img

সালমান শাহ: ইস্কাটন রোডের ফ্ল্যাটে কী হয়েছিল সেই শুক্রবারে

প্রকাশিত :  ০৭:১৩, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সালমান শাহ: ইস্কাটন রোডের ফ্ল্যাটে কী হয়েছিল সেই শুক্রবারে

সেদিন ছিল শুক্রবার, আজ থেকে ঠিক ৩০ বছর আগে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর। শরতের সেই সকালে সমকালীন ঢাকাই চলচ্চিত্র অঙ্গনে গভীর শূন্যতা তৈরি করে বিদায় নেন সালমান শাহ। তাঁর পারিবারিক নাম শহীদ চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায় জন্ম নেওয়া সালমানের বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ও মা নীলা চৌধুরী। পরিবারের বড় ছেলে ছিলেন তিনি।

এসেছিলেন ১৯৭১-এ, চলে গেলেন ১৯৯৬-তে। মাত্র ২৫ বছর। গড় আয়ুর তুলনায়ও একেবারেই নগণ্য বয়স। এত অল্প সময়ে কেন চলে গেলেন তিনি, কেন চলে যেতে হলো—সেই রহস্য এখনো উন্মোচিত হয়নি। চলছে বিচার। আসলে কী ঘটেছিল সেদিন, তা এখনো রহস্যের ভেতর আছে, তবে সেদিনের ঘটনাগুলো বিভিন্ন সময়ে নিকটজনদের বয়ানে পাওয়া যায়।

চিত্রনায়ক সালমান শাহ তখন থাকতেন রাজধানী ঢাকার নিউ ইস্কাটন রোডের ইস্কাটন প্লাজার একটি ফ্ল্যাটে। সেদিন সকাল সাতটায় বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ছেলে শাহরিয়ার চৌধুরী ইমনের সঙ্গে দেখা করতে ইস্কাটনের বাসায় যান। কিন্তু ছেলের দেখা না পেয়ে তিনি ফিরে আসেন। সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সেদিনের ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরী বলেন, বাসার নিচে দারোয়ান সালমান শাহর বাবাকে তাঁর ছেলের বাসায় যেতে দিচ্ছিলেন না। নীলা চৌধুরীর বর্ণনা ছিল এ রকম, ‘বলেছে স্যার এখন তো ওপরে যেতে পারবেন না। কিছু প্রবলেম আছে। আগে ম্যাডামকে (সালমান শাহর স্ত্রীকে) জিজ্ঞেস করতে হবে। একপর্যায়ে উনি (সালমান শাহর বাবা) জোর করে ওপরে গেছেন। কলবেল দেওয়ার পর দরজা খুলল সামিরা (সালমান শাহর স্ত্রী)। উনি (সালমান শাহর বাবা) সামিরাকে বললেন, “ইমনের (সালমান শাহর ডাকনাম) সঙ্গে কাজ আছে, ইনকাম ট্যাক্সের সই করাতে হবে। ওকে ডাক।” তখন সামিরা বলল, “ও তো ঘুমে।” তখন উনি বললেন, “ঠিক আছে আমি বেডরুমে গিয়ে সই করিয়ে আনি।” কিন্তু যেতে দেয়নি। আমার হাজব্যান্ড ঘণ্টা দেড়েক বসে ছিল ওখানে।’

বিনোদন এর আরও খবর

img

তাহলে কি ভেঙে যাচ্ছে সাবিলার ৭ বছরের সংসার?

প্রকাশিত :  ০৬:৪৮, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৬:৫২, ১৭ অক্টোবর ২০২৬

শোবিজ অঙ্গনে একের পর এক তারকার দাম্পত্য টানাপড়েন ও বিচ্ছেদ সংবাদের মাঝে এবার আলোচনায় এসেছে ছোট ও বড় পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সাবিলা নূরের নাম। স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহেরের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের টানাপড়েন এবং আলাদা থাকার গুঞ্জন নিয়ে বিনোদনপাড়ায় তুমুল চর্চা চলছে। সাত বছরের প্রেমের পর ২০১৯ সালে পারিবারিকভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই তারকা জুটির বিচ্ছেদ এখন কেবলই সময়ের ব্যাপার বলে বাতাসে খবর ভাসছে।

সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা গেছে, সাবিলা নূরের দাম্পত্য কলহের পেছনে রয়েছে শোবিজপাড়ারই একজন ডিরেক্টর অব ফটোগ্রাফি (ডিওপি) আবদুল মামুনের সঙ্গে নতুন সম্পর্কের সূচনা। ‘রকস্টার’ সিনেমার দৃশ্যধারণের সময় কাজের সূত্রে দুজনের পরিচয় ঘটে, যা পরবর্তীতে ব্যক্তিগত সম্পর্কে রূপ নেয়। কাজের সেটে তাদের এই ঘনিষ্ঠতা পুরো টিমের কাছে ‘ওপেন সিক্রেট’ ছিল বলেও সংশ্লিষ্ট ইউনিট সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। এমনকি এতে কাজের ব্যাঘাত ঘটায় প্রযোজনা পক্ষ তাকে পরিবর্তনের কথাও ভেবেছিল, তবে শেষ পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন করার স্বার্থেই বিষয়টি চেপে রাখা হয়।

এদিকে অভিনেত্রীর এই নতুন সম্পর্কের প্রভাব কেবল তার নিজের সংসারেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এর ফলে তিশা নামের এক তরুণীর দীর্ঘ সাত বছরের ভালোবাসার সম্পর্ক ও প্রায় চূড়ান্ত হয়ে যাওয়া বিয়ে ভেঙে গেছে বলে জোরালো অভিযোগ উঠেছে। সহকারী পরিচালক থেকে প্রযোজনা জগতে আসা তিশা জানান, ‘রকস্টার’ সিনেমার কাজ শেষ হওয়ার পরপরই মে মাসের ১৫ তারিখে ডিওপি আবদুল মামুনের সঙ্গে তার সামাজিক বিয়ের দিনক্ষণ চূড়ান্ত ছিল।

গণমাধ্যমে ক্ষোভ ও কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিশা অভিযোগ করেন, সাবিলা নূরের সঙ্গে সম্পর্কের জেরে বিয়ের মাত্র ১০ দিন আগে মামুন হঠাৎ করেই তাকে বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। অনেক বোঝানোর চেষ্টা করেও তার মন ঘোরানো সম্ভব হয়নি।

তিশার ভাষ্য, ‘সাবিলা নূর আমাদের দীর্ঘ প্রেমের সম্পর্কের কথা পুরোপুরি জানতেন। একজন নারী হয়েও তিনি আরেকজন নারীর ক্ষতির কথা ভাবেননি। মামুন একজন বড় তারকাকে পেয়ে আমার সাত বছরের ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের কোনো মূল্য দিল না।’ তিশা আরও জানান, মামুনের ক্যারিয়ারের কথা বিবেচনা করেই তিনি নিজে উদ্যোগ নিয়ে পূর্বনির্ধারিত বিয়ের তারিখ পিছিয়ে দিয়েছিলেন, যা পরবর্তীতে তার ব্যক্তিগত জীবনের জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। পরিবার আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবলেও মামুনের প্রতি আবেগ থেকে তিনি তাতে সম্মতি দেননি।

উল্লেখ্য, সাবিলা নূরের দাম্পত্য দূরত্বের খবর প্রকাশ্যে আসার শুরুতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহশিল্পী শাকিব খানের সঙ্গে তার নাম জড়িয়ে কিছু জল্পনাকল্পনা ছড়ানো হয়েছিল। তবে অনুসন্ধানে জানা যায়, শাকিব খানের বিষয়টি পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও নিছক গুঞ্জন ছিল। পুরো পরিস্থিতির কেন্দ্রবিন্দুতে মূলত সংশ্লিষ্ট ডিওপির সঙ্গে গড়ে ওঠা সম্পর্কই প্রধান কারণ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

চলমান এই বিতর্ক, দাম্পত্য কলহ এবং নতুন সম্পর্কের গুঞ্জন নিয়ে গণমাধ্যম থেকে চলচ্চিত্রটির পরিচালক আজমান রুশোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক মন্তব্য এড়িয়ে যান এবং পরবর্তীতে কথা বলবেন বলে জানান।

অন্যদিকে ব্যাপক আলোচনা ও অভিযোগের মুখেও অভিনেত্রী সাবিলা নূর কিংবা তার স্বামী নেহাল সুনন্দ তাহেরের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা স্পষ্টীকরণ আসেনি।