img

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আটক অভিনেত্রী আয়েশা খান

প্রকাশিত :  ১৩:৩৭, ২৩ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৪২, ২৩ জুলাই ২০২৬

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আটক অভিনেত্রী আয়েশা খান

ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে চলমান শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে মুম্বাইয়ের দাদার এলাকায় পুলিশের হাতে আটক হন অভিনেত্রী আয়েশা খান। পরে তাকে ওরলি থানায় নেওয়া হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম  এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিজেই আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘এখন আমার হাত সত্যিই কাঁপছে। আমি শুধু শান্তভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ আমাকে পুলিশের ভ্যানে তুলে আটক করা হয়েছে।’

আয়শার দাবি, তিনি বিক্ষোভ শুরু করেননি। এর আগেই তার ভাই এবং কয়েকজন পুরুষ বন্ধুকে পুলিশ আটক করে। সেসময়ে তিনি শুধু রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। 

আয়শার শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, আর এক যুবক বলছেন, তার গণিতের পরীক্ষা রয়েছে। কোনো কারণ ছাড়াই তাকে আটক করা হয়েছে বলে তারও অভিযোগ। 

তিনি বলেন, যদি পরীক্ষা দিতে না পারেন, তা হলে বড় সমস্যায় পড়বেন। আর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আয়েশা পুলিশকর্মীদের জিজ্ঞেস করছেন, তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে সেই প্রশ্নের কোনও উত্তর তিনি পাননি। চার জন মহিলা পুলিশকর্মী জোর করে আয়শাকে ভ্যানে তুলছেন, এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। 

সেই ভিডিওর সঙ্গে তিনি লেখেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাকে ভ্যানে তুলতে চার জন মহিলা পুলিশকর্মী এসেছিলেন। কিন্তু আমি আবার একই প্রশ্ন করছি, কেন? আমি কি কোনও হইচই করেছি? আমি কি কোনও কথাবার্তা শুরু করেছিলাম? আমাকে কেন আটক করা হলো? শুধু রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকার জন্য? আমি তো পাঁচ জনের দলের মধ্যেও ছিলাম না।

আয়শা পুরো ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে যান। তাকে ওরলি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেই ভিডিওতে তিনি পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন। আয়শা জানান, তিনি তার ভাই এবং কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে নিট পরীক্ষার্থীদের সমর্থনে দাদারে বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছাতেই পুলিশ জানায়, ওই জায়গায় বিক্ষোভ করা যাবে না। এরপর তার ভাই এবং অন্য পুরুষ বন্ধুদের পুলিশের ভ্যানে তুলে আটক করা হয়।

আয়শার দাবি, তিনি তখন শুধু রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাবছিলেন, কী করবেন এবং কীভাবে তার ভাইয়ের খোঁজ পাবেন। সেই সময়ে প্রায় ১৫ জন পুলিশকর্মী এসে তাদের ভ্যানে উঠতে বলেন। তার অভিযোগ, জোর করে তাদের ভ্যানে তুলে ওরলি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে ভিডিওতে আয়শা ওরলি থানার পুলিশকর্মীদের প্রশংসাও করেন। প্রত্যেকে খুবই ভাল ব্যবহার করেছেন বলে জানান। যদিও তাঁকে কেন আটক করা হলো, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো তাঁর কাছে স্পষ্ট নয় বলেও দাবি করেন তিনি।


img

দেশের তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে আমি গর্বিত: টুইঙ্কেল খান্না

প্রকাশিত :  ১৩:১৩, ২৩ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৪৯, ২৩ জুলাই ২০২৬

নিট পরীক্ষা ঘিরে চলমান বিতর্ক এবং দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন বলিউড অভিনেত্রী টুইঙ্কেল খান্না। দিল্লিতে ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচিতে পুলিশের লাঠিচার্জের ঘটনার দুই দিন পর আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন তিনি।

নিজের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে দিল্লি ও মুম্বাইয়ে চলা বিক্ষোভের একাধিক ছবি পোস্ট করেন টুইঙ্কেল। তার শেয়ার করা প্রথম ছবিটি ছিল ২৭ বছর বয়সি মডেল রিয়া আহিরের, যিনি শিবাজী পার্কে বিক্ষোভ চলাকালে আটককৃত আন্দোলনকারীদের বহনকারী পুলিশের একটি প্রিজন ভ্যান আটকে প্রতিবাদ জানান। 

অনিয়মের অভিযোগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত ওই বিক্ষোভের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন রিয়া। আরেকটি ছবিতে দিল্লি পুলিশের লাঠিচার্জ থেকে সহ-বিক্ষোভকারীদের রক্ষা করতে এক নারীকে ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। 

ছবিগুলোর ক্যাপশনে টুইঙ্কেল খান্না লেখেন, আমি এমন একটি দেশের নাগরিক হিসেবে গর্বিত, যেখানে আমাদের তরুণ প্রজন্মের এখনও প্রতিবাদ জানানোর, প্রতিরোধ গড়ে তোলার এবং টিয়ার গ্যাস ও লাঠির আঘাত সহ্য করার সাহস রয়েছে। তবে দুঃখের বিষয় এটাই যে, তাদের বাধ্য হয়ে এসবের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনের সমর্থনে বলিউডের আরও একাধিক তারকা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব এগিয়ে এসেছেন। অভিনেত্রী শাবানা আজমি এবং অভিনেতা প্রকাশ রাজ যন্তর মন্তরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ‘চলো সংসদ’ মিছিলে সরাসরি অংশ নেন। এছাড়া সালমান খান, আলিয়া ভাট, সোনাক্ষী সিনহা, ইমরান খান এবং রাজকুমার রাওর মতো তারকারাও সামাজিক মাধ্যমে আন্দোলনের প্রতি তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেছেন। 

উল্লেখ্য, পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা ও প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন শহরের শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবক ও আমজনতা দিল্লিতে যন্তর মন্তরে জড়ো হয়েছেন। আন্দোলনটির নেতৃত্ব দিচ্ছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)। 

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কর্তৃক বেকার তরুণ আন্দোলনকারীদের উদ্দেশ্যে তথাকথিত ‘ককরোচ’ শব্দ ব্যবহারের পর, শিক্ষার্থীরা সেই নামটিকেই তাদের প্রতিবাদের প্রতীক হিসেবে গ্রহণ করে এই ব্যঙ্গাত্মক সংগঠনটি গড়ে তোলে। 

বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে— কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, মানসিক চাপে আত্মহত্যাকারী শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের মুক্তি। গত ২০ জুলাই দিল্লিতে অনুষ্ঠিত ‘চলো সংসদ’ মিছিলের মাধ্যমে এই আন্দোলন তীব্র আকার ধারণ করে। 

শান্তিপূর্ণভাবে শুরু হলেও একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের একাংশের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ বাঁধে এবং পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও লাঠিচার্জ প্রয়োগ করে। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পরীক্ষা পদ্ধতির কার্যকর সংস্কার, বিচার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা তাদের আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন। 

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।