img

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা

প্রকাশিত :  ০৭:৪৯, ১৩ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:৫২, ১৩ আগষ্ট ২০২৬

আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন অভিনেত্রী তানজিন তিশা

শাড়ি নিয়ে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে করা মামলায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন অভিনেত্রী তানজিন নাহার তিশা।

মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতে আত্মসমর্পণের পর শুনানি শেষে তাঁকে জামিন দেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) আইনজীবীর মাধ্যমে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে আদালত তার মঞ্জুর করেন। 

এর আগে গত ১২ জুলাই তার বিরুদ্ধে সমন জারি করে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন একই আদালত। 

আসামি পক্ষের আইনজীবী নিহার হোসেন ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, ২০২৫ সালের নভেম্বরে মামলাটি করা হয়। পরে আদালতের নির্দেশে ডিবি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করে। সম্প্রতি ডিবির জমা দেওয়া এই প্রতিবেদন আদালত আমলে নিয়ে সমন জারি করে তানজিন তিশাকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দেন।

গত বছরের ৫ নভেম্বর একই আদালতে অ্যাপোনিয়ার ফ্যাশনের এক্সিকিউটিভ মো. আমিনুল ইসলাম মামলা করেন।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, তানজিন তিশা বাংলাদেশের পরিচিত মডেল, অভিনেত্রী ও টিভি উপস্থাপিকা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে মিডিয়া ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে জড়িত। এর সুবাদে আসামি অ্যাপোনিয়ার অনলাইন পেজে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন প্রকার শাড়ি পর্যবেক্ষণ করে একটি শাড়ি পছন্দ করে নেন। যার বাজার মূল্য ২৮ হাজার ৮০০ টাকা। শাড়িটি তানজিন তিশার বাসায় পৌঁছে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তানজিন তিশা নানা ধরনের ভয়েস ম্যাসেজ এবং ম্যাসেজ দিয়ে শাড়িটি পরিধান করে অ্যাপোনিয়া পেজ প্রমোশনের জন্য নানাভাবে আশ্বস্ত করেন।

মামলায় আরও বলা হয়, তানজিন তিশাকে পেজ কর্তৃপক্ষ বিভিন্নভাবে শাড়িটি পরিধান করে পেজ প্রমোশনের জন্য নানা উপায়ে অনুরোধ করেন। তিনি গত ১৮ জানুয়ারি শাড়িটি গ্রহণ করেন। তবে দীর্ঘ ১০ মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও শাড়িটি পরিধান না করে, পেজ প্রমোশন না করে পেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গত ৬ মাসের অধিক সময় কোনো যোগাযোগ রক্ষা করেননি এবং ইচ্ছাকৃতভাবে পেজ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো ধরনের কথোপকথন থেকে বিরত রয়েছেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।

বাদীর অভিযোগ, তানজিন তিশা প্রতারণা করে বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন। মামলাটি আমলে গ্রহণ করে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করা হয়। পরে আদালত অভিযোগের বিষয়ে ডিবি পুলিশকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

বিনোদন এর আরও খবর

img

কুরুচিকর মন্তব্য: স্ক্রিনশট ফাঁস করে জবাব দিলেন বাঁধন

প্রকাশিত :  ০৯:২৩, ১৩ আগষ্ট ২০২৬

অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন কুরুচিকর পোস্টের পাশাপাশি নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর প্রকাশ করে হয়রানির অভিযোগ করেছেন। ‘মারুফ খান মুন্না’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে তাকে উদ্দেশ্য করে এসব করা হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর। ঘটনার স্ক্রিনশট প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর জবাব দিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

বাঁধন ঘটনাটিকে গুরুতর হয়রানি উল্লেখ করে বলেন, কারও অনুমতি ছাড়া তার ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া শুধু হয়রানি নয়, শাস্তিযোগ্য অপরাধও। ভয় দেখিয়ে তাঁকে চুপ করানো সম্ভব নয় বলেও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

বুধবার রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে কয়েকটি স্ক্রিনশট প্রকাশ করেন বাঁধন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘যখন কোনো দল বলে, তারা সরকারে থাকলে নারীরা নিরাপদ থাকবে, অথচ একই সময়ে তাদেরই সমর্থকেরা অনলাইনে নারীদের ওপর এভাবে হামলে পড়ে, হয়রানি করে, এমনকি এখন এই ফেসবুক আইডি থেকে আমার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে—তখন এর চেয়ে বড় পরিহাস আর কী হতে পারে!’

ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর প্রকাশের বিষয়ে বাঁধন আরও লেখেন, ‘কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর তার অনুমতি ছাড়া প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়া শুধু হয়রানি নয়, এটি একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’

এ ধরনের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তাকে ভয় দেখানো বা আতঙ্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘আমাকে এত সহজে ভয় দেখিয়ে বা আতঙ্কিত করে ফেলা সম্ভব নয়। আমাকে সেখানে নিয়ে যেতে হলে তোমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে।’

পোস্টের শেষ অংশে নিজের মানসিক সুস্থতা নিয়েও কথা বলেন বাঁধন। তিনি জানান, নিজেকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখার জন্য তিনি থেরাপি নিয়েছেন এবং এখনো নিচ্ছেন। প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধও নিয়েছেন বলে জানান তিনি।

বাঁধনের ভাষায়, ‘আমি প্রায় হাসিনা হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু থেরাপি নিয়েছি, এখনো নিচ্ছি, প্রয়োজনীয় ওষুধও নিয়েছি—নিজেকে মানুষ হিসেবে ধরে রাখার জন্য, ক্ষমতা বা প্রতিহিংসা আমাকে যেন দানবে পরিণত না করে।’

এরপরই নিজের স্বভাবসুলভ দৃঢ়তায় তিনি লেখেন, ‘তাই আমাকে ভয় দেখিয়ে খুব একটা লাভ হবে না। আর হ্যাঁ, আমি ডাইনি। মনে রেখো।’

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাঁধনের অনুসারীদের মধ্যেও প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ ও অনলাইন হয়রানির বিরুদ্ধে অভিনেত্রীর অবস্থানকে সমর্থন জানিয়েছেন অনেকে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ফেসবুক আইডির ব্যক্তির কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।