img

ইরানে হামলার ভিডিওতে নিজের গানে ক্ষুব্ধ কেটি পেরি, বললেন—‘আমি এর অনুমতি দিইনি’

প্রকাশিত :  ০৮:১১, ২৭ জুলাই ২০২৬

ইরানে হামলার ভিডিওতে নিজের গানে ক্ষুব্ধ কেটি পেরি, বললেন—‘আমি এর অনুমতি দিইনি’

ইরানের ওপর সামরিক হামলার দৃশ্য সংবলিত একটি ভিডিওতে অনুমতি ছাড়া নিজের জনপ্রিয় গান ‘ফায়ারওয়ার্ক’ ব্যবহার করায় ট্রাম্প প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন পপ তারকা কেটি পেরি। অনুমতি ছাড়াই গানটি ব্যবহারের ঘটনায় তিনি প্রকাশ্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে পেরি লিখেন, ‘আমি ভীষণ ক্ষুব্ধ ও মর্মাহত... আমি এর অনুমতি দিইনি, আমার কাছে জানতেও চাওয়া হয়নি এবং আমি কোনোভাবেই এটিকে সমর্থন করি না।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘আত্মমর্যাদা ও অনুপ্রেরণার একটি বার্তাকে ধ্বংস ও সহিংসতার কাজে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে দেখাটা আমার গানের মূল চেতনার সম্পূর্ণ পরিপন্থি।’

হোয়াইট হাউসের টিকটক অ্যাকাউন্টে পোস্ট করা ভিডিওটিতে সামরিক হামলার দৃশ্যের নেপথ্যে পেরির ওই গানটি বাজানো হয়। সঙ্গে ক্যাপশনে লেখা ছিল, ‘ইরানকে সতর্ক করা হলো’। 

উল্লেখ্য, বিলবোর্ড হট ১০০-এর তালিকায় শীর্ষে থাকা গায়িকার ৯টি গানের মধ্যে এটি অন্যতম।

২০২৩ সালে কার্লাইল গ্রুপ ইনকরপোরেটেড-সমর্থিত লিটমাস মিউজিকে নিজের সবচেয়ে সফল পাঁচটি অ্যালবামের মাস্টার রেকর্ডিং ও প্রকাশনাস্বত্ব বিক্রি করে দেন পেরি। এর মধ্যে ‘টিনেজ ড্রিম’ অ্যালবামটিও ছিল, যার অন্যতম একটি গান হলো ‘ফায়ারওয়ার্ক’। বিলবোর্ডের তৎকালীন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চুক্তির অর্থমূল্য ছিল ২২ কোটি ৫০ লাখ ডলার।

এই মার্কিন তারকা সবসময়ই ডেমোক্রেটিক দলের প্রতি নিজের সমর্থনের কথা খোলাখুলি প্রকাশ করে এসেছেন। ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হিলারি ক্লিনটন, ২০২০ সালে জো বাইডেন এবং ২০২৪ সালে কমলা হ্যারিসকে সমর্থন দিয়েছিলেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবনে বর্তমানে তিনি কানাডার সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর সঙ্গে প্রেম করছেন বলে জানা গেছে।

বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে অনুমতি ছাড়াই নিজেদের শিল্পকর্ম বা সংগীত ব্যবহার করার অভিযোগে ট্রাম্প প্রশাসনের সমালোচনা করা শিল্পীদের দীর্ঘ তালিকায় সর্বশেষ যুক্ত হলেন কেটি পেরি। নিজেদের আদর্শের সঙ্গে মেলে না, এমন কাজে অনুমতি ছাড়া গান বা শিল্পকর্ম ব্যবহারের প্রতিবাদ এর আগে করেছিলেন অলিভিয়া রদ্রিগো, সাবরিনা কারপেন্টার এবং জনপ্রিয় শিশুতোষ বইয়ের সিরিজ ‘ফ্র্যাঙ্কলিন দ্য টার্টল’-এর প্রকাশক কিডস ক্যান প্রেস।

