img

সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত ইমরান হাশমি

প্রকাশিত :  ০৮:১৬, ৩০ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১১:০৫, ৩০ আগষ্ট ২০২৬

সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত ইমরান হাশমি

‘আওয়ারাপন টু’-এর সাফল্যের পর অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলিউড অভিনেতা ইমরান হাশমি। সিনেমাটি বক্স অফিসে ভালো সাড়া ফেললেও এরই মধ্যে ভাইরাসজনিত সোয়াইন ফ্লুতে আক্রান্ত হয়েছেন তিনি। অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী আপাতত বিশ্রামে আছেন এই অভিনেতা।

হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনযায়ী, কয়েক দিন ধরে অসুস্থ থাকার পর মুম্বাইয়ে তার পরীক্ষা করা হলে চিকিৎসকরা এই ভাইরাসের উপস্থিতি নিশ্চিত করেন। আপাতত তাকে চিকিৎসকের পরামর্শে সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে বলা হয়েছে।

সম্প্রতি কাজের সূত্রে ভারতের রাঁচিসহ একাধিক শহর ভ্রমণ শেষে মুম্বাই ফেরেন ইমরান। এর পরপরই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ভারতের ব্যাঙ্গালুরুতে অনুষ্ঠিত সিনেমাটির একটি বিশেষ প্রদর্শনীতে উপস্থিত থাকতে পারেননি এই অভিনেতা। এ ঘটনার জন্য নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দুঃখপ্রকাশ করে ভক্তদের কাছে ক্ষমাও চেয়েছেন তিনি।

ইমরানে হাশমির মেডিকেল রিপোর্ট।

শারীরিক অসুস্থতার খবর এলেও বক্স অফিসে ‘আওয়ারাপন টু’ সিনেমার অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। স্বাধীনতা দিবসে মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্রটি ইতোমধ্যে ভারতের বাজারে ৪০ কোটি ৫০ লাখ রুপি আয় করেছে। মুক্তির প্রথম দিনেই সিনেমাটি ২০০৭ সালে মুক্তি পাওয়া মূল ‘আওয়ারাপন’ সিনেমার মোট আয়কে ছাড়িয়ে যায়। এছাড়া প্রথম শনিবারের মধ্যেই এটি ইমরান হাশমির পূর্ববর্তী হিট সিনেমা ‘হক’, ‘রাজ টু’, ‘এক থি ডাইন’ ও ‘জন্নাত’-এর মোট ব্যবসাকে পেছনে ফেলে দিয়েছে। বক্স অফিস দৌড়ে এটি সানি দেওলের ‘বাটোয়ারা ১৯৪৭’ সিনেমাটির চেয়েও বেশ এগিয়ে রয়েছে।

২০০৭ সালের জনপ্রিয় ক্রাইম-থ্রিলার ‘আওয়ারাপন’-এর সিক্যুয়েল হিসেবে নির্মিত হয়েছে ‘আওয়ারাপন টু’। বিশেশ ফিল্মসের ব্যানারে বিশেশ ভাট প্রযোজিত এবং নিতিন কক্কর পরিচালিত এই ছবিতে ইমরান হাশমির পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিশা পাটানি ও শাবানা আজমি। পুরোনো চেনা রূপে ইমরান হাশমির পর্দায় ফেরা দর্শক ও ভক্তদের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছে।






বিনোদন এর আরও খবর

img

ছড়িয়ে পড়া আপত্তিকর ভিডিও নিয়ে যা বললেন মেহজাবীন

প্রকাশিত :  ০৬:০১, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) ব্যবহার করে মিথ্যা কনটেন্ট তৈরি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের অসম্মানকে উপার্জনের মাধ্যম বানানোর সংস্কৃতি নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে এ বিষয়ে দীর্ঘ প্রতিক্রিয়া জানান তিনি। মেহজাবীন স্পষ্ট জানান, কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে অপপ্রচার চালানো কোনো বিনোদন হতে পারে না, এটি একটি গুরুতর অপরাধ।

ফেসবুক পোস্টে অভিনেত্রী লেখেন, ‘এআই ব্যবহার করে কারও নামে মিথ্যা ও বানোয়াট কনটেন্ট তৈরি করা এবং কাউকে হেয় করার উদ্দেশ্যে তা ছড়িয়ে দেওয়া কোনো বিনোদন নয়। এটি একটি অপরাধ।’

তবে কেবল অপরাধীর ভূমিকা নিয়েই নয়, সামাজিকমাধ্যম ব্যবহারকারীদের সার্বিক আচরণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তিনি। তার মতে, যখন এই ধরনের ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট হাজার হাজার মানুষ শেয়ার করে, তখন তা আর একজন নির্দিষ্ট অপরাধীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং তা সমাজ হিসেবে আমাদের নৈতিক পতনের চিত্র ফুটিয়ে তোলে।

প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ঐতিহাসিকভাবে প্রচলিত এক ধারণার সমালোচনা করে মেহজাবীন বলেন, কাউকে মানুষ হিসেবে সম্মান জানাতে হলে তাকে নিজের মা বা বোনের জায়গায় বসিয়ে ভাবতে হবে কেন? যেকোনো মানুষকে স্বাধীন ও স্বতন্ত্র সত্তা হিসেবে সম্মান দেওয়াটাই স্বাভাবিক মানবিক আচরণ হওয়া উচিত।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির বাস্তবতাকে স্বীকার করলেও এর পেছনের ক্ষতিকর মানসিকতার ওপর আলো ফেলেন অভিনেত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সময়ে কনটেন্ট তৈরি অনেকেরই জীবিকা নির্বাহের উপায়। তবে কয়েক ডলার আয়, কিছু ভিউ, লাইক কিংবা ট্রেন্ডিংয়ে থাকার লোভে অন্য একজন মানুষের অপমান ও অসম্মানকে উপার্জনের মাধ্যম বানিয়ে ফেলা একেবারেই সমর্থনযোগ্য নয়।

এই প্রবণতা এখন কেবল নারী বা পুরুষের নির্দিষ্ট সীমানায় আটকে নেই উল্লেখ করে মেহজাবীন জানান, ভিউ ও এনগেজমেন্টের ইঁদুরদৌড় লিঙ্গের সীমারেখা ছাড়িয়ে গেছে। এখন যে কেউই এই ক্ষতিকর সংস্কৃতির শিকার হতে পারেন, আবার যে কেউই না জেনে এর অংশ হয়ে উঠতে পারেন।

ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দায়িত্বশীল আচরণের আহ্বান জানিয়ে পোস্টের শেষ দিকে অভিনেত্রী প্রশ্ন তোলেন, যারা জেনেশুনে এসব কনটেন্ট শেয়ার করে অন্যের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন, তারা মূলত অপরাধীর অপকর্মেই সহায়তা করছেন। একজন অপরাধীর চক্রে অংশ নিয়ে নিজের বিবেকহীনতার পরিচয় মানুষ দেবে কি না, তা সবাইকে ভেবে দেখার আহ্বান জানান তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হওয়ার প্রতিযোগিতায় ব্যক্তিগত সম্মান, পারিবারিক মর্যাদা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা যেন হারিয়ে না যায়, মেহজাবীনের এই ফেসবুক বার্তায় মূলত সেই বার্তাই উঠে এসেছে।