেছেন।

১৯৭৮ সালে ‘গমন’ ছবির মাধ্যমে বলিউডে পা রাখেন তিনি। এরপর ২০০০-এর দশকের শুরুতে শক্তি: দ্য পাওয়ার (২০০২), আব তাক ছাপ্পান (২০০৪), অপহরণ (২০০৫) এবং ট্যাক্সি নম্বর ৯২১১ (২০০৬) ছবিতে তার অভিনয় ব্যাপক প্রশংসা পায়।

বাণিজ্যিক ধারার কমেডি ছবি ‘ওয়েলকাম’ (২০০৭) এবং এর সিক্যুয়েল ‘ওয়েলকাম ব্যাক’ (২০১৫)-এ গ্যাংস্টার উদয় শেট্টির চরিত্রে অভিনয় করে সিনেপ্রেমীদের মনে আলোড়ন তুলেছিলেন তিনি। জনপ্রিয় রাজনৈতিক থ্রিলার ‘রাজনীতি’ (২০১০) ছবিতে দুর্দান্ত পার্শ্ব চরিত্রের জন্য পঞ্চমবারের মতো ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডে সেরা পার্শ্ব অভিনেতার মনোনয়ন পান। পরে ২০১৬ সালে মারাঠি ছবি নটসম্রাট-এ অসাধারণ অভিনয়ের জন্য ফিল্মফেয়ার সেরা অভিনেতার পুরস্কার জেতেন। সম্প্রতি ‘হাউসফুল ৫’ ছবিতেও পার্শ্ব চরিত্রে দেখা গিয়েছিল তাকে।

অভিনয়ের পাশাপাশি সংগীতজগতেও নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন এই বহুমুখী শিল্পী। ১৯৯৭ সালে \'যশোবন্ত\', ১৯৯৮ সালে \'ওয়াজুদ\' এবং ২০০৩ সালে \'আঁচ\' চলচ্চিত্রে নেপথ্য কণ্ঠশিল্পী হিসেবে গান গেয়ে দর্শক ও সমালোচক উভয় মহলেই প্রশংসা কুড়ান তিনি।