এর বাইরেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশে নিজেদের গান বাজানোর তীব্র প্রতিবাদ করেছিলেন ব্রুস স্প্রিংস্টিন, নিল ইয়াং, অ্যাডেল এবং রিহানার মতো বিশ্বখ্যাত শিল্পীরা।

সূত্র: এনডিটিভি


img

শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অংশ নিয়ে আটক অভিনেত্রী আয়েশা খান

প্রকাশিত :  ১৩:৩৭, ২৩ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৪২, ২৩ জুলাই ২০২৬

ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে চলমান শিক্ষার্থী বিক্ষোভে অংশ নিতে গিয়ে মুম্বাইয়ের দাদার এলাকায় পুলিশের হাতে আটক হন অভিনেত্রী আয়েশা খান। পরে তাকে ওরলি থানায় নেওয়া হয় এবং জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম  এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিজেই আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘এখন আমার হাত সত্যিই কাঁপছে। আমি শুধু শান্তভাবে রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলাম। হঠাৎ আমাকে পুলিশের ভ্যানে তুলে আটক করা হয়েছে।’

আয়শার দাবি, তিনি বিক্ষোভ শুরু করেননি। এর আগেই তার ভাই এবং কয়েকজন পুরুষ বন্ধুকে পুলিশ আটক করে। সেসময়ে তিনি শুধু রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। 

আয়শার শেয়ার করা ভিডিওতে দেখা যায়, আর এক যুবক বলছেন, তার গণিতের পরীক্ষা রয়েছে। কোনো কারণ ছাড়াই তাকে আটক করা হয়েছে বলে তারও অভিযোগ। 

তিনি বলেন, যদি পরীক্ষা দিতে না পারেন, তা হলে বড় সমস্যায় পড়বেন। আর একটি ভিডিওতে দেখা যায়, আয়েশা পুলিশকর্মীদের জিজ্ঞেস করছেন, তাদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে সেই প্রশ্নের কোনও উত্তর তিনি পাননি। চার জন মহিলা পুলিশকর্মী জোর করে আয়শাকে ভ্যানে তুলছেন, এমন একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। 

সেই ভিডিওর সঙ্গে তিনি লেখেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমাকে ভ্যানে তুলতে চার জন মহিলা পুলিশকর্মী এসেছিলেন। কিন্তু আমি আবার একই প্রশ্ন করছি, কেন? আমি কি কোনও হইচই করেছি? আমি কি কোনও কথাবার্তা শুরু করেছিলাম? আমাকে কেন আটক করা হলো? শুধু রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকার জন্য? আমি তো পাঁচ জনের দলের মধ্যেও ছিলাম না।

আয়শা পুরো ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে যান। তাকে ওরলি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেই ভিডিওতে তিনি পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন। আয়শা জানান, তিনি তার ভাই এবং কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে নিট পরীক্ষার্থীদের সমর্থনে দাদারে বিক্ষোভে যোগ দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু সেখানে পৌঁছাতেই পুলিশ জানায়, ওই জায়গায় বিক্ষোভ করা যাবে না। এরপর তার ভাই এবং অন্য পুরুষ বন্ধুদের পুলিশের ভ্যানে তুলে আটক করা হয়।

আয়শার দাবি, তিনি তখন শুধু রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভাবছিলেন, কী করবেন এবং কীভাবে তার ভাইয়ের খোঁজ পাবেন। সেই সময়ে প্রায় ১৫ জন পুলিশকর্মী এসে তাদের ভ্যানে উঠতে বলেন। তার অভিযোগ, জোর করে তাদের ভ্যানে তুলে ওরলি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে ভিডিওতে আয়শা ওরলি থানার পুলিশকর্মীদের প্রশংসাও করেন। প্রত্যেকে খুবই ভাল ব্যবহার করেছেন বলে জানান। যদিও তাঁকে কেন আটক করা হলো, সেই প্রশ্নের উত্তর এখনো তাঁর কাছে স্পষ্ট নয় বলেও দাবি করেন তিনি